img

ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা : উত্তম পরিবার যেভাবে গড়বেন

প্রকাশিত :  ১৪:৫৩, ০৮ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৪:৫৩, ০৯ জুন ২০২৬

ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা : উত্তম পরিবার যেভাবে গড়বেন

শায়খ ড. সাজিদ উমার

আল্লাহ তাআলা এই উম্মাহকে সর্বোত্তম জাতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন । কিন্তু আমরা সবাই জানি, একটি জাতি মূলত অসংখ্য পরিবারের সমষ্টি । সুতরাং যদি এই উম্মাহ সর্বোত্তম জাতি হয়, তাহলে এর পরিবারগুলোও অবশ্যই সর্বোত্তম পরিবার হতে হবে।

এ কারণেই কুরআন ও সুন্নাহ এমন এক সময়ে অবতীর্ণ হয়েছিল, যখন ছিল অজ্ঞতা, শিরক, জুলুম ও অবিচারে নিমজ্জিত । তবুও তারা পরিবার, সন্তান প্রতিপালন এবং দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে শিক্ষা দিতে ভোলেনি । বরং কুরআন বিবাহ সম্পর্কে এমন এক সত্য শিক্ষা দেয়, যা আজ আমাদের অনেকের কাছেই হারিয়ে গেছে।

যখন কোনো বিয়ে বা নিকাহ হয়, আমরা আনন্দিত হই—এবং তা হওয়াই স্বাভাবিক । কারণ এটি শুধু দুই ব্যক্তির নয়, দুটি পরিবারেরও মিলন । কিন্তু কুরআন আমাদের আরও গভীর একটি কারণে আনন্দিত হতে শেখায় । কুরআন বলে, বিবাহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের একটি নিদর্শন। এটি তাঁর একত্ববাদ, তাঁর ইবাদত এবং তাঁর সুন্দর নাম ও গুণাবলীর প্রমাণ। আপনার নিকাহ, আপনার দাম্পত্য জীবন—আল্লাহর অস্তিত্ব ও একত্বের সাক্ষ্য বহনকারী একটি মাধ্যম হয়ে যায়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, তিনি সৃষ্টিজগতের সবকিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন—পুরুষ ও নারী, আলো ও অন্ধকার, গরম ও ঠান্ডা। এই জোড়াগুলো আমাদের চিন্তা করতে শেখায়, যাতে আমরা উপলব্ধি করি যে প্রতিটি জোড়ার পেছনে রয়েছেন একমাত্র সেই সত্তা, যিনি নিজে কোনো অংশীদারবিহীন। প্রতিটি জোড়া আমাদের সেই এক আল্লাহর দিকেই নির্দেশ করে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো । আর তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা ও দয়া। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে। (সূরা রূম: ২১)। আপনার জীবনসঙ্গী আল্লাহর নিদর্শনসমূহের একটি নিদর্শন । এর চেয়ে বড় সম্মান আর কী হতে পারে?

বিয়ে সহজ, বিচ্ছেদ কঠিন

আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, ইসলামে বিয়ে কত সহজ? অভিভাবক, দুইজন সাক্ষী, মহর নির্ধারণ এবং উভয়ের সম্মতি—মাত্র কয়েক মুহূর্তেই নিকাহ সম্পন্ন হয়ে যায় । শরিয়ত বিয়েকে সহজ করেছে, কারণ বিবাহ আল্লাহর একটি নিদর্শন । কিন্তু অন্যদিকে, আল্লাহ এই চুক্তিকে এমন মর্যাদা দিয়েছেন, যা অন্য কোনো চুক্তিকে দেননি । তিনি একে বলেছেন “মীসাকান গালীযা”—একটি দৃঢ় ও গুরুগম্ভীর অঙ্গীকার।

তাই বিয়ে সহজ হলেও তালাককে সহজ করা হয়নি । প্রয়োজন হলে বিচ্ছেদেরও একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতি রয়েছে—নির্ধারিত সময়, নিয়ম এবং দায়িত্বসহ। এটি আমাদের শেখায় যে, বিবাহ কেবল দুই ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়; বরং এটি তাওহীদের বাস্তব প্রয়োগের একটি অংশ।

