img

চলতি বছরের ফিতরার হার নির্ধারণ

প্রকাশিত :  ০৭:৩৮, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৪৭, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চলতি বছরের ফিতরার হার নির্ধারণ

রমজানে বাংলাদেশে ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরও (২০২৫) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ফিতরার হার একই ছিল।

আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভায় ১৪৪৭ হিজরি সনের ফিতরার এ হার নির্ধারণ করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক। 

এতে ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের ফিতরার হার জানান।

সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় যে, ইসলামী শরীয়াহ মতে মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী গম, আটা, যব, খেজুর, কিসমিস ও পনির- যে কোনো একটি পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা এর বাজার মূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করতে পারবেন।

গম ও আটার ক্ষেত্রে এর পরিমাণ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’)। খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের (এক সা’) মাধ্যমে সাদকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করতে হয়।

এসব পণ্যের বাজার মূল্য হিসাব করে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়।

মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক জানান, উন্নতমানের আটা বা গমের ক্ষেত্রে ফিতরা এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’) বা এর বাজার মূল্য ১১০ টাকা (প্রতি কেজি ৬৫ টাকা ধরে)। যবের ক্ষেত্রে (এক সা’) ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৫৯৫ টাকা ফিতরা দিতে হবে (প্রতি কেজি ১৮০ টাকা ধরে)।

এছাড়া প্রতি কেজি ৮০০ টাকা ধরে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম কিসমিস বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৬৪০ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। খেজুরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৪৭৫ টাকা (প্রতি কেজি ৭৫০০ টাকা ধরে) ও পনিরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৮০৫ টাকা (প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা ধরে) দিয়ে ফিতরা আদায় করতে হবে বলে জানান কমিটির সভাপতি।

ফিতরার পণ্যের স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্য রয়েছে। সে অনুযায়ী স্থানীয় মূল্য পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে বলেও জানান আবদুল মালেক।

আব্দুল মালেকের পক্ষে বক্তব্য পাঠ করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ।

কোনো ব্যক্তি (ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময়) নেছাব পরিমাণ (সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমপরিমাণ) মালের মালিক হলে ঈদের দিন সকালে তার ওপর নিজের, নাবালক সন্তানসহ নির্ভরশীলদের সাদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হয়। ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে ফিতরা আদায় করতে হয়।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

img

হজযাত্রীদের জন্য ‘হজ ভিসা’ বাধ্যতামূলক করল সৌদি আরব

প্রকাশিত :  ০৫:৫৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৩২, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এবার হজ পালনের জন্য নির্দিষ্ট ‘হজ ভিসা’ ব্যতীত অন্য কোনো ভিসাকে বৈধ বলে গণ্য করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে । 

আজ রোববার (১২ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, হজ পালনের জন্য সরকারিভাবে অনুমোদিত একমাত্র বৈধ উপায় হলো হজ ভিসা। 

এর ফলে ভিজিট ভিসা, ট্রানজিট ভিসা, ওমরাহ ভিসা কিংবা টুরিস্ট ভিসা নিয়ে যারা সৌদি আরবে অবস্থান করবেন, তারা হজের কোনো আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারবেন না। সৌদিতে বসবাসরত নাগরিক ও প্রবাসীদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা ভিন্ন হলেও তাদেরও ‘নুসুক’ অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পারমিট সংগ্রহ করতে হবে।

সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, হজের সময় ভিজিট বা টুরিস্ট ভিসাধারীদের হজ পালনের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, সব ধরনের অফিশিয়াল বুকিং বা রিজার্ভেশন শুধুমাত্র অনুমোদিত মাধ্যমগুলোর মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে। 

কোনো ধরনের অননুমোদিত বা ভুয়া চ্যানেলের মাধ্যমে হজের বুকিং না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়। প্রতি বছর হজের মৌসুমে একদল অসাধু চক্র সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অবৈধভাবে হজে পাঠানোর প্রলোভন দেখায়, যা কঠোরভাবে দমন করতেই এবার এই আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ থেকে চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ এপ্রিল রাত ২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে প্রথম হজ ফ্লাইট যাত্রা করবে। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবারের হজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে বিমানবন্দর ও হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান।

সৌদি আরবের নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি হজযাত্রীদের হজের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ভিসা থাকা বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনি জটিলতার পাশাপাশি হজের আনুষ্ঠানিকতা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। 

সৌদিতে অবস্থানরত প্রবাসীদেরও নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে বুকিং নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে হজযাত্রীদের যাবতীয় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে এবং সকল ফ্লাইট সময়মতো পরিচালনার লক্ষ্যে কাজ করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য অংশীদাররা।

সূত্র: সৌদি গেজেট