img

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিল ভারত ও পাকিস্তান

প্রকাশিত :  ১৪:২২, ১০ মে ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৩২, ১০ মে ২০২৫

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিল ভারত ও পাকিস্তান

এক সপ্তাহ ধরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে উত্তেজনা তা স্তমিত হচ্ছে। একে অপরের সামরিক স্থাপনায় হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে দেশ দুটি।

আজ শনিবার (১০ মে) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার একটি টুইট বার্তায়  বলেছেন, 'পাকিস্তান ও ভারত তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।'

তিনি লিখেছেন, “এই অঞ্চলে শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পাকিস্তান সবসময়েই চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং কখনোই নিজের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে আপোস করেনি।”

এর কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক্স প্ল্যাটফর্মে দেয়া একটি বার্তায় জানান যে, ভারত ও পাকিস্তান- দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

পাকিস্তানের বেসরকারি টিভি চ্যানেল জিও নিউজকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে ইসাক দার বলেন, “যুদ্ধ কোনো কিছুর জন্যই সমাধান নয়। আজ বিকাল সাড়ে চারটা থেকে (পাকিস্তানের সময়) যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে।”

আজ বিকাল ৫টা থেকে যুদ্ধবিরতি শুরুর কথা জানিয়েছে ভারত। দেশটি ঘোষণা করেছে যে স্থানীয় সময় আজ শনিবার বিকেল পাঁচটা থেকে স্থল, বিমান ও নৌ বাহিনী পাকিস্তানের দিকে সব ধরনের গুলি চালানো বন্ধ রাখছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছেন, “পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল মিলিটারি অপারেশন্স ভারতীয় সময় তিনটা ৩৫ মিনিটে ভারতের ডিরেক্টর জেনারেল মিলিটারি অপারেশন্সকে ফোন করেছিলেন। তাদের দুজনের মধ্যে স্থির হয়েছে আজ ভারতীয় সময় বিকেল পাঁচটা থেকে দুই পক্ষই সব ধরনের গুলি-গোলা চালানো এবং স্থল, আকাশ ও জলপথে সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করবে।"

দুই দেশের পক্ষ থেকে দুই দিকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই ডিজিএমও আবার ১২ তারিখ, সোমবার দুপুর ১২টার সময়ে কথা বলবেন বলে জানান মি. মিশ্রি।

এর আগে, নিজের ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ রাতব্যাপী আলোচনার পর, আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, ভারত ও পাকিস্তান একটি পূর্ণাঙ্গ এবং তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। সাধারণ জ্ঞান এবং দুর্দান্ত বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য উভয় দেশকে অভিনন্দন। এই বিষয়ে আপনার মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ!'

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তান “তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে এবং একটি নিরপেক্ষ স্থানে বিস্তারিত বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছে।”

এক্স-এ একটি পোস্টে তিনি আরও বলেছেন, “শান্তির পথ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদী (নরেন্দ্র মোদী) এবং শরিফের (শাহবাজ শরিফ) প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও রাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করি।”

তিনি বলেছেন, তিনি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত ৪৮ ঘণ্টা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ ঊর্ধ্বতন ভারতীয় ও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সাথে কাটিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ধ্বংসস্তুপের চিত্র প্রকাশ করলেই ধরে নিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি সেনারা

প্রকাশিত :  ১৭:৩৭, ০৯ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪৬, ০৯ মার্চ ২০২৬

ইরানে গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ১০ম দিনে গড়িয়েছে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ হিসেবে তেল আবিবসহ উগ্র ইহুদিবাদী অবৈধ ভূখণ্ডটিতে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে তেহরান। 

তবে এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে তার তেমন কিছুই প্রকাশ হচ্ছে না বলে ধারণা সচেতন মহলের। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, ভয়ঙ্কর ‘মিডিয়া ব্ল্যাকআউটের’ (তথ্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা) তথ্য।

ইসরাইলের দখল করা ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন আলজাজিরার রিপোর্টার নুর ওদেহ।

তিনি জানান, এই পুরো যুদ্ধজুড়ে—আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, আগে কখনও এমন কিছু দেখিনি—সামরিক সেন্সর কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ইরান বা হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেটগুলো ঠিক কোথায় পড়ছে এবং কতগুলো ছোড়া হয়েছে, সে সম্পর্কিত তথ্যের ওপর তারা মূলত একটি সংবাদ ব্ল্যাকআউট জারি করেছে। যেসব সাংবাদিক অন-এয়ারে বা সরাসরি সম্প্রচারে 'প্রয়োজনের চেয়ে বেশি' তথ্য বলছেন বলে মনে করা হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ তাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে আমরা জানতে পেরেছি যে, আজ সোমবার (৯ মার্চ) ইসরাইলের তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী একটি এলাকায় দুজন নিহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে আমরা জানতে পেরেছি, ইরান যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে তার কয়েকটিতে 'ক্লাস্টার ওয়ারেড' বা গুচ্ছ বোমা রয়েছে। এর অর্থ হলো, এগুলো আঘাত হানার সময় খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায় এবং অনেক বড় ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে।

লক্ষ্যবস্তু হওয়া এলাকাগুলোতে কোনো অবিস্ফোরিত গোলা রয়ে গেছে কিনা তা নিশ্চিত করতে জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোর দীর্ঘ সময় লাগছে। 

এসব কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও তা প্রকাশ করছে না কর্তৃপক্ষ- ধারণা সচেতন মহলের।

সোমবার ইসরাইলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছে বলে প্রকাশ করেছে তেল আবিব। তবে নুর ওদেহর বক্তব্য থেকে জানা যায়, এ ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছে।