img

অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সাইন্স কলেজ শিক্ষার্থীদের আবারও সড়ক অবরোধ

প্রকাশিত :  ০৬:৫৮, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সাইন্স কলেজ শিক্ষার্থীদের আবারও সড়ক অবরোধ

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। রাতভর বিক্ষোভের পর আজ সকালেও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন তারা।

আজ শুক্রবার সকাল ১০ টা নাগাদ কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে নানা স্লোগান দেন। পাশাপাশি নারীদের ক্যাম্পাসে পুলিশের প্রবেশ ও লাঠিচার্জের প্রতিবাদ জানান। 

কলেজ শিক্ষার্থী দীপ্তি সমকালকে জানান, এখনও পর্যন্ত তাদের সাথে কলেজ প্রশাসন কোনো ধরণের আলোচনা করেনি। গতকাল যারা আহত হয়েছিলেন তারা এসে আবার আমাদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। পুলিশ কোনো শিক্ষার্থীকে আটক করতে পারেনি বলেও তিনি জানান। 

দীপ্তি আরও জানান, পূর্বের দাবিগুলো নিয়েই আমরা আন্দোলন করছি তবে পরীক্ষা বন্ধের দাবি জানালেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ আমরাই করে দিয়েছি।

গতকাল রাত ২ টা ১০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা এবং রাতের মতো কর্মসূচি শেষ করেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তামান্না ইসলাম জানান, সকাল আটটা থেকে আবার কর্মসূচি পালন করবে। শুক্রবারের অনুষ্ঠিতব্য চাকরীর পরীক্ষার সময় তারা আন্দোলন বন্ধ রাখবেন এবং পরীক্ষা শেষে আবার তা শুরু করবেন।সংবাদ বিশ্লেষণ টুল

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অধ্যক্ষকে প্রায় ১১ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ এসে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এসময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

অধ্যক্ষকে নিয়ে যাওয়ার পর রাত সাড়ে ১২টার পরেও শতাধিক শিক্ষার্থীদের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবি করছেন শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী সমকালকে বলেন, আমরা যৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলন করছিলাম। কিন্তু শিক্ষকরা পুলিশ নিয়ে এসে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করিয়েছে। আমাদের দুজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। একজন গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আছে।

তাদের ৪ দাবির মধ্যে রয়েছে— ক্যাম্পাসে সরকারি কোনো পরীক্ষা হবে না, শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করা পুলিশ সদস্যদের শোকজ করা, অধ্যক্ষ পদত্যাগের লিখিত পত্র না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সকল কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, যেসকল শিক্ষক ও কর্মচারী এই হামলাকে বৈধতা দিয়েছে তাদেরকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা।সরকারি সেবা

বিরোধের সূত্রপাত মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। পূজার ছুটির আগে কলেজের তিনটি আবাসিক হলের পাঁচ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়ামে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। রাত ১০টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে রাত ১২টা করা হয়। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষ হয় ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের পর অনুষ্ঠান চলায় সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর হলের আসন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ। পরে ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে এক রাতের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করা হয়। এই দাবিকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ শুরু করেন।

শিক্ষা এর আরও খবর

img

এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শুরু: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৫:৪৭, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরীক্ষা আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এ পরীক্ষা চলবে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এর ফল প্রকাশ করা হবে ২৩ ডিসেম্বর।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর মাতুয়াইলে শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এইচএসসিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী ২ ও ৩ ডিসেম্বর পরীক্ষা নেওয়া হবে। ২৩ ডিসেম্বর এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত দুই দশকের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন পাসের হার। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।

এ বছর ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন, পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের মধ্যে পাস করেছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন। তাঁদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। সে হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩।

এ বছর ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২। অর্থাৎ এবার শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি।

গত ২ জুলাই শুরু হয়ে এবারের এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার সময় নির্ধারিত ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

শিক্ষা এর আরও খবর