img

সৌদির প্রতিনিধিদের সুরা আল ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত শোনাল ইরান

প্রকাশিত :  ১৫:৪৭, ০৪ জুলাই ২০২৬

সৌদির প্রতিনিধিদের সুরা আল ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত শোনাল ইরান

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলের সামনে পবিত্র কোরআনের সুরা আল ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত তেলাওয়াত করা হয়েছে। এই আয়াত নির্বাচনের পেছনে কোনো বিশেষ কূটনৈতিক বার্তা ছিল কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিদেশি অতিথিদের  জন্য গতকাল শুক্রবার সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন রাখা হয়। এতে অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌদির পাঁচ সদস্যদের একটি দলও আসে। সৌদির এ দলটিকে নেতৃত্ব দেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খেরেজি।

খামেনিকে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় যেসব বিদেশিরা এসেছেন তাদের সবাইকে পবিত্র কোরআন থেকে আলাদা আলাদা আয়াত তেলাওয়াত করে শুনিয়েছে ইরান। এরমধ্যে সৌদির প্রতিনিধিদের শোনানো হয়েছে সুরা আল ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত। যেখানে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে। ওই যুদ্ধে আল্লাহর ওপর ইমান আনা বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের মধ্যে লড়াই হয়।

এই আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন— তোমাদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন আছে সেই দু’দল সৈন্যের মধ্যে যারা পরস্পর প্রতিদ্বন্দীরূপে দাঁড়িয়েছিল (বদর প্রান্তরে)। একদল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল এবং অপরদল ছিল কাফির, কাফিররা মুসলিমদেরকে প্রকাশ্য চোখে দ্বিগুণ দেখছিল। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে স্বীয় সাহায্যের দ্বারা শক্তিশালী করে থাকেন, নিশ্চয়ই এতে দৃষ্টিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।”

সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এই আয়াত শোনানোর মাধ্যমে ইরান সম্ভবত সৌদিকে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে তারা আল্লাহর পথে আছে। অপরদিকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা কাফিরদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে সৌদির প্রতিনিধিদের এ আয়াত শোনানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা তৈরি করেছে।

ধর্ম এর আরও খবর

img

বায়তুল মোকাররমে খতিবের ‘অপসারণ দাবি’ ঘিরে উত্তেজনা

প্রকাশিত :  ১১:২৪, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:২৫, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে অপসারণের দাবি ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে । খতিবকে ‘সরিয়ে দেওয়া হবে’ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা রয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে জুমার নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ করেন একদল মুসল্লি। এ সময় ‘জামায়াত-শিবিরের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘মওদূদীর আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। তবে খতিবের অপসারণের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃত্বে বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, এই মসজিদের খতিব মিম্বারে এবং সব মুসলমানের নয়নের মণি। তিনি এখানে খতিব থাকবেন এবং নামাজ পড়াবেন।

তিনি আরও বলেন, ইসলাম কোনো দলের পক্ষে নয়। ইসলাম আল্লাহর, ইসলাম তৌহিদীদের, ইসলাম আমাদের মুসলমানদের।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। বিএনপির সমর্থনে চারটি আসনে দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনো আসনেই জয় পায়নি দলটি।

সম্প্রতি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ এবং কওমি আলেমদের একাংশের জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য ঘিরে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট আলেমদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আব্দুল মালেককে কওমি আলেমদের জামায়াতের জোটে যুক্ত হওয়াকে ‘গোমরাহি’ বা ‘পথভ্রষ্টতা’ হিসেবে বর্ণনা করতে শোনা যায়। একই বক্তব্যে জামায়াতের লোগোতে থাকা ‘আকিমুদ-দ্বীন’ শব্দের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, শব্দটির মাধ্যমে ইসলামের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নিজের আপত্তি তুলে ধরার সময় তাকে ‘নাউজুবিল্লাহ’ বলতেও শোনা যায়।

খতিবের এসব মন্তব্যের পর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে বিতর্ক আরও জোরালো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ ও জামায়াতবিরোধী স্লোগানের ঘটনা ঘটল।


ধর্ম এর আরও খবর