img

ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা : জিহ্বার অপব্যবহার মানুষের আমল ধ্বংসের কারণ হতে পারে

প্রকাশিত :  ১৬:২০, ২৯ আগষ্ট ২০২৬

ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা : জিহ্বার অপব্যবহার মানুষের আমল ধ্বংসের কারণ হতে পারে

শায়খ রাশিদ খান

গীবত, অপবাদ ও জিহ্বার অপব্যবহার মানুষের আমল ধ্বংসের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইমাম শায়খ রাশিদ খান।

গত ২১ আগস্ট শুক্রবার ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবায় ইমাম শায়খ রাশিদ খান বলেন, মুখ থেকে একটি কথা বের হতে খুব বেশি সময় লাগে না, কিন্তু সেই কথার পরিণতি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে । বর্তমান সময়ে মুখের কথার পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজ, ফেসবুক কমেন্ট বা যাচাই না করে কারও সম্পর্কে কিছু ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, একবার সাহাবি হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রা.) নবী মুহাম্মদ (সা:)-এর কাছে এমন আমল সম্পর্কে জানতে চান, যা তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। রাসুলুল্লাহ (সা:) নামাজ, রোজাসহ বিভিন্ন ইবাদতের কথা বলার পর নিজের জিহ্বা ধরে বলেন, “এটিকে সংযত রাখো।”

তিনি বলেন, এ হাদিস থেকে বোঝা যায় মানুষের জিহ্বা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অসতর্ক কথা একজন মানুষকে বড় ধরনের গুনাহের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

গীবতের সংজ্ঞা তুলে ধরে শায়খ রাশিদ খান বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) জানিয়েছেন, কারও অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে এমন কিছু বলা, যা সে অপছন্দ করে, সেটিই গীবত। কথাটি সত্য হলে তা গীবত, আর সত্য না হলে তা অপবাদ।

তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন, “আমি তো সত্য কথাই বলেছি।” কিন্তু সত্য হলেও কারও এমন দোষ বা বিষয় তার অনুপস্থিতিতে বলা, যা সে অপছন্দ করবে, তা গীবতের মধ্যে পড়ে।

শায়খ রাশিদ খান বলেন, গীবত শুধু কারও চরিত্র বা আচরণ নিয়ে কথা বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কারও চেহারা, উচ্চতা, ওজন, কণ্ঠস্বর, হাঁটার ভঙ্গি বা অন্য কোনো শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়েও উপহাস করা গীবতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

আয়িশা (রা.)-এর একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, একবার তিনি একজনের উচ্চতা নিয়ে মন্তব্য করলে রাসুলুল্লাহ (সা:) তাঁকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন । এতে বোঝা যায়, আমাদের কাছে তুচ্ছ মনে হওয়া একটি মন্তব্যও আল্লাহর কাছে গুরুতর হতে পারে।

বর্তমান সমাজে মানুষের চেহারা, শারীরিক গঠন বা কথা বলার ধরন নিয়ে হাসাহাসি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলোকে শুধু মজা হিসেবে নেওয়া ঠিক নয়। অন্যকে ছোট করা, অনুকরণ করে উপহাস করা কিংবা তার দুর্বলতাকে বিনোদনের বিষয় বানানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

যাচাই না করে কোনো কথা ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে শায়খ রাশিদ খান বলেন, মানুষ কোনো বিষয়কে তুচ্ছ মনে করলেও আল্লাহর কাছে তা গুরুতর হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি সুরা আন-নূরের ১৫ নম্বর আয়াতের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, গীবত অনেক সময় সরাসরি না হয়ে পরোক্ষভাবেও করা হয়। যেমন—“আমি কারও বদনাম করতে চাই না, কিন্তু…”, “লোকটি ভালো, তবে…”—এ ধরনের কথার মাধ্যমেও অন্যের দোষচর্চা হতে পারে।

শায়খ রাশিদ খান বলেন, গীবতের ক্ষেত্রে শুধু বক্তার নয়, শ্রোতারও দায়িত্ব রয়েছে । কোনো বৈঠক, আড্ডা বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে গীবত হলে তা বন্ধ করার চেষ্টা করা উচিত । সম্ভব না হলে সেই আলোচনা থেকে সরে যাওয়া উত্তম।

খুতবার শেষাংশে তিনি বলেন, ইসলাম মানুষকে শুধু নীরব থাকতে বলে না; বরং জিহ্বাকে ভালো কাজে ব্যস্ত রাখতে শিক্ষা দেয়। আল্লাহর জিকির, দরুদ ও ভালো কথার মাধ্যমে জিহ্বাকে অভ্যস্ত করা উচিত।

তিনি বলেন, মানুষের জিহ্বা যেমন তাকে জান্নাতের পথে নিয়ে যেতে পারে, তেমনি একটি অসতর্ক কথাও তার জন্য ধ্বংসের কারণ হতে পারে। তাই কথা বলার আগে চিন্তা করা এবং অন্যের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

শায়খ রাশিদ খান : অতিথি খাতীব, ইস্ট লন্ডন মস্ক এন্ড লন্ডন মুসলিম সেন্টার । জুমা\'র খুতবা ২১ আগস্ট ২০২৬ ।

ধর্ম এর আরও খবর

img

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

প্রকাশিত :  ০৬:৩২, ২৬ আগষ্ট ২০২৬

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটি মুসলিমরা যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদায় পালন করছেন।

আরবি বর্ষের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩ বছরের জীবনে মানবজাতিকে ইহকাল ও পরকালের মুক্তির পথ দেখিয়ে একই তারিখে তিনি ইন্তেকাল করেন।

আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকারে ডুবে থাকা আরব সমাজে আলোর দিশারি হয়ে আবির্ভূত হন মহানবী (সা.)। মক্কার কুরাইশ গোত্রের একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া হজরত মুহাম্মদ (সা.) অল্প বয়সেই সত্যবাদিতা ও সততার প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ক্ষমাশীলতা, দানশীলতা, সহিষ্ণুতা ও মানবিক গুণাবলির মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ।

৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভের পর দীর্ঘ ২৩ বছর তিনি ইসলামের বাণী প্রচার করেন। শুধু আধ্যাত্মিক শিক্ষাই নয়, মদিনায় ন্যায়, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্তও স্থাপন করেন তিনি।

সারাবিশ্বের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করছেন। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনেকে নফল নামাজ আদায় ও রোজা রাখছেন।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সাজানো হয়েছে কালেমাখচিত পতাকা ও জাতীয় পতাকায়।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণীতে দেশবাসী এবং মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাণীতে মহানবী (সা.) এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা-বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। দিনটি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি।