img

ঈদের পর শেয়ারবাজার: ২০২৫-এর এপ্রিলে নতুন ভোর, নাকি বিনিয়োগকারীদের স্বপ্নভঙ্গ?

প্রকাশিত :  ০৬:২৭, ২৯ মার্চ ২০২৫

ঈদের পর শেয়ারবাজার: ২০২৫-এর এপ্রিলে নতুন ভোর, নাকি বিনিয়োগকারীদের স্বপ্নভঙ্গ?

ঈদের আনন্দের রেশ ও শেয়ারবাজারের উচ্ছ্বাস

২০২৫ সালের ৩১শে মার্চ কিংবা ১লা এপ্রিল উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। দেশজুড়ে আনন্দ, উৎসব ও খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়বে। তবে ঈদের পরপরই বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি থাকবে শেয়ারবাজারের দিকে। প্রশ্ন একটাই—এই আনন্দ কি শুধু উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি শেয়ারবাজারেও এক নতুন ভোরের বার্তা নিয়ে আসবে?

ঈদের পর বাজার চাঙা হওয়ার প্রবণতা পূর্বেও দেখা গেছে। এর কারণ কী? সাধারণত, ঈদের সময় অর্থনীতিতে অতিরিক্ত নগদ প্রবাহ ঘটে—বোনাস, উপহার, এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের ফলে। পাশাপাশি, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্ব এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বাজারে এক নতুন গতির সৃষ্টি করতে পারে।

তাহলে এবারও কি একই পরিস্থিতি তৈরি হবে? নাকি বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ভেঙে পড়বে? আসুন, বিষয়টি একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা যাক।

১. ঈদের পর শেয়ারবাজার: অতীত আমাদের কী বলে?

গত এক দশকের প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঈদের পর সাধারণত শেয়ারবাজার উত্থানমুখী থাকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঈদের পর প্রথম ৩০ দিনে DSEX সূচক গড়ে ৮-১২% বৃদ্ধি পেয়েছে।

উদাহরণ:

২০২৩ সালের ঈদের পর DSEX সূচক ১০.৫% বৃদ্ধি পেয়েছিল।

২০২৪ সালে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৯.৮%।

এই প্রবৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে:

অতিরিক্ত নগদ প্রবাহ: ঈদের বোনাস, সঞ্চিত অর্থ ও উপহার বিনিয়োগের দিকে ধাবিত হয়।

আশাবাদী মনোভাব: বছরের প্রথম দিকে বিনিয়োগকারীরা নতুন আশায় বাজারে সক্রিয় হন।

কোম্পানির আয় বৃদ্ধি: ঈদের আগে কেনাকাটা বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ে, যা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে।

২০২৫ সালেও কি একই চিত্র দেখা যাবে? সম্ভাবনা উজ্জ্বল, কারণ সরকার বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে।

২. ২০২৫ সালের ঈদের পর কী বিশেষ কিছু ঘটতে পারে?

এপ্রিল মাস শুধু ঈদের জন্য আলোচনায় থাকবে না, বরং আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে:

পদ্মা রেল সংযোগ ও মেট্রোরেলের নতুন লাইন চালু

বৈশ্বিক অর্থনীতির ইতিবাচক প্রবণতা

বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে নতুন চুক্তি (বিশেষ করে ইউরোপের সঙ্গে পোশাক ও ওষুধ খাতে)

ফিনটেক ও ই-কমার্সের উত্থান (ঈদে ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি পাবে)

এসব কারণ শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

৩. ঈদের পর শেয়ারবাজারের সম্ভাব্য নায়ক কারা?

বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছু নির্দিষ্ট খাত ২০২৫ সালের ঈদের পর বাজারের প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে:

✔ ব্যাংকিং খাত: ঈদের পর ঋণ পরিশোধ ও নতুন বিনিয়োগের ফলে ব্যাংকের আয় বাড়তে পারে।

✔ পোশাক ও FMCG খাত: ২০২৪ সালের তুলনায় ঈদের কেনাকাটা ১৫% বেশি হতে পারে, যা এই খাতের শেয়ারের মূল্য বাড়াতে পারে।

✔ ওষুধ শিল্প: স্বাস্থ্য খাতে বাজেট ৬.২% বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে বিনিয়োগকারীরা এই খাতের দিকে ঝুঁকতে পারেন।

✔ অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাত: বৃহৎ প্রকল্পসমূহের সমাপ্তি এবং গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

৪. তবে ঝুঁকির দিকটাও ভুলে গেলে চলবে না!

