img

হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু

প্রকাশিত :  ১০:১৬, ২৭ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:২২, ২৭ জুলাই ২০২৬

 হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু

আজ ২৭ জুলাই ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হচ্ছে । এই কার্যক্রম চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী এই সময়সূচি নির্ধারণ করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজে যেতে আগ্রহীদের প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি দুই মাধ্যমেই নিবন্ধন করা যাবে। তবে প্রাথমিক নিবন্ধনের আগে প্রত্যেক হজযাত্রীকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে।

এরপর সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধনকারীদের আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত হজ প্যাকেজের বাকি অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে আগ্রহীরা ই-হজ সিস্টেমে ইউজার তৈরি করে নিজেরাই নিবন্ধন করতে পারবেন। এ ছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম কার্যালয় এবং ঢাকা হজ অফিস থেকেও নিবন্ধন করা যাবে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের সংশ্লিষ্ট এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।

হজে যেতে আগ্রহীদের নির্ধারিত মেয়াদের পাসপোর্ট থাকতে হবে। ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে— এমন পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।

প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরন এবং হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। তবে ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ হজে যেতে পারবেন না। একইভাবে গুরুতর হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, স্নায়বিক বা মানসিক রোগী এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজে যেতে পারবেন না। কেমোথেরাপি, বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন— এমন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীরাও হজে যেতে পারবেন না।

জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ, যেমন— যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও হজে যেতে পারবেন না।


ধর্ম এর আরও খবর

img

আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে'র কার্ডিফ ব্রাঞ্চের মেম্বারশিপ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১০:৩৮, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৪৫, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে'র সাউথ ওয়েলস ডিভিশনের কার্ডিফ ব্রাঞ্চের উদ্যোগে মেম্বারশিপ কনফারেন্স ২০২৬  ওয়েলসের  রাজধানী কার্ডিফের বাংলাদেশ সেন্টারে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। 
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মুহতারাম সভাপতি সাবেক এমপি হজরত মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী।
সংগঠনের কার্ডিফ ব্রাঞ্চের সভাপতি ক্বারি মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বাবুর সঞ্চালনায় গত ১১ ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই মহতি পোগ্রামে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে'র জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা এম এ কাদির আল হাসান, সেন্ট্রাল কাউন্সিল মেম্বার কাউন্সিলর দিলওয়ার আলী, ওয়েলস ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট হাফিজ মাওলানা ফারুক আহমেদ, ওয়েলস ডিভিশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ার আলী, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জালালিয়া  মসজিদের ঈমাম ও খতীব মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল মুক্তাদির, ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ আনোয়ার, জেনারেল সেক্রেটারি আনসার মিয়া, সংগঠনের জয়েন্ট সেক্রেটারি ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর, ট্রেজারার ক্বারী শাহ তসলিম আলী, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি সৈয়দ শামসুল হক রানু, 

ট্রেনিং এন্ড এম্পলয়মেন্ট সেক্রেটারি আব্দুল আজিজ আতিকুজ্জামান, মেম্বারশিপ সেক্রেটারি ক্বারি মুজাম্মিল আলী ও শাহজালাল মসজিদের সহকারী ঈমাম মাওলানা হাফিজ তাওহিদুল হক প্রমুখ।

সংগঠনের ব্রাঞ্চ কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি হাফিজ মাওলানা জালাল উদ্দীনের কোরআন তিলাওয়াত ও সদস্য মাওলানা মাকসুদুর রহমানের নাতে রাসুলের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মেম্বারশিপ কনফারেন্সে অন্যান্যদের মধ্যে সংগঠনের ব্রাঞ্চ কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অজিহুর রহমান মিজান,ভাইস প্রেসিডেন্ট জিলু মিয়া, এডুকেশন এন্ড কালচারাল সেক্রেটারি হাফিজ ইমরান আহমদ, ট্রেইনিং এন্ড এম্পলয়মেন্ট সেক্রেটারি হাফিজ ইব্রাহিম আলী মাসুদ, ও এক্সিউটিভ মেম্বার সেলিম আহমদ সহ  সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

কনফারেন্সে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, সদস্য বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভার শুরুতেই সম্মানিত প্রধান অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নব প্রজন্মের সন্তান মেহরাজ আহমেদ সহ কার্ডিফ ব্রাঞ্চ কমিটির নেতৃবৃন্দ। 

এদিকে  আনজুমানে আল- ইসলাহ ইউকে'র ওয়েলস ডিভিশনের কার্ডিফ ব্রাঞ্চের উদ্দ্যোগে জালালিয়া মসজিদে মিলাদ এবং ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মুহতারাম সভাপতি সাবেক এমপি হজরত মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য শেষে দোয়া ও মিলাদ পরিচালনা করেন। 

এর পূর্বে কার্ডিফজালালিয়া মসজিদ কমিটির সাথে অফিস হলে তিনি মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি কার্ডিফের  বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সেন্টারে পরিচালিত কার্ডিফ দারুস সুন্নাহ উইকেন্ড মাদ্রাসা ও পরিদর্শন করেছেন। 

মেম্বারশিপ কনফারেন্সে বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর মুহতারাম সভাপতি হযরত মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেছেন, সুন্দর ও সফল জীবন গঠনের জন্য মানুষের ভালো কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকা, সবসময় ভালো চিন্তা ও কল্যাণকর ভাবনাকে হৃদয়ে লালন করা এবং সত্যবাদী ও নেককার মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, ভালো মানুষের সঙ্গ মানুষের জীবনকে আলোকিত করে এবং তাকে সঠিক পথের সন্ধান দেয়। পক্ষান্তরে অসৎ সঙ্গ মানুষকে ধীরে ধীরে ভুল ও অন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে পারে। এজন্য আমাদের উচিত সত্যবাদী ও আল্লাহভীরু মানুষের সান্নিধ্যে থাকা এবং সমাজে এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মানুষ নৈতিকতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করতে পারে।

তিনি বলেন, একজন মানুষের বাহ্যিক কর্মের পাশাপাশি তার অন্তরের পরিশুদ্ধতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অন্তরকে অহংকার, হিংসা ও লোভের মতো ব্যাধি থেকে হেফাজত করতে হবে। কারণ এসব কুপ্রবৃত্তি মানুষের আত্মিক উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে বিভেদ ও অশান্তি তৈরি করে। তাই আমাদের অন্তরকে পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র রাখার জন্য সর্বদা প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রাখা জরুরি।

তিনি আরো বলেন, দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য আমাদেরকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তাই আমাদের উচিত নিজেদের কর্ম ও আমলের প্রতি সতর্ক থাকা এবং নিয়মিত আত্মসমালোচনা বা মুহাসাবা করা। প্রতিদিন নিজের কাছে হিসাব নেওয়া প্রয়োজন, আমি আজ কী ভালো কাজ করেছি, আমার দ্বারা কারও কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না এবং আমার চিন্তা ও কর্ম আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত হচ্ছে কি না।

মাওলানা হুছামুদ্দীন ফুলতলী আরও বলেন, আনজুমানে আল ইসলাহ কোনো জাগতিক বা পার্থিব স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন নয়। এটি মূলত মানুষের আত্মশুদ্ধি ও তাজকিয়ায়ে নফসের শিক্ষা লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তাই সংগঠনের প্রত্যেক দায়িত্বশীলকেই সর্বপ্রথম নিজের চরিত্র, চিন্তা ও আমলের সংশোধনের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

সংগঠনকে এগিয়ে নিতে অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনে আর ও নিষ্টা ও নিরলসভাবে কাজ করার আহবান জানিয়ে তিনি দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, সংগঠনের দায়িত্ব পালনে প্রত্যেককেই দায়িত্বশীলতার ভূমিকা পালন করতে হবে। যার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও আমানতদারিতার সাথে পালন করতে হবে। মনে রাখবেন, দ্বীনের কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের বাধাঁ, প্রতিকূলতা কিংবা সমালোচনার সম্মুখীনও হতে পারেন। কিন্তু সকল সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে ধৈর্য ও সবরের মাধ্যমে দ্বীনের কাজ আনজাম দিয়ে যেতে হবে বলে নিদের্শনা প্রদান করেছেন।

------------------------------