img

আর্থিক দুরবস্থার ১৮ ব্যাংকের ডিভিডেন্ড নিষিদ্ধ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিত :  ০৮:৪৬, ২৮ মে ২০২৫

আর্থিক দুরবস্থার ১৮ ব্যাংকের ডিভিডেন্ড নিষিদ্ধ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

আর্থিক দুরবস্থা ও প্রভিশন ঘাটতির কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৮ ব্যাংককে লভ্যাংশ দিতে নিষেধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া অর্থবছরের জন্য এসব ব্যাংক কোনো প্রকার লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

এই নির্দেশনা ২১ মে জারি করা এক চিঠির মাধ্যমে দেওয়া হয়, যেখানে ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১-এর ২২ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা দুর্বল এবং প্রভিশন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো

এবি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) এবং রূপালী ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, যেসব ব্যাংক প্রভিশন ঘাটতি পূরণে ‘ডেফারেল সুবিধা’ নিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ডিভিডেন্ড বিতরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রভিশন ঘাটতি ও সময়সীমা বৃদ্ধি

প্রভিশন ঘাটতির কারণে নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ব্যাংকগুলো নির্ধারিত সময় ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হয়। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের অনুমোদন নিয়ে সময়সীমা ৩১ মে পর্যন্ত বাড়ায়। একইসঙ্গে প্রভিশন সংরক্ষণের জন্য অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা ও ভবিষ্যৎ বিধিনিষেধ

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রভিশন ঘাটতির তথ্য ব্যাংকগুলোর ২০২৪ সালের আর্থিক বিবরণীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি লাভ-ক্ষতি, মূলধন পর্যাপ্ততা ও অন্যান্য ঘাটতির বিষয়গুলোও বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

এক মাসের মধ্যে বোর্ড অনুমোদিত একটি সময়বদ্ধ ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও দাখিলকৃত তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে ব্যাংক কোম্পানি আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া, ২০২৪ সাল থেকে যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণে ডেফারেল সুবিধা নেবে, তাদের ডিভিডেন্ড দেওয়া নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যেসব ব্যাংকের মোট ঋণের ১০ শতাংশের বেশি খেলাপি থাকবে, তাদের উপরও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।

বিএবি’র প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ব্যাংকের ওপর জনগণের আস্থার ভিত্তি হলো আমানতকারী, শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহক। ডিভিডেন্ড বন্ধ থাকলে এই আস্থায় চিড় ধরতে পারে।” নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করলেও তারা অবস্থান থেকে সরে আসেনি বলে জানান তিনি।

ডিভিডেন্ড ঘোষণাকারী ব্যাংকসমূহ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৬টি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে এবং ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। এদের মধ্যে রয়েছে:

সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, যমুনা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও মিডল্যান্ড ব্যাংক।

ওয়ান ব্যাংক মুনাফা করলেও ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। অপরদিকে, ঢাকা ব্যাংক শেষ মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।

img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির আভাসে বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

প্রকাশিত :  ০৭:৫৮, ২৯ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে আশাবাদের আবহ তৈরি হয়েছে। এরই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। সামান্য কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।

যদিও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, তবুও যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়ার সম্ভাবনা বাজারে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আজ শুক্রবার (২৯ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের জুলাই ডেলিভারির দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৫ সেন্ট বা ০.৩৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ৩৬ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৬৩ সেন্ট বা ০.৭১ শতাংশ কমে ৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে নেমেছে।

অন্য দিকে বেশি লেনদেন হওয়া আগস্টের ব্রেন্ট ফিউচারস ৪৬ সেন্ট বা ০.৫০ শতাংশ কমে ৯২ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত এক সপ্তাহে তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। এই সময়ে ব্রেন্টের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমেছে। গত সপ্তাহে যেখানে দাম ১০৯ দশমিক ৪৭ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, সেখানে তা নেমে আসে ৮৭ দশমিক ১১ ডলারে।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর গুঞ্জনের কারণে বাজারে এমন ওঠানামা হচ্ছে। বিশ্বে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে বৃহস্পতিবার একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তির অনুমোদন দেননি। এছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো কিছু জটিলতা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম মজুত ও সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দুই দেশ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স