img

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ভয়াবহ বন্যায় ২৪ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৬:১৪, ০৫ জুলাই ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ভয়াবহ বন্যায় ২৪ জনের মৃত্যু

আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস। এ অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ। বন্যায় ২৫টি মেয়ে শিশু হারিয়ে যাওয়ার তথ্য আসলেও মোট কত মানুষ নিখোঁজ আছে সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আজ শনিবার (৫ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৌসুমি বৃষ্টির কারণে রাজ্যের গুয়াদালুপে নদীর পানি প্লাবিত হয়ে বন্যা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকালীন ওই ক্যাম্প নদীর ধারেই ছিল।  

সেখানে একটি সামার ক্যাম্পে অংশ নেয়া ২৩-২৫টি মেয়েকে খুঁজে পেতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চলছে। এছাড়া ওই ক্যাম্পে আটকে পড়া বাকি শিশুদের উদ্ধার করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টেক্সাসের বন্যাকে \"ভয়াবহ\" ও \"মর্মান্তিক\" বলে উল্লেখ করেছেন।

বন্যায় ওই অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর ক্ষতি হওয়ায় লোকজনের সাথে যোগাযোগ কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বন্যার কারণে টেক্সাসে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।

ওদিকে এখন পর্যন্ত ২৩৭ জন ব্যক্তিকে উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে। হেলিকপ্টার ছাড়াও \'হাই প্রোফাইল ট্যাকটিক্যাল\' সামরিক বাহন উদ্ধার তৎপরতায় মোতায়েন করা হয়েছে।

টেক্সাসের গভর্নর ড্যান প্যাট্রিক শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ৪৫ মিনিটের মধ্যে গুয়াদালুপে নদীর পানি ২৬ ফুট বেড়ে যায়। তিনি এই বন্যাকে ধ্বংসাত্বক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কাউন্টি শেরিফ ল্যারি এল লেইথা জানিয়েছেন যে মৃতের সংখ্যা ২৪-এ উন্নীত হয়েছে, তবে তাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তাদের পরিবারকে এ বিষয়ে অবহিত করা হচ্ছে।

ওদিকে গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোট একটি জরুরি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন, যাতে উদ্ধারকর্মীদের সব ধরনের সহায়তা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেছেন, যারা এখনো নিখোঁজ তাদের খুঁজে পেতে নিরবচ্ছিন্ন তল্লাশি চলছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে।

\"রাতের অন্ধকারেও অভিযান চলবে। এটা চলতে থাকবে,\" বলেছেন তিনি। 

দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, টেক্সাসের পশ্চিম-মধ্যাঞ্চলে আরও বন্যার আশঙ্কা আছে।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে হওয়া বৃষ্টির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মাঝারি মানের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতেরও শঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ মধ্যাঞ্চলীয় টেক্সাসেও বন্যার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া বিভাগ থেকে লোকজনকে সতর্ক করা হচ্ছে। নদীর তীর এলাকা অস্থিতিশীল ও অনিরাপদ হয়ে উঠতে পারে বলে বলা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের নতুন প্রস্তাবের যে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ট্রাম্পের

প্রকাশিত :  ০৬:০৯, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

তেহরান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করে একটি স্থায়ী সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে ৩টি স্তর বা পর্যায়ের নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন এই প্রস্তাবের একটি পর্যায় নিয়ে আপত্তি আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।

কয়েক দিন আগে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩ স্তরের নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে ইরান। নতুন সেই প্রস্তাবের বলা হয়েছে, প্রথম স্তরে ইরান এবং লেবাননে যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং এই দুই দেশে আর মার্কিন কিংবা ইসরায়েলি হামলা হবে না— এই নিশ্চয়তা দিতে হবে।

দ্বিতীয় স্তরে ইরানের বন্দরগুলো এবং হরমুজ প্রণালি থেকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নেবে এবং প্রণালি পরিচালনা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা নিয়ে আলোচনা চলবে।

তৃতীয় পর্যায়ে বলা হয়েছে, যদি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের সঙ্গে এই যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ মীমাংসায় পৌঁছায়, তখন ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।

এই বিষয়টি নিয়েই মূল আপত্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। কারণ তিনি চাইছেন, আগে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হবে— তারপর ইরানি বন্দরগুলো এবং হরমুজ থেকে মার্কিন অবরোধের প্রসঙ্গ আসবে।

গতকাল বুধবার এক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “তারা (ইরান) একটা মীমাংসায় পৌঁছাতে চায়। তারা চায়, আমি যেন হরমুজ থেকