img

সৌদি পৌঁছেছেন ২০৫৫৩ হজযাত্রী, একজনের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৫:৫৭, ২২ এপ্রিল ২০২৬

সৌদি পৌঁছেছেন ২০৫৫৩ হজযাত্রী, একজনের মৃত্যু

বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২০ হাজার ৫৫৩ হজযাত্রী। সরকারি-বেসরকারি মোট ৫১টি ফ্লাইটে সৌদিতে পৌঁছান তারা। হজে গিয়ে নইম উদ্দীন মন্ডল (৭৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এয়ারলাইন্স, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ হজ অফিস ঢাকা ও সৌদি আরবের সূত্রে হজ বুলেটিনের আইটি হেল্প ডেস্ক জানিয়েছে, বুধবার রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৯টি ফ্লাইটে সৌদি আরব পৌঁছান ৭ হাজার ৮৫৫ হজযাত্রী, সৌদি এয়ারলাইনসের ১৮টি ফ্লাইটে ৭ হাজার ১৫ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ১৪টি ফ্লাইটে ৫ হাজার ৬৯৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছান। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ২ হাজার ৮৩০ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি পৌঁছান ১৭ হাজার ৬৯৩ হজযাত্রী।

এদিকে চলতি বছর পবিত্র হজপালনে সৌদি আরবে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১ বাংলাদেশি মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। নইম উদ্দীন মন্ডল নামে ওই ব্যক্তির বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলায়।

গত ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে হজের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এ দিন ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ডেডিকেটেড ফ্লাইট সৌদির উদ্দেশে যাত্রা করে। আগামী ২১ মে শেষ হবে এ ফ্লাইট পরিচালনা। ৩০ মে থেকে পুনরায় হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। শেষ হবে ৩০ জুন।

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে যাবেন ৫ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।

img

ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা : আল্লাহর পথে অটল থাকার উপায়

প্রকাশিত :  ০৭:৫৩, ০২ জুন ২০২৬

শায়খ আনিসুল হক

প্রতি বছরই একই প্রশ্ন আমাদের সামনে আসে । রামাদ্বান শেষ, জিলহজ্জের বরকতময় দিনগুলোও শেষ, এখন আমরা কী করব?

রামাদানে আমরা নামাজ পড়ি, কুরআন তিলাওয়াত করি, দোয়া করি এবং আল্লাহর খুব কাছাকাছি অনুভব করি । কিন্তু কিছুদিন পর অনেকেই আগের অবস্থায় ফিরে যাই। নামাজে শিথিলতা আসে, মসজিদে যাওয়া কমে যায়, কুরআন তিলাওয়াতও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। জিলহজ্জের দিনগুলোতেও আমরা ইবাদতে বেশি মনোযোগ দিই, কিন্তু সেগুলো শেষ হলে আবার একই অবস্থা দেখা দেয় ।

আসল কথা হলো, ইসলাম শুধু কিছু নির্দিষ্ট মাসে পালন করার ধর্ম নয় । আল্লাহ শুধু রামাদানের রব নন; তিনি বছরের প্রতিটি দিনের রব। তাই আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ইস্তিকামাত—অর্থাৎ সবসময় আল্লাহর পথে দৃঢ় ও অবিচল থাকা।

আমাদের অধিকাংশেরই ইবাদত করার ইচ্ছা আছে । সমস্যা হলো সেই ইবাদত নিয়মিত চালিয়ে যাওয়া। অনেক সময় আমরা তাহাজ্জুদ পড়ে বা কুরআন তিলাওয়াত করে খুব অনুপ্রাণিত হই এবং মনে করি, “এখন থেকে প্রতিদিনই করব।” কিন্তু কয়েকদিন পর সেই উৎসাহ হারিয়ে যায়।

এ কারণেই সাহাবি সুফিয়ান ইবন আবদুল্লাহ আস-সাকাফি (রাঃ) রাসূল (সাঃ) এর কাছে এমন একটি উপদেশ চেয়েছিলেন, যা জানার পর আর কারো কাছে কিছু জিজ্ঞাসা করতে হবে না। তখন রাসূল (সাঃ) বলেছিলেন: “বলো, আমি আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি; তারপর তার ওপর অটল থাকো।” শুধু ঈমান আনাই যথেষ্ট নয়; সেই ঈমানের ওপর দৃঢ়ভাবে টিকে থাকাও জরুরি।

১. আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও

ইস্তিকামাত শুধু নিজের শক্তিতে অর্জন করা যায় না। এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। তাই সবসময় তাঁর কাছে দোয়া করতে হবে। রাসূল (সাঃ) প্রায়ই এই দোয়া করতেন: “হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর দৃঢ় রাখুন।”

সাহাবিরা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করেন, “হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি আমাদের ব্যাপারেও আশঙ্কা করেন?” জবাবে তিনি বলেন: \'হ্যাঁ । কারণ মানুষের হৃদয় পরম দয়াময়ের দুই আঙুলের মাঝে থাকে । তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিবর্তন করেন।তাই আমরা প্রতিদিন নামাজে বারবার বলি : আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন । (সূরা ফাতিহা: ৬)।

আমরা পথ চিনি, তবুও এই দোয়া করি, কারণ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া সেই পথে টিকে থাকা সম্ভব নয়।

২. নিজের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করো

সুফিয়ান (রাঃ) যখন রাসূলকে (সাঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি আমার জন্য সবচেয়ে বেশি কী বিষয়ে ভয় করেন? তখন তিনি নিজের জিহ্বা ধরে বললেন,  এটি।

গীবত, মিথ্যা, ঝগড়া-বিবাদ, অন্যকে উপহাস করা—এসব মানুষের আত্মিক অবস্থাকে দুর্বল করে দেয় । একজন ব্যক্তি নিয়মিত নামাজ পড়লেও তার জিহ্বার কারণে হৃদয় কঠিন হয়ে যেতে পারে।

তাই ইবাদতে যেমন ইস্তিকামাত প্রয়োজন, কথাবার্তাতেও তেমনি ইস্তিকামাত প্রয়োজন।

৩. কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করা

ইস্তিকামাত মানে শুধু বেশি বেশি আমল করা নয়; বরং সঠিকভাবে আমল

করা। প্রখ্যাত তাবেঈ আলেম সুফিয়ান আস-সাওরি (রহ.) বলেছেন, কোনো কথা বা কাজ তখনই সঠিক হয়, যখন তা সুন্নাহর অনুসরণে করা হয়।”

একবার রাসূল (সাঃ) মাটিতে একটি সোজা রেখা এঁকে বললেন, এটাই আল্লাহর পথ । তারপর ডান ও বাম দিকে কয়েকটি রেখা এঁকে বললেন, \"এগুলো অন্য পথ, আর প্রত্যেক পথের ওপর একজন শয়তান মানুষকে আহ্বান করছে।\' সঠিক পথ একটি, কিন্তু বিভ্রান্তির পথ অনেক । তাই আমাদের কুরআন ও সুন্নাহর পথেই দৃঢ় থাকতে হবে।

আল্লাহ বলেন, এটাই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এ পথ অনুসরণ করো এবং অন্য পথগুলো অনুসরণ করো না।” (সূরা আন\'আম: ১৫৩)

৪. অল্প হলেও নিয়মিত আমল করা

এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব শিক্ষা। ইসলাম আমাদেরকে একসঙ্গে অনেক কিছু করে ক্লান্ত হয়ে যেতে বলে না; বরং নিয়মিতভাবে আমল করতে শেখায়।

হযরত আয়েশা (রাঃ) রাসূল (সাঃ) এর ইবাদত সম্পর্কে বলেছেন- তাঁর আমলগুলো ছিল নিয়মিত । অর্থাৎ একদিন খুব বেশি, আরেকদিন একেবারে কিছুই নয়—এমন ছিল না।

সত্যিকারের ইস্তিকামাত হলো- নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া, প্রতিদিন কিছু হলেও কুরআন তিলাওয়াত করা, সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করা।

অল্প আমল হলেও তা অব্যাহত রাখা।

রমাদান চলে গেছে, হজযাত্রীরা ফিরে আসছেন। এখন আসল পরীক্ষা হলো—ইবাদতের মৌসুম শেষ হওয়ার পর আমরা কতটা আল্লাহর পথে অবিচল থাকতে পারি।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে এমন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা শুধু বিশেষ সময়েই নয়, বরং জীবনের প্রতিটি দিন তাঁর পথে অটল থাকে।

হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমাদের হৃদয়কে আপনার দ্বীনের ওপর দৃঢ় রাখুন। আমিন।


শায়খ সৈয়দ আনিসুল হক: সিনিয়র ইমাম ও খতীব, ইস্ট লন্ডন মসজিদ । ২৯ মে ২০২৬





1 attachment

ধর্ম এর আরও খবর