img

নিবন্ধন ফিরে পেতে জামায়াতের আপিল শুনানি শুরু

প্রকাশিত :  ০৫:৫৪, ১৩ মে ২০২৫

নিবন্ধন ফিরে পেতে জামায়াতের আপিল শুনানি শুরু

রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৩ মে) সকাল ১০টা থেকে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে শুনানি চলছে।

জামায়াতের পক্ষে শুনানি করছেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক। তাকে সহযোগিতা করছেন ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন।

আদালত কক্ষে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম, সহকারী সেক্রোটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল উপস্থিত রয়েছেন।

এর আগে গত ৭ মে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পেতে আপিল শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ দিন ধার্য করেন।

গত ১২ মার্চ রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে আপিল শুনানি শুরু হয়। এরপর আর শুনানি হয়নি।

গত বছরের ২২ অক্টোবর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করে দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ। এর ফলে নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ফিরে জামায়াতের আইনি লড়াই করার পথ খুলে যায়।

ওই সময় প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেছিলেন ব্যারিস্টার এহসান এ. সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড আলী আজম।

তার আগে গত ১ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদনের শুনানির জন্য ২২ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত এ দিন ধার্য করেন।

আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে খারিজ হওয়া আপিলটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

এক রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এরপর ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরে হাইকোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াতে ইসলামী। 

তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানিতে জামায়াতের মূল আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় ২০২৩ সালের নভেম্বরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগ ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ বলে আপিল খারিজের আদেশ দেন। 

ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল থাকে।

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গত ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে শেখ হাসিনার সরকার। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারায় জামায়াত, ছাত্রশিবিরসহ তাদের অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে গত ২৮ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জাতীয় এর আরও খবর

img

হাদির খুনির সঙ্গে সেলফি, মুখ খুললেন ডাকসু নেত্রী জুমা

প্রকাশিত :  ১১:৫৬, ০৯ মার্চ ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমার ছবি জড়িয়ে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন জুমা। তিনি বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ছবি ব্যবহার করে ভুল বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

দেশের এক বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাতেমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘আমার যদি কোনো দোষ থাকে, তাহলে প্রশাসনের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে যাতে আমাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর যাতে ইন্টারোগেশন (তদন্ত) করে। ইন্টারোগেশনের পর যদি কিছু পায় তারা যাতে সেটা সঠিকভাবে ব্যবহার করে।

তিনি বলেন, ‘যদি মনে করেন, আমাকে কেউ দোষী বানাতে চায়; ফাঁসাতে চায়। আলটিমেটলি সত্য তো কখনো গোপন থাকে না; সত্য তো একদিন না একদিন সামনে আসবেই। হয়তো আমাকে গ্রেপ্তার করবে বা রিমান্ডে নেবে; যেভাবে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়াজ তুলছে। এটা মূলত এখন শুরু হয়নি; এটি সেদিন থেকে শুরু হয়েছে যেদিন ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।’

জুমা বলেন, ‘তাদের ভয়ের জায়গা হচ্ছে, যদি শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হয়, সেই বিচারটা হলে আসলে অনেকেই ফেঁসে যাবেন। যদি কেউ মনে করে আমাকে বা জাবের ভাইকে ফাঁসিয়ে অথবা ইনকিলাব মঞ্চকে চুপ করিয়ে তারা যদি ভাবে হাদি হত্যার বিচার ধামা চাপা দেওয়া যাবে- তাদের আসলে সেই আশা গুড়ে বালি। কারণ বাংলাদেশের আট লাখ মানুষ একটি মানুষের জানাজায় অংশ নিয়েছিল, পুরো বাংলাদেশের মানুষ বার বার তার কবর জিয়ারত করছে। সারা বাংলাদেশের মানুষ হাদি হত্যার বিচার দাবি করছে, সেখানে জুমা বা জাবেরকে দমিয়ে বিচার বন্ধ করা যাবে না।’

এদিকে, প্রচারিত ফটোকার্ডে দেখা যায়, ফয়সাল করিম মাসুদ এবং ফাতেমা তাসনিম জুমা পাশাপাশি হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে বসে আছেন। ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, ‘হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে জুমার ছবি ভাইরাল।’

দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ছবিটি এআই নির্মিত।

ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বার্তা বাজারে গত ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং হত্যা মামলার আরেক আসামি আলমগীর হোসেনের একই ধরনের একটি ছবি পাওয়া যায়। তবে, দিগন্ত টিভি নামে ফেসবুক পেজটি দিগন্ত টিভির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ কি না সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


জাতীয় এর আরও খবর