img

হজ করতে সৌদি পৌঁছেছেন ৩৬০১৩ বাংলাদেশি, মৃত্যু ৪

প্রকাশিত :  ০৬:০৭, ১০ মে ২০২৫

হজ করতে সৌদি পৌঁছেছেন ৩৬০১৩ বাংলাদেশি, মৃত্যু ৪

পবিত্র হজ পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৩৬ হাজার ১৩ জন সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। শুক্রবার (৫ মে) সকালে হজ পোর্টালে প্রকাশিত পবিত্র হজ ২০২৫ প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৮ মে) দিবাগত রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৮৯টি ফ্লাইটে এ হজযাত্রীরা সৌদি আরবে গেছেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৫ জুন হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইট শুরু হয় ২৯ এপ্রিল। সৌদি আরবে যাওয়ার শেষ ফ্লাইট ৩১ মে।

এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৭ হাজার ১০০ জন হজযাত্রী হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ২০০ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮১ হাজার ৯০০ জন হজ পালন করবেন। এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৭৭ হাজার ৩৭২টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।

হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ১০ জুন। হজযাত্রীদের দেশে ফেরার ফ্লাইট শেষ হবে ১০ জুলাই।

সৌদি আরবে গিয়ে চলতি বছর খলিলুর রহমান (৭০) নামে এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার মদিনার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মারা যান তিনি। খলিলুর রহমানই চলতি বছর হজে গিয়ে প্রথম মারা যাওয়া বাংলাদেশি হজযাত্রী। এরপর ২ মে মো. ফরিদুজ্জামান নামে আরও একজন হজযাত্রী মারা যান।

চলতি বছর হজ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন হলেন রাজবাড়ীর পাংশার মো. খলিলুর রহমান (৭০), অপরজন কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের ফরিদুজ্জামান (৫৭)। আরেকজন নারী হজযাত্রী। আল হামিদা বানু (৫৪) পঞ্চগড় সদরে তার বাড়ি। এছাড়াও মো. শাহজাহান কবীর (৬০),থানা মোহাম্মদপুর, জেলা ঢাকা, হৃদযন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।


img

আজ পবিত্র ‘লাইলাতুল কদর’

প্রকাশিত :  ০৪:২০, ১৬ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:১৯, ১৬ মার্চ ২০২৬

পবিত্র রমজান মাসের আজ ২৬তম রোজা। আজ দিন শেষে সন্ধ্যা নামলেই আরবি হিসাবে ২৭তম রজনী, যা ইসলামের পরিভাষায় ‘লাইলাতুল কদর’ বা ‘শবেকদর’। হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠতম এ রাত।

সোমবার (১৬ মার্চ) যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদার মধ্য দিয়ে সন্ধ্যা থেকে সারা দেশে পবিত্র শবেকদর পালিত হবে। মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত।

প্রতিবছর পবিত্র রমজানের ২৬ তারিখ রাতে শবেকদর পালন করা হয়। এই রাত ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটান। এই রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এ রাত অতীব পুণ্যময় ও মহিমান্বিত।

২০ রমজানের পর যে কোনো বিজোড় রাত কদর হতে পারে। তবে ২৬ রমজানের দিবাগত রাতেই লাইলাতুল কদর আসে বলে আলেমদের অভিমত। কদরের এই রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয় এবং এই রাতকে কেন্দ্র করে কোরআনে ‘আল-কদর’ নামে একটি সুরাও আছে।

শবেকদরের রাতেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আমি কোরআনকে নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর সম্বন্ধে তুমি কি জান? লাইলাতুল কদর এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।’ (সুরা কদর : ১-৩)।

‘শবেকদর’ কথাটি ফারসি। শব মানে রাত বা রজনী আর কদর মানে সম্মান, মর্যাদা, গুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। শবেকদর অর্থ হলো মর্যাদার রাত। শবেকদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, অন্য সময়ে এক হাজার মাস ইবাদত করলে যে সওয়াব পাওয়া যায়, কদরের রাতের ইবাদতে তার চেয়ে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও নিজেদের গুনাহ মাফ এবং অধিক সওয়াব হাসিলের আশায় নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকারের মধ্য দিয়ে রাতটি অতিবাহিত করবেন।

হাদিসের ভাষ্যমতে, লাইলাতুল কদর হলো রমজান মাসের শেষ দশকে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা শবেকদর তালাশ করবে রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে।’ (বুখারি : ২০৫৬)। তার মানে, রমজানের শেষ দশকের বিজোড় (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ রমজান) রাতগুলোর যে কোনোটি শবেকদর হবে।

শবেকদর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে মুসলিম বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী রোববার (১৫ মার্চ) বিকাল ৫টা ৩৫ মিনিটে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে একটি পোস্টে শবেকদর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।

ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। লাইলাতুল কদর মহিমা মণ্ডিত ও বরকতময় এক রাত। পবিত্র কুরআনুল কারিম রমজান মাসের এই মহিমান্বিত রাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন। এ রাত মানবজাতির জন্য কল্যাণ, ক্ষমা ও রহমতের বার্তা নিয়ে আসে।

তিনি আরও লেখেন, এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। রমজান মাস সংযম, আত্মশুদ্ধি, সহনশীলতা ও মানবিক গুণাবলির জাগরণের মাস। পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে।

পবিত্র শবেকদর উপলক্ষে আগামীকাল সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের মতো এবারও আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) মাগরিবের নামাজের পর ‘পবিত্র শবেকদরের ফজিলত ও তাৎপর্য’ শীর্ষক এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

পবিত্র শবেকদর উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিওগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। এছাড়া সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হবে।