img

পূর্ব লন্ডনে ছেলের হাতে বাংলাদেশি মা খুন

প্রকাশিত :  ১০:২৩, ০১ জুলাই ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৭, ০১ জুলাই ২০২৫

পূর্ব লন্ডনে ছেলের হাতে বাংলাদেশি মা খুন

পূর্ব লন্ডনে টাওয়ার হ্যামলেটসে ছেলের ছুরিকাঘাতে মারা গেছেন প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি মা। শনিবার অভিযুক্তকে আদালতের মাধ‌্যমে কারাগা‌রে পাঠা‌নো হ‌য়ে‌ছে। জানা গেছে, হত‌্যাকা‌ণ্ডের সময় বাবা ঘরের বাইরে ছিলেন। ঘ‌রে অন‌্য কেউ ছি‌লেন না।

স্থানীয় পু‌লিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাত আনুমানিক ১১টা ১ মিনিটে ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে পুলিশকে মনিয়ার রোডের একটি ঠিকানায় ডাকা হয়। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক মহিলাকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার ক‌রে, প‌রে তি‌নি মারা যান। 

এই ঘটনায় টাওয়ার হ্যামলেটসের ম্যালমেসবারি রোডের ২৭ বছর বয়সী লায়েক মিয়াকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাকে শনিবার (২৮ জুন) টেমস ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় এবং কারাগা‌রে পাঠানো হয়। আগামী মঙ্গলবার (১ জুলাই) তাকে সেন্ট্রাল ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির করার কথা রয়েছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসে পুলিশিংয়ের নেতৃত্বদানকারী গোয়েন্দা সুপারিনটেনডেন্ট মাইক ক্যাগনি জানিয়েছেন, স্থানীয় সম্প্রদায় স্বাভাবিকভাবেই হতবাক হতে পারে, তবে এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে এবং জনসাধারণের জন্য ব্যাপক কোনও হুমকি নেই। তিনি বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করেছেন যে পুলিশ দ্রুততার সাথে ঘটনাটি পুরোপুরি বোঝার জন্য কাজ করছে এবং এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হতে পারে।

জানা গেছে, অভিযুক্ত ছেলে এই ঠিকানায় বসবাস করতেন না। হত্যাকারী মাদকাসক্ত ছিলেন কিনা, তা জানা যায়নি। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, পারিবারিক কলহের জেরেই এই ঘটনা ঘটতে পারে।

এই তদন্তে সহায়ক হতে পারে এমন যেকোনও তথ্য নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তথ্য ১০১ নম্বরে কল করে, CAD9509/26JUN উল্লেখ করে অথবা স্বাধীন দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্সকে ০৮০০ ৫৫৫ ১১১ নম্বরে বেনামে যোগাযোগ করে দেওয়া যেতে পারে।

স্থানীয় সূত্রগু‌লো জানায়, নিহতের স্বামী স্থানীয় মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি; তিনি সব সময় সেখানেই নামাজ আদায় করেন। ঘটনার সময়ও তি‌নি মস‌জি‌দে ছি‌লেন।

বাবা মসজিদে থাকার সুযোগে ঘরে আর কেউ না থাকায় ঘাতক তার মাকে খুন করেছে, নাকি কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে খুনের ঘটনা ঘটেছে, তা স্পষ্ট নয়।

নিহত গৃহবধূর বাড়ি সিলেটের সুনামগঞ্জে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পাওয়ার পর জানাজার সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হবে। এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য স্থানীয় কাউ‌ন্সি‌লের নিরাপদ সম্প্রদায় বিষয়ক কেবিনেট সদস্য কাউন্সিলর আবু তালহা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হ‌লেও তা‌কে পাওয়া যায় নি।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

টাওয়ার হ্যামলেটসে তিন অসাধু বাড়িওয়ালা নিষিদ্ধ

প্রকাশিত :  ১৭:২২, ১২ জুন ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সফল আইনি পদক্ষেপের ফলে তিনজন অসাধু বাড়িওয়ালাকে প্রাইভেট রেন্টিং সেক্টর থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী আর এন্ড জি লিমেটেড এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রাফায়েল মেন্ডেস টরেস ও এভান্দ্রো দোস সান্তোস গোমেসের বিরুদ্ধে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনাল। পপলার এলাকায় একটি লাইসেন্সবিহীন ও খারাপভাবে পরিচালিত প্রপার্টির সঙ্গে জড়িত গুরুতর আইন লঙ্ঘনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মামলাটি ই-ফোরটিন এলাকার কেম্পস ড্রাইভের একটি ফ্ল্যাটকে ঘিরে, যা জানুয়ারি ২০২২ থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই ‘হাউস অব মাল্টিপল অকুপেশন’  বা (এইচএমও) হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল। তদন্তে উঠে আসে, দুই বেডরুমের ফ্ল্যাটটিকে পরিবর্তন করে পাঁচটি কক্ষে রূপান্তর করা হয়, যার ফলে ওভারক্রাউডিং ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়। ফ্ল্যাটটিতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ছয়জন ভাড়াটিয়া বসবাস করছিলেন।

তদন্তে উঠে এসেছে ফ্ল্যাটটিতে ইঁদুর, তেলাপোকা ও বেডবাগের উপস্থিতি, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ, ফায়ার ডোর ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের অভাব, ভাড়াটিয়াদের ডিপোজিট সুরক্ষিত না রাখা এবং কোনো লিখিত চুক্তি ছিলোনা। একজন ভাড়াটিয়া জানান, সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে বাড়িওয়ালারা ভাড়া বাড়িয়ে দেন।

এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের অপরাধে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, বাড়িওয়ালারা তাদের আইনি দায়িত্ব সম্পর্কে “বিপজ্জনক অজ্ঞতা” প্রদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতির উন্নতিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। একই সঙ্গে  ভাড়াটিয়া ও কাউন্সিলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, ভাড়াটিয়াদের ঝুঁকিতে ফেলে দেয় এমন অসাধু বাড়িওয়ালাদের আমরা সহ্য করব না। নিরাপদ ও সঠিকভাবে পরিচালিত ঘরবাড়ির অধিকার রয়েছে বারার প্রত্যেক বাসিন্দার।”

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে অভিযুক্তরা তিন বছর ধরে ইংল্যান্ডে কোনো বাসা ভাড়া দেওয়া, রেন্টাল প্রপার্টি পরিচালনা বা লেটিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন না। এটি কার্যকর হবে আগামী ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অন্যতম কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এটি লঙ্ঘন করলে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

ঘরবাড়ির পরিবেশ বা বাড়িওয়ালাকে নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে [email protected]এ যোগাযোগ করতে বলেছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। 

কমিউনিটি এর আরও খবর