img

ইস্ট লন্ডন মসজিদের উদ্যোগে আল কুরআনের প্রাচীনতম পান্ডুলিপি নিয়ে আলোচনা

প্রকাশিত :  ১৮:৫৬, ০৯ জুন ২০২৬

ইস্ট লন্ডন মসজিদের উদ্যোগে আল কুরআনের প্রাচীনতম পান্ডুলিপি নিয়ে আলোচনা

ইস্ট লন্ডন মসজিদের উদ্যোগে শিক্ষার্থী, গবেষক এবং কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে পবিত্র কুরআনের লিখিত ইতিহাস নিয়ে এক বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে । ইস্ট লন্ডন মসজিদের বিশেষ প্রজেক্ট \'ইএলএম কানেক্স-এর তত্তাবধানে ২ জুন মঙ্গলবার লন্ডন মুসলিম সেন্টারে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

\'এডুকেট অ্যান্ড ইন্সপায়ার\' শীর্ষক আলোচনায় কুরআন সংরক্ষণ ও প্রচারের ইতিহাস তুলে ধরা হয় । প্রথম দিকের সংরক্ষিত পান্ডুলিপি থেকে শুরু করে আজ বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত মুদ্রিত কপিগুলোও আলোচনায় স্থান পায়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ইএলএম কানেক্স-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়। এর লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিসর তৈরি করা, যেখানে আলেম, বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষ ধর্ম, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও দর্শনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করতে পারেন।

এতে বক্তব্য রাখেন মার্কফিল্ড ইনস্টিটিউট অব হায়ার এডুকেশনে ইসলামিক স্টাডিজের প্রভাষক এবং বিএ ইসলামিক স্টাডিজ কোর্সের পরিচালক ড. এফ রেদোয়ান কারিম।  তিনি কুরআনের একজন হাফিজ এবং হাফস কিরাআতে ইজাযাপ্রাপ্ত । আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল তাঁর রচিত গ্রন্থ  \"হিস্টোরি অব দ্যা কুরআন : অ্যাপ্রোচ এন্ড এক্সপ্লোরেশন্স\" (কুরআনের সংরক্ষণ ও প্রচার)।

ড. করিম তাঁর আলোচনা শুরু করেন কুরআনের সংরক্ষণ ও প্রচারের সামগ্রিক ইতিহাস তুলে ধরে । তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, কুরআন একটি বহুমাত্রিক পাঠ্যগ্রন্থ। ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই কুরআন তিলাওয়াতের একাধিক গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি ছিল, যেখানে উচ্চারণ ও শব্দ ব্যবহারে কিছু পার্থক্য বিদ্যমান ছিল । ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে এই বৈচিত্র্য ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ আসে তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রাঃ) এর যুগে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ইন্তেকালের প্রায় ২৫ বছর পরে । তিনি কুরআনের মূল কাঠামো একীভূত করেন এবং এর সরকারি কপিগুলো মক্কা, মদিনা, বসরা, কুফা ও দামেস্কসহ মুসলিম বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রগুলোতে পাঠান।

ড. করিম এরপর কুরআনের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মাইল ফলকগুলো তুলে ধরেন । তিনি আলোচনা করেন ইবনে মোজাজিদ এর সাতটি কিরাত নির্বাচন, আল-দানি ও আল-সাথিবী-এর মাধ্যমে প্রতিটি কিরাআতের জন্য দুইজন রাবির গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ, এবং পরে ইবনে আল-জাজারি\'র আরও তিনটি কিরাআত সংযোজনের মাধ্যমে মোট দশটি কিরাআতের স্বীকৃতি।

তিনি উল্লেখ করেন, সর্বশেষ বড় মাইলফলকটি তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক। ১৯২৪ সালে মিশরের রাজার পৃষ্ঠপোষকতায় আল-আজহারের আলেমদের তত্ত্বাবধানে কায়রো সংস্করণ প্রস্তুত করা হয়, যা হাফস আন আসিমের কিরাআত অনুসরণ করে । বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলিম এই পাঠ অনুসারে কুরআন তিলাওয়াত করেন। তবে ড. করিম জোর দিয়ে বলেন, হাফস কিরাআতকে কুরআনের একমাত্র রূপ হিসেবে দেখা উচিত নয়; বরং এটি বৃহত্তর ও সমৃদ্ধ কিরাআত ঐতিহ্যের একটি অংশ।

অনুষ্ঠানের শেষে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত অতিথিরা সরাসরি ড. করিমের কাছে তাঁদের প্রশ্ন উপস্থাপনের সুযোগ পান । এর মধ্য দিয়ে একটি তথ্যবহুল ও চিন্তাশীল সন্ধ্যার সমাপ্তি ঘটে।

ধর্ম এর আরও খবর

img

আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে'র কার্ডিফ ব্রাঞ্চের মেম্বারশিপ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১০:৩৮, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৪৫, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে'র সাউথ ওয়েলস ডিভিশনের কার্ডিফ ব্রাঞ্চের উদ্যোগে মেম্বারশিপ কনফারেন্স ২০২৬  ওয়েলসের  রাজধানী কার্ডিফের বাংলাদেশ সেন্টারে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। 
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মুহতারাম সভাপতি সাবেক এমপি হজরত মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী।
সংগঠনের কার্ডিফ ব্রাঞ্চের সভাপতি ক্বারি মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বাবুর সঞ্চালনায় গত ১১ ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই মহতি পোগ্রামে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে'র জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা এম এ কাদির আল হাসান, সেন্ট্রাল কাউন্সিল মেম্বার কাউন্সিলর দিলওয়ার আলী, ওয়েলস ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট হাফিজ মাওলানা ফারুক আহমেদ, ওয়েলস ডিভিশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ার আলী, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জালালিয়া  মসজিদের ঈমাম ও খতীব মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল মুক্তাদির, ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ আনোয়ার, জেনারেল সেক্রেটারি আনসার মিয়া, সংগঠনের জয়েন্ট সেক্রেটারি ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর, ট্রেজারার ক্বারী শাহ তসলিম আলী, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি সৈয়দ শামসুল হক রানু, 

ট্রেনিং এন্ড এম্পলয়মেন্ট সেক্রেটারি আব্দুল আজিজ আতিকুজ্জামান, মেম্বারশিপ সেক্রেটারি ক্বারি মুজাম্মিল আলী ও শাহজালাল মসজিদের সহকারী ঈমাম মাওলানা হাফিজ তাওহিদুল হক প্রমুখ।

সংগঠনের ব্রাঞ্চ কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি হাফিজ মাওলানা জালাল উদ্দীনের কোরআন তিলাওয়াত ও সদস্য মাওলানা মাকসুদুর রহমানের নাতে রাসুলের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মেম্বারশিপ কনফারেন্সে অন্যান্যদের মধ্যে সংগঠনের ব্রাঞ্চ কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অজিহুর রহমান মিজান,ভাইস প্রেসিডেন্ট জিলু মিয়া, এডুকেশন এন্ড কালচারাল সেক্রেটারি হাফিজ ইমরান আহমদ, ট্রেইনিং এন্ড এম্পলয়মেন্ট সেক্রেটারি হাফিজ ইব্রাহিম আলী মাসুদ, ও এক্সিউটিভ মেম্বার সেলিম আহমদ সহ  সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

কনফারেন্সে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, সদস্য বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভার শুরুতেই সম্মানিত প্রধান অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নব প্রজন্মের সন্তান মেহরাজ আহমেদ সহ কার্ডিফ ব্রাঞ্চ কমিটির নেতৃবৃন্দ। 

এদিকে  আনজুমানে আল- ইসলাহ ইউকে'র ওয়েলস ডিভিশনের কার্ডিফ ব্রাঞ্চের উদ্দ্যোগে জালালিয়া মসজিদে মিলাদ এবং ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মুহতারাম সভাপতি সাবেক এমপি হজরত মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য শেষে দোয়া ও মিলাদ পরিচালনা করেন। 

এর পূর্বে কার্ডিফজালালিয়া মসজিদ কমিটির সাথে অফিস হলে তিনি মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি কার্ডিফের  বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সেন্টারে পরিচালিত কার্ডিফ দারুস সুন্নাহ উইকেন্ড মাদ্রাসা ও পরিদর্শন করেছেন। 

মেম্বারশিপ কনফারেন্সে বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মুহতারাম সভাপতি হযরত মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেছেন, সুন্দর ও সফল জীবন গঠনের জন্য মানুষের ভালো কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকা, সবসময় ভালো চিন্তা ও কল্যাণকর ভাবনাকে হৃদয়ে লালন করা এবং সত্যবাদী ও নেককার মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, ভালো মানুষের সঙ্গ মানুষের জীবনকে আলোকিত করে এবং তাকে সঠিক পথের সন্ধান দেয়। পক্ষান্তরে অসৎ সঙ্গ মানুষকে ধীরে ধীরে ভুল ও অন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে পারে। এজন্য আমাদের উচিত সত্যবাদী ও আল্লাহভীরু মানুষের সান্নিধ্যে থাকা এবং সমাজে এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মানুষ নৈতিকতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করতে পারে।

তিনি বলেন, একজন মানুষের বাহ্যিক কর্মের পাশাপাশি তার অন্তরের পরিশুদ্ধতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অন্তরকে অহংকার, হিংসা ও লোভের মতো ব্যাধি থেকে হেফাজত করতে হবে। কারণ এসব কুপ্রবৃত্তি মানুষের আত্মিক উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে বিভেদ ও অশান্তি তৈরি করে। তাই আমাদের অন্তরকে পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র রাখার জন্য সর্বদা প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রাখা জরুরি।

তিনি আরো বলেন, দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য আমাদেরকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তাই আমাদের উচিত নিজেদের কর্ম ও আমলের প্রতি সতর্ক থাকা এবং নিয়মিত আত্মসমালোচনা বা মুহাসাবা করা। প্রতিদিন নিজের কাছে হিসাব নেওয়া প্রয়োজন, আমি আজ কী ভালো কাজ করেছি, আমার দ্বারা কারও কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না এবং আমার চিন্তা ও কর্ম আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত হচ্ছে কি না।

মাওলানা হুছামুদ্দীন ফুলতলী আরও বলেন, আনজুমানে আল ইসলাহ কোনো জাগতিক বা পার্থিব স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন নয়। এটি মূলত মানুষের আত্মশুদ্ধি ও তাজকিয়ায়ে নফসের শিক্ষা লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তাই সংগঠনের প্রত্যেক দায়িত্বশীলকেই সর্বপ্রথম নিজের চরিত্র, চিন্তা ও আমলের সংশোধনের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

সংগঠনকে এগিয়ে নিতে অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনে আর ও নিষ্টা ও নিরলসভাবে কাজ করার আহবান জানিয়ে তিনি দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, সংগঠনের দায়িত্ব পালনে প্রত্যেককেই দায়িত্বশীলতার ভূমিকা পালন করতে হবে। যার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও আমানতদারিতার সাথে পালন করতে হবে। মনে রাখবেন, দ্বীনের কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের বাধাঁ, প্রতিকূলতা কিংবা সমালোচনার সম্মুখীনও হতে পারেন। কিন্তু সকল সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে ধৈর্য ও সবরের মাধ্যমে দ্বীনের কাজ আনজাম দিয়ে যেতে হবে বলে নিদের্শনা প্রদান করেছেন।

------------------------------