সবকিছু যদি এত ইতিবাচক হতো, তবে বিনিয়োগ সবসময়ই লাভজনক হতো! বিনিয়োগকারীদের কিছু ঝুঁকির বিষয়ও মাথায় রাখা প্রয়োজন: 

বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার সম্ভাবনা: যুক্তরাষ্ট্র সুদের হার বৃদ্ধি করলে বিদেশি বিনিয়োগ কমতে পারে।

 রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা: ২০২৫ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

 বাজারের অতিমূল্যায়ন: যদি DSEX-এর P/E রেশিও ১৮ অতিক্রম করে, তাহলে বাজারে অতিরিক্ত বিনিয়োগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

৫. বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু কৌশল

যারা শেয়ারবাজারে সক্রিয় থাকতে চান, তাদের জন্য কিছু কার্যকর কৌশল:

✔ বিনিয়োগ বিভাজন করুন: ৫০% সম্ভাবনাময় সেক্টরে, ৩০% নিরাপদ সেক্টরে, এবং ২০% বন্ড বা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করুন।

✔ বাজারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করুন: DSEX যদি ৬,৫০০-এর ওপরে যায়, তাহলে বুঝতে হবে বাজার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে।

✔ দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করুন: ESG মানসম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করুন, কারণ এগুলো দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হতে পারে।

৬. বিশ্লেষকরা কী বলছেন?

ড. আহসান এইচ. মনসুর: \"জিডিপি যদি ৭.২% হয়, তাহলে শেয়ারবাজারে স্বাভাবিকভাবেই বড় উত্থান আসবে।\"

সালমা খান: \"ওষুধ ও গ্রিন এনার্জি খাতে এখনই বিনিয়োগ শুরু করলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।\"

বিনিয়োগ হবে ঈদের আনন্দের মতোই?

২০২৫ সালের এপ্রিল শুধু ঈদের চাঁদের আলো নয়, বিনিয়োগকারীদের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিতে পারে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে চাই সঠিক তথ্য, ধৈর্য, এবং কার্যকর বিনিয়োগ কৌশল।

শেয়ারবাজার এক বিশাল মহাসাগরের মতো—কখনো জোয়ার, কখনো ভাটা। ঈদের পর তোমার বিনিয়োগ যেন দক্ষ নাবিকের হাতে থাকে, যে ঝড় এলে টিকে থাকতে জানে, আর অনুকূল বাতাস এলে গতি বাড়াতে জানে। তথ্যই তোমার কম্পাস—সঠিক সিদ্ধান্ত নাও, এবং বিনিয়োগের আনন্দ উপভোগ করো!

img

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন

প্রকাশিত :  ০৭:২৩, ০৫ জুন ২০২৬

বিদ্যমান মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় অনিশ্চয়তা এবং সুদের হার বাড়ার আশঙ্কার প্রভাবে আজ শুক্রবার (৫ জুন) বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্পট স্বর্ণের মূল্য ০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,৪৫২.২০ ডলারে নেমে এসেছে। এ নিয়ে সপ্তাহজুড়ে মোট পতন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৮ শতাংশ।

এছাড়া আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ০.৬ শতাংশ কমে ৪,৪৭৮.৫০ ডলারে নেমে এসেছে। এবিসি রিফাইনারির গ্লোবাল হেড অব ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস নিকোলাস ফ্র্যাপেল বলেন, ইরান ইস্যুর সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি সুদের হার আরও কঠোর হওয়ার প্রত্যাশাও মূল্যবান ধাতুটির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্বর্ণ সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সুদের হার বেশি থাকলে সুদবিহীন এই ধাতুর আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কমে যায়। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বাজারে ৫১ শতাংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের নন-ফার্ম পেরোলস (NFP) তথ্যের দিকে, যা ফেডের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে রুপার দাম ১.৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৭২.৮৯ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে প্লাটিনামের মূল্য ১.১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ৮৭৮.৬৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৯৮.৪৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে সপ্তাহের শেষে প্রায় সব ধরনের মূল্যবান ধাতুই ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে পুরো সপ্তাহজুড়েই ধাতব বাজারে দরপতনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

দেশে ভরির দাম কত

দেশের স্বর্ণবাজারেও এসেছে স্বস্তির খবর। ঈদের পর বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ২ জুন সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

নতুন নির্ধারিত দামে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি প্রতি দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি প্রতি মূল্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।