img

২০২৬ সালের এসএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও মানবণ্টন প্রকাশ

প্রকাশিত :  ১৪:০৫, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:২৮, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪

২০২৬ সালের এসএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও মানবণ্টন প্রকাশ

নবম-দশম শ্রেণিতে বিভাগ বিভাজন ফিরিয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার পুনর্বিন্যাসকৃত সংক্ষিপ্ত সিলেবাস, প্রশ্নের ধরন ও মানবণ্টন প্রকাশ করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) বোর্ডের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের মোট ৩২টি বিষয়ের সিলেবাস প্রকাশ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার মানবণ্টনে ব্যবহারিক না থাকা বিষয়গুলোতে ৭০ নম্বর রচনামূলক আর বহুনির্বাচনি অংশে থাকবে ৩০ নম্বর।

ব্যবহারিকসহ বিষয়গুলোতে তত্ত্বীয় অংশে ৭৫ ও ব্যবহারিক অংশে ২৫ নম্বর থাকবে। তত্ত্বীয় অংশে ৪০ নম্বর ও বহুনির্বাচনি অংশে ২৫ নম্বর থাকবে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রণীত ‘নতুন শিক্ষাক্রম বা জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা-২০২১’ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় তখন এক পরিপত্রে বলেছিল- বিদ্যমান শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নযোগ্য নয়। তাই ২০২৫ সালে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত করে ২০২৬ সাল থেকে তা পরিপূর্ণরূপে কার্যকর করা হবে। তার আগে ২০২৫ সালে শিক্ষার্থীদের জন্য অনেকটা আগের শিক্ষাক্রমের ধাঁচের পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে।

‘২০২৫ সালে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা (পরীক্ষা ২০২৬ সালে) নিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা অব্যাহত রেখে পূর্বের জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুযায়ী প্রণীত সংশোধিত ও পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তকগুলো (২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ব্যবহৃত পুস্তক) শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষাভিত্তিক এই পাঠ্যপুস্তকগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা এক শিক্ষাবর্ষের মধ্যেই পাঠ্যসূচিটি সম্পন্ন করতে পারে। পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতি জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে পরিচালিত হবে।’

বিভাগ-বিভাজন ফিরিয়ে এনে ২০১২ সালের পাঠ্যসূচির বইগুলোই ২০২৫ সালে বিতরণের জন্য পরিমার্জন করে ছাপানোর কাজ চলছে। আগামী বছরের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী যারা ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বসবে, তারা এসব বই পাবে।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার পুনর্বিন্যাসকৃত সংক্ষিপ্ত সিলেবাস, প্রশ্নের ধরণ ও মানবণ্টন দেখতে এখানে ক্লিক করুন


শিক্ষা এর আরও খবর

img

ঢাবিতে ৭ শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় প্রক্টর অফিস ঘেরাও, পাঁচ দফা দাবি

প্রকাশিত :  ১০:২৯, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে গাড়িচাপায় সাত শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পাঁচ দফা দাবিতে প্রক্টর অফিস ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি শুরু হয়। প্রক্টরকে অফিসে না পাওয়া এবং একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা দায়েরের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করেনি। এ কারণে তারা পুনরায় প্রক্টর অফিসে গিয়ে অবস্থান নেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত হন। গাড়িটির চালক হিসেবে অভিযুক্ত সাদমান সাকিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশনের শিক্ষার্থী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য শহিদুল ইসলামের ছেলে।

আহত শিক্ষার্থীদের সহপাঠী জোনায়েদ অভিযোগ করেন, ঘটনার পর প্রক্টর অভিযুক্তের বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল আমার বিভাগের ছয়জন শিক্ষার্থীর ওপর গাড়ি চাপা দেওয়ার পরও প্রক্টর বলতেছেন, সে ভুলবশত অন্যায় করেছে। আমরা তাৎক্ষণিক বিচারের দাবিতে গেলে প্রক্টর বলেছিলেন, ও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করতাম। কিন্তু পরবর্তীকালে যখন জানতে পারেন, ও এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী, তখনই উনি সুর পাল্টে ফেলেন এবং বলেন, তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জোনায়েদ আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চাইলেও প্রশাসনিক নীতিমালার কথা বলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রক্টর অফিসে আন্দোলনের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর নিয়ে তারা প্রশাসনের সঙ্গে থানায় যান। তবে সেখানে শিক্ষার্থীদের বাইরে রেখে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত মামলা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

জোনায়েদ বলেন, ‘আমরা সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই আজকের এই কর্মসূচি দিয়েছি। কিন্তু দেখেন, এখনো প্রক্টরের কোনো খোঁজ নেই। কল দিলেও রিসিভ করেন না। আমরা শিক্ষার্থীরা বলতে চাই, আপনি যদি আপনার দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, আপনি পদত্যাগ করেন। সর্বশেষ, আমরা কোনো নেগোসিয়েশন চাই না, আমরা চাই সঠিক বিচার।’

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করা; ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও প্রকাশ; সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক বিচার; মামলা দায়ের ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ যানবাহন চলাচলে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে প্রক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টর বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের চিকিৎসার খরচসহ যাবতীয় দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যেই আইনি প্রক্রিয়ায় অপরাধীর বিচার নিশ্চিত হবে।’

প্রক্টরের অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে প্রক্টর অফিসে আসতে পারেননি। তবে বিকেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনায় আহত সাত শিক্ষার্থী হলেন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের মার্কেটিং বিভাগের জাহিদুল ইসলাম হৃদয়, কানিজ ফাতেমা, তাসনিয়া বেগম তাহা, মিফতাহুল, তাসফিয়া তাবাসসুম ও সিদরাতুল মুনতাহা। এ ছাড়া ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়াও আহত হয়েছেন।