বিবাহের দুটি উপহার

সূরা রূমের আয়াতে আল্লাহ তাআলা বিবাহের দুটি বিশেষ উপহারের কথা উল্লেখ করেছেন।

১. মাওয়াদ্দাহ (মমতাপূর্ণ ভালোবাসা) : আমরা সাধারণত মাওয়াদ্দাহকে “ভালোবাসা” বলে অনুবাদ করি। কিন্তু এর অর্থ আরও গভীর। মাওয়াদ্দাহ হলো এমন ভালোবাসা, যা প্রকাশ পায়, অনুভূত হয়, অন্যের হৃদয়ে পৌঁছে যায়। ইংরেজিতে যাকে বলা যায় এফেকশন।

বিয়ের আগে কোনো নারী-পুরুষের পারস্পরিক প্রেমের প্রকাশ গুনাহের কারণ হতে পারে। কিন্তু নিকাহর পর সেই একই হাসি সদকা হয়ে যায়, একই কথোপকথন সওয়াবের কাজ হয়ে যায়, এমনকি একে অপরকে খাবার খাওয়ানোও ইবাদত হয়ে যায়।

কিন্তু আজ অনেক দাম্পত্য সমস্যার মূল কারণ হলো—ভালোবাসা আছে, কিন্তু তা প্রকাশ পায় না।

স্বামী বলেন, আমি স্ত্রীকে ভালোবাসি । স্ত্রীও বলেন, আমি স্বামীকে ভালোবাসি। কিন্তু কেউই তা অনুভব করতে পারেন না।

অথচ মাওয়াদ্দাহ প্রকাশ করতে বড় কিছু লাগে না। একটি আন্তরিক বার্তা, একটি সুন্দর কথা, একটি মমতাময় স্পর্শ—এসবই ভালোবাসাকে জীবন্ত করে তোলে।

২. রহমাহ (দয়া ও করুণা): তাফসিরের অনেক আলেম বলেন, এখানে রহমাহ বলতে সন্তানদেরও বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ যদি আপনাকে সন্তান দান করেন এবং আপনি তাদের ঈমান ও তাকওয়ার ওপর লালন-পালন করেন, তবে তারা আপনার জন্য রহমতের উৎস হয়ে ওঠে ।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের সন্তানরা ঈমানের সঙ্গে তাদের অনুসরণ করেছে, আমি তাদের সন্তানদেরও তাদের সঙ্গে মিলিত করে দেব এবং তাদের আমলের কোনো অংশ কমিয়ে দেব না। (সূরা তূর: ২১)

অর্থাৎ জান্নাতে যদি সন্তানদের মর্যাদা পিতা-মাতার চেয়ে বেশি হয়, আল্লাহ পিতা-মাতাকেও সেই উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করবেন। আর যদি পিতা-মাতার মর্যাদা বেশি হয়, সন্তানদেরও তাদের সঙ্গে মিলিয়ে দেবেন। পৃথিবীতে একটি পরিবার, জান্নাতেও একটি পরিবার।

উন্নত দাম্পত্য জীবন গড়ে তুলুন

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর প্রতি সর্বোত্তম । আর আমি আমার পরিবারের প্রতি তোমাদের সবার চেয়ে উত্তম।

আমরা জীবনের সব ক্ষেত্রে সেরাটা চাই—সেরা চাকরি, সেরা ব্যবসা, সেরা বাড়ি। কিন্তু ঘরের ভেতরের চরিত্রকে কতটা উন্নত করার চেষ্টা করি? সন্তানরা আমাদের কথা শুনে যতটা শেখে, তার চেয়ে বেশি শেখে আমাদের আচরণ দেখে।

তারা দেখে—আমরা কীভাবে একে অপরের সঙ্গে কথা বলি, কীভাবে সম্মান করি, কীভাবে মতভেদ সামলাই, কীভাবে পরস্পরকে গুরুত্ব দিই। এভাবেই তারা ভবিষ্যতের স্বামী, স্ত্রী ও অভিভাবক হিসেবে গড়ে ওঠে।

অধিকার নয়, দায়িত্ব

দাম্পত্য জীবনের বড় একটি সমস্যা হলো—আমরা দায়িত্ব ভুলে গিয়ে শুধু নিজের অধিকার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এবং খাদিজা (রাঃ)-এর জীবনের দিকে তাকান । নবী (সাঃ) খাদিজা (রাঃ)-এর ঘরেই বসবাস করেছিলেন । খাদিজা (রাঃ) কখনো এটি তাঁর ওপর চাপিয়ে দেননি। বরং ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে তাঁকে গ্রহণ করেছিলেন। অন্যদিকে নবী (সাঃ) খাদিজা (রাঃ)-এর সন্তান হিন্দকে নিজের সন্তানের মতোই লালন-পালন করেছিলেন। পরে নবী (সাঃ) যখন আবু তালিবের কষ্ট লাঘবের জন্য আলী (রাঃ)-কে নিজের ঘরে নিয়ে আসতে চাইলেন, খাদিজা (রাঃ) কোনো আপত্তি করেননি । বরং সাদরে গ্রহণ করেছিলেন । এটাই দায়িত্বভিত্তিক বিবাহ। যেখানে স্বামী-স্ত্রী হিসাবের খাতা নিয়ে বসে না—“আমি এত করলাম, তুমি কী করলে?” বরং তারা ভাবে—আমি কীভাবে আমার দায়িত্ব আরও ভালোভাবে পালন করতে পারি? এটাই কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা। এটি কেবল জীবন কাটানোর জন্য একটি সম্পর্ক নয়; এটি চিরস্থায়ী সফলতার জন্য একটি বন্ধন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে উত্তম পরিবার দান করুন। আমীন।

শায়খ ড. সাজিদ উমর : অতিথি খাতিব, ইস্ট লন্ডন মস্ক এন্ড লন্ডন মুসলিম সেন্টার । জুমার খুতবা ৫ই জুন ২০২৬।

ধর্ম এর আরও খবর

img

আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে'র কার্ডিফ ব্রাঞ্চের মেম্বারশিপ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১০:৩৮, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৪৫, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে'র সাউথ ওয়েলস ডিভিশনের কার্ডিফ ব্রাঞ্চের উদ্যোগে মেম্বারশিপ কনফারেন্স ২০২৬  ওয়েলসের  রাজধানী কার্ডিফের বাংলাদেশ সেন্টারে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। 
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মুহতারাম সভাপতি সাবেক এমপি হজরত মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী।
সংগঠনের কার্ডিফ ব্রাঞ্চের সভাপতি ক্বারি মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বাবুর সঞ্চালনায় গত ১১ ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই মহতি পোগ্রামে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে'র জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা এম এ কাদির আল হাসান, সেন্ট্রাল কাউন্সিল মেম্বার কাউন্সিলর দিলওয়ার আলী, ওয়েলস ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট হাফিজ মাওলানা ফারুক আহমেদ, ওয়েলস ডিভিশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ার আলী, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জালালিয়া  মসজিদের ঈমাম ও খতীব মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল মুক্তাদির, ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ আনোয়ার, জেনারেল সেক্রেটারি আনসার মিয়া, সংগঠনের জয়েন্ট সেক্রেটারি ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর, ট্রেজারার ক্বারী শাহ তসলিম আলী, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি সৈয়দ শামসুল হক রানু, 

ট্রেনিং এন্ড এম্পলয়মেন্ট সেক্রেটারি আব্দুল আজিজ আতিকুজ্জামান, মেম্বারশিপ সেক্রেটারি ক্বারি মুজাম্মিল আলী ও শাহজালাল মসজিদের সহকারী ঈমাম মাওলানা হাফিজ তাওহিদুল হক প্রমুখ।

সংগঠনের ব্রাঞ্চ কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি হাফিজ মাওলানা জালাল উদ্দীনের কোরআন তিলাওয়াত ও সদস্য মাওলানা মাকসুদুর রহমানের নাতে রাসুলের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মেম্বারশিপ কনফারেন্সে অন্যান্যদের মধ্যে সংগঠনের ব্রাঞ্চ কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অজিহুর রহমান মিজান,ভাইস প্রেসিডেন্ট জিলু মিয়া, এডুকেশন এন্ড কালচারাল সেক্রেটারি হাফিজ ইমরান আহমদ, ট্রেইনিং এন্ড এম্পলয়মেন্ট সেক্রেটারি হাফিজ ইব্রাহিম আলী মাসুদ, ও এক্সিউটিভ মেম্বার সেলিম আহমদ সহ  সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

