সুনামগঞ্জ জলার শান্তিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাতনামা এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ মে) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের পাগলা বাঘেরকোনা নবীনগর রাস্তার মুখে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে এই সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে৷ তবে নিহত ওই নারীর কোন পরিচয় পাওয়া না গেলেও তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে পাগলা বাঘেরকোনা এলাকার সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা একটি অজ্ঞাতনামা প্রাইভেট কার ওই মানসিক ভারসাম্যহীন পথচারী নারীকে চাপা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ সুরতহাল করে।
শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আকরাম আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রকাশিত :
০৭:৩৩, ১৬ মার্চ ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ০৮:০৫, ১৬ মার্চ ২০২৬
সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় গত দুই রাতের বৃষ্টিতে কয়েকটি ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধে ফাটল ও ধস নামার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কে আছে বলে জানিয়েছে স্থাণীয় স্থানীয় কৃষকরা ।
কৃষকদের অভিযোগ, ফসল রক্ষার নামে দায়সারা বেড়িবাঁধ নির্মাণ সংস্কার কাজ করছে সংশ্লিষ্টরা। চৈত্রের শুরু হয়ে গেলেও এখনও পুরোপুরিভাবে শেষ হয়নি অধিকংশ বেড়িবাঁধের কাজ। ফলে হাওরের বোরো ধান তুলা নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার নলুয়ার হাওরের ১১ নম্বর প্রকল্পে দ্বিতীয় দফা সময় বৃদ্ধির (১৫ দিন আবেদনের পরও) শনিবার পর্যন্ত মাটির কাজ শেষ হয়নি। ৩ নম্বর প্রকল্প, আশারকান্দি ইউনিয়নের ৯৪ নম্বর প্রকল্পে ফাটল দেখা দিয়েছে। তাছাড়া মিরপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জামাইকাটা হাওরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধে ফাটল ও ধস দেখা দেওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।
কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দায়সারা বাঁধ নির্মাণ করে বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। এই বেড়িবাঁধ নিয়ে আমরা আতংকে রয়েছি। যদি বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকে পড়ে তবে হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্ন তলিয়ে যাবে। আমরা এখন রাতে ঘুমাতে পারছি না। জামাই কাটাসহ হাওরের বিভিন্ন বেড়িবাঁধের কাজ ভালো হয়নি। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ অবস্থায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অকাল বন্যার আশঙ্কায় হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
জামাইকাটা হাওরের ৩৬ নং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ০.০৫৮ কি.মি. দৈর্ঘ্যর বাধঁ নির্মান / মুখ বন্ধ করন কাজের জন্য ৮ লক্ষ ছয় লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। স্হানীয় কৃষক তানভির মিয়া জানান, ৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৩ লক্ষ টাকারও কাজ হয়নি। দায়সারা বাঁধ নির্মাণের ফলে সামান্য বৃষ্টিতে বাঁধ ধসে পড়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. গয়াছুর রহমান বলেন, আমি কোন ফাটল বা ধস দেখতে পাইনি। এই হাওরে আমার নিজের অনেক জমি রয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি এখনো। বাঁধের ত্রুটি মেরামত করে দিবো।
জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী শাহ ফরিদ মিয়া জানান, জামাই কাটা হাওরে বেড়িবাঁধে ফাটল শুনেছি। এছাড়াও ৩ ও ৯৪ নম্বর প্রকল্পে সামান্য ফাটল দেখা দিয়েছে। সেগুলো মেরামত করা হয়েছে। ১১ নম্বর প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে কাজ চলমান রয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ জানান, সময়ে সময়ে হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ তদারকি করছি আমরা। আশা করছি কোন সমস্যা হবে না ।