img

জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ কমে গেছে

প্রকাশিত :  ১৫:৫০, ১৩ আগষ্ট ২০২২

জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ কমে গেছে

জনগণ তাদের চাওয়া-পাওয়া সরকারের কাছে তুলে ধরার উপযুক্ত মাধ্যম খুঁজে পাচ্ছে না। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিদের কাছে জনগণ তাদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে পারলেও নির্বাচনের পর সে সুযোগ কমে গেছে। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির প্রক্রিয়ায়ও জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা থাকে না। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত নাগরিক সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে সিপিডি পরিচালিত ‘জাতীয় উন্নয়নে অঙ্গীকার: শিক্ষা, শোভন কর্মসংস্থান, জেন্ডার সমতা’ শীর্ষক প্রকল্পের ফলাফল তুলে ধরা হয়। এই প্রকল্পে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২০১৮ সালে করা নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা, শোভন কর্মসংস্থান ও লিঙ্গসমতাসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। ওই ইশতেহার নিয়ে জনগণের মনোভাব জানতে ১৫টি জেলায় ৯০টি উঠান বৈঠকের আয়োজন করেছিল সিপিডি। এসব বৈঠকে ৯১৮ জন অংশ নেন। এ ছাড়া রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ওই সব সম্মেলনে মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নাগরিক সম্মেলনে সিপিডি জানায়, বেশিরভাগ মানুষ বলেছেন, তারা নিজেদের চাহিদা বা দাবি সরাসরি বা লিখিত আকারে প্রার্থীদের জানাতে পারেননি। তবে কেউ কেউ সরাসরি সংসদ সদস্যদের কাছে স্থানীয় সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পেরেছেন।

পাশাপাশি মানুষ শিক্ষা খাতকে দুর্নীতি ও রাজনীতিমুক্ত, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও জনগণকে উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করতে ঋণসংক্রান্ত জটিলতা দূরীকরণ, নারী-পুরুষের মজুরিবৈষম্য দূর করে নারীদের কাজের সুযোগ বাড়াতে শহর ও গ্রামে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান তার এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, তৃণমূলের মানুষের চাহিদার সঙ্গে সংলাপে উঠে আসা মতামতের মিল খুঁজে পাননি তিনি। জনপ্রতিনিধিরা দলের নির্বাচনী ইশতেহারের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে একধরনের মৌখিক অঙ্গীকার করেন। জনগণ সবচেয়ে বেশি চান সামাজিক ভাতা কার্ড, খাবার পানির ব্যবস্থা, স্যানিটেশন, এলাকায় রাস্তা, কালভার্ট ও একটি ভালো কাজ পাওয়ার সুযোগ। আগে বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও এখন সেটি নেই। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ব্যয় সংকোচনের কথা বলা হচ্ছে না। যথাযথ ব্যয় করতে বলা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে যে ঢেউ উঠেছে, তাতে আমাদের তরিও কাঁপছে। এতে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহার যদি কথার কথা হয়, তাহলে সেটি করা, না করা একই। দেখা গেছে নির্বাচনের তিন দিন আগেও ইশতেহার করা হচ্ছে। অথচ ইশতেহার নির্বাচনের আগে আলোচনার মাধ্যমে এক বছর ধরে তৈরি হওয়া উচিত। ওই সব প্রক্রিয়া এ দেশে নেই। কারণ, এখানে নির্বাচনী ইশতেহার কথার কথা। সত্যিকারের নির্বাচন হলে ইশতেহারের গুরুত্ব থাকত। দলের গঠনতন্ত্রও কথার কথা। অথচ দলই দেশ চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এখন নির্বাচনের আগেও যোগাযোগ হয় না, পরেও হয় না। এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনসংযোগের প্রয়োজন হয় না। নতুন সংস্কৃতি চালু হয়েছে, সংসদ সদস্যরা মুখের চেয়ে হাত-পা বেশি চালান। বিশেষ করে শিক্ষকদের ওপর।

সম্মেলনে খুশী কবির বলেন, সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে, জনপ্রতিনিধিরা তাদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। সবকিছু সহ্য করার মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ইশতেহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের প্রতি তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের একটি ধারণা দেয়। ইশতেহার আইনগত দলিল না হলেও এর গুরুত্ব রয়েছে। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সিপিডির এ তথ্যগুলো নির্দেশনামূলক হতে পারে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ইশতেহার বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধিদের হয়তো সদিচ্ছা আছে। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতা বা দুর্বলতায় জনগণ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

লিঙ্গসমতাবিষয়ক প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. আবদুল আজিজ বলেন, কাজের যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টি করলে নারীরা সমানভাবে অংশ নিতে পারে। অনেক মা-বাবার অসচেতনতায় মেয়েরা বাল্যবিবাহের শিকার হয় এবং স্কুল থেকে ঝরে পড়ে। আরেক সংসদ সদস্য আরমা দত্ত বলেন, লিঙ্গসমতা অর্জনের ক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা একটি বড় বাধা।

জাতীয় এর আরও খবর

img

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত :  ০৬:২৯, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে জাতিসংঘের কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার, নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সংস্কার এবং বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

চলতি অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।

নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সদস্যগোষ্ঠী এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিষদে কোনো স্থায়ী আসন নেই।

আফ্রিকাকে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের দাবি কোনো করুণা নয়, বরং এটি ন্যায়বিচার ও জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন।

নিরাপত্তা পরিষদকে আরও স্বচ্ছ, প্রতিনিধিত্বশীল এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি। এ ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রতিও সমর্থন জানান তিনি।

বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনে তিনটি কৌশলের কথা তুলে ধরেন খলিলুর রহমান। এর মধ্যে রয়েছে নিজেদের ব্যর্থতা সম্পর্কে স্পষ্টবাদী ও বাস্তববাদী হওয়া, সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সুশীল সমাজ ও বিজ্ঞানীদের আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা।

বিশ্বব্যাপী বৈষম্য ও সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি যখন থমকে আছে, তখন ওইসিডি দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা এক বছরে ২৩ শতাংশ কমে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বিপরীতে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

গাজা, সুদান, ইউক্রেন, মিয়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতি কখনোই নির্বাচনী বা পক্ষপাতমূলকভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয়।

এ সময় বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির এবং হাইতিতে জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমের ইতিবাচক ভূমিকার উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি। জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও সামরিক খাতের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এআইয়ের অপব্যবহার মানব সভ্যতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এআইভিত্তিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে দ্রুত প্রমাণভিত্তিক বৈশ্বিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো বা ‘গার্ডরেল’ তৈরির আহ্বান জানান খলিলুর রহমান।

জাতীয় এর আরও খবর