কনফারেন্সে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, সদস্য বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভার শুরুতেই সম্মানিত প্রধান অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নব প্রজন্মের সন্তান মেহরাজ আহমেদ সহ কার্ডিফ ব্রাঞ্চ কমিটির নেতৃবৃন্দ। 

এদিকে  আনজুমানে আল- ইসলাহ ইউকে'র ওয়েলস ডিভিশনের কার্ডিফ ব্রাঞ্চের উদ্দ্যোগে জালালিয়া মসজিদে মিলাদ এবং ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মুহতারাম সভাপতি সাবেক এমপি হজরত মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য শেষে দোয়া ও মিলাদ পরিচালনা করেন। 

এর পূর্বে কার্ডিফজালালিয়া মসজিদ কমিটির সাথে অফিস হলে তিনি মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি কার্ডিফের  বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সেন্টারে পরিচালিত কার্ডিফ দারুস সুন্নাহ উইকেন্ড মাদ্রাসা ও পরিদর্শন করেছেন। 

মেম্বারশিপ কনফারেন্সে বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মুহতারাম সভাপতি হযরত মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেছেন, সুন্দর ও সফল জীবন গঠনের জন্য মানুষের ভালো কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকা, সবসময় ভালো চিন্তা ও কল্যাণকর ভাবনাকে হৃদয়ে লালন করা এবং সত্যবাদী ও নেককার মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, ভালো মানুষের সঙ্গ মানুষের জীবনকে আলোকিত করে এবং তাকে সঠিক পথের সন্ধান দেয়। পক্ষান্তরে অসৎ সঙ্গ মানুষকে ধীরে ধীরে ভুল ও অন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে পারে। এজন্য আমাদের উচিত সত্যবাদী ও আল্লাহভীরু মানুষের সান্নিধ্যে থাকা এবং সমাজে এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মানুষ নৈতিকতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করতে পারে।

তিনি বলেন, একজন মানুষের বাহ্যিক কর্মের পাশাপাশি তার অন্তরের পরিশুদ্ধতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অন্তরকে অহংকার, হিংসা ও লোভের মতো ব্যাধি থেকে হেফাজত করতে হবে। কারণ এসব কুপ্রবৃত্তি মানুষের আত্মিক উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে বিভেদ ও অশান্তি তৈরি করে। তাই আমাদের অন্তরকে পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র রাখার জন্য সর্বদা প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রাখা জরুরি।

তিনি আরো বলেন, দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য আমাদেরকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তাই আমাদের উচিত নিজেদের কর্ম ও আমলের প্রতি সতর্ক থাকা এবং নিয়মিত আত্মসমালোচনা বা মুহাসাবা করা। প্রতিদিন নিজের কাছে হিসাব নেওয়া প্রয়োজন, আমি আজ কী ভালো কাজ করেছি, আমার দ্বারা কারও কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না এবং আমার চিন্তা ও কর্ম আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত হচ্ছে কি না।

মাওলানা হুছামুদ্দীন ফুলতলী আরও বলেন, আনজুমানে আল ইসলাহ কোনো জাগতিক বা পার্থিব স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন নয়। এটি মূলত মানুষের আত্মশুদ্ধি ও তাজকিয়ায়ে নফসের শিক্ষা লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তাই সংগঠনের প্রত্যেক দায়িত্বশীলকেই সর্বপ্রথম নিজের চরিত্র, চিন্তা ও আমলের সংশোধনের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

সংগঠনকে এগিয়ে নিতে অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনে আর ও নিষ্টা ও নিরলসভাবে কাজ করার আহবান জানিয়ে তিনি দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, সংগঠনের দায়িত্ব পালনে প্রত্যেককেই দায়িত্বশীলতার ভূমিকা পালন করতে হবে। যার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও আমানতদারিতার সাথে পালন করতে হবে। মনে রাখবেন, দ্বীনের কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের বাধাঁ, প্রতিকূলতা কিংবা সমালোচনার সম্মুখীনও হতে পারেন। কিন্তু সকল সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে ধৈর্য ও সবরের মাধ্যমে দ্বীনের কাজ আনজাম দিয়ে যেতে হবে বলে নিদের্শনা প্রদান করেছেন।

------------------------------