img

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ফেরিডুবি, নিখোঁজ ৪৩

প্রকাশিত :  ০৫:৫৪, ০৩ জুলাই ২০২৫

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ফেরিডুবি, নিখোঁজ ৪৩

ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ বালির কাছে যাত্রীবাহী একটি ফেরি ডুবে গেছে। ফেরিটিতে ৬৫ জন যাত্রী ছিলেন এবং এই ঘটনায় ৪৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এমন অবস্থায় নিখোঁজদের উদ্ধারে সমুদ্রে উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে রাতভর অনুসন্ধান চালিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।

আজ বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় উদ্ধার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, “কেএমপি তুনু প্রত্যমা জয়া” নামের ফেরিটি বুধবার রাতের দিকে পূর্ব জাভার কেটাপাং বন্দর থেকে ছাড়ার প্রায় ৩০ মিনিট পরই ডুবে যায়। ফেরিটি বালির গিলিমানুক বন্দরের দিকে যাচ্ছিল, যা প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

ফেরিটিতে মোট ৫৩ জন যাত্রী, ১২ জন কর্মী এবং ২২টি যানবাহন ছিল। যানবাহনগুলোর মধ্যে ১৪টিই ট্রাক।

আল জাজিরা বলছে, ফেরিডুবির এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের অনেকেই দীর্ঘ সময় ঢেউয়ের মধ্যে ভেসে থাকার পর অচেতন হয়ে পড়েছিলেন।

বানিউওয়াঙ্গির পুলিশ প্রধান রামা সম্তামা পুত্র জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীদের উদ্ধারের সময় সাগরে ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল প্রায় দুই মিটার (৬.৫ ফুট)। উদ্ধারে অংশ নিয়েছে ৯টি নৌযান, যার মধ্যে দুইটি টাগ বোট ও দুইটি রাবার বোটও রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইন্দোনেশিয়া ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। এ কারণে ফেরি চলাচলই এখানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার অন্যতম উপায়। তবে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় প্রায়ই ঘটে নৌ দুর্ঘটনা।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

হরমুজ নিয়ে নতুন জোটে যোগ দিতে বিদেশি সরকারদের চাপ দেবে মার্কিন দূতাবাস

প্রকাশিত :  ১১:১৯, ০১ মে ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে ওয়াশিংটন। যেটিতে কূটনৈতিক সমন্বয় করবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং প্রতিরক্ষা সমন্বয় করবে পেন্টাগন।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এএফপিকে বলেন, ‘মেরিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট’ বা এমএফসি নামের এই জোট প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেবে। এর মধ্যে আছে রিয়েলটাইম তথ্য সরবরাহ, নিরাপত্তা নির্দেশনা ও সমন্বয়। 

মূলত একটি কূটনৈতিক বার্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানান। এএফপি লিখেছে, ওই কূটনৈতিক বার্তায় মার্কিন দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা যেন বিদেশি সরকারগুলোকে এই জোটে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে।

কূটনৈতিক বার্তাটির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী দেশ ও জাহাজ শিল্পের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় করবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেন্টকমের মাধ্যমে সমুদ্রপথে চলাচল পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবে। 

দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা শুক্রবারের মধ্যে অংশীদার দেশগুলোর কাছে মৌখিকভাবে কূটনৈতিক বার্তাটি পৌঁছে দেবে। তবে রাশিয়া, চীন, বেলারুশ, কিউবা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্য প্রতিপক্ষরা এর আওতায় থাকবে না। এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ বিভিন্নভাবে হতে পারে। যেমন- কূটনৈতিক সহযোগিতা, তথ্য আদান-প্রদান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, নৌবাহিনীর উপস্থিতি কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের সহায়তা করা।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন উদ্যোগের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোকে নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মোজতবা বলেন, ‘আজ থেকে হরমুজ প্রণালিতে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে।’ তিনি এর ধরন নিয়ে কিছু উল্লেখ করেননি। তবে এ জলপথ দিয়ে তেল রপ্তানি করা দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমেরিকাকে ছাড়াই এখন তাদের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে।’ একই সঙ্গে বলেছেন, জলপথের মতো তেহরান নিজেদের পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতাও বজায় রাখবে।

মোজতবার এই বিবৃতির একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন আলজাজিরার সাংবাদিক সরদার আতাস। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরান এখনো তাদের অধিকার ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে। এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে এবং আলোচনায় এটিকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগবে। 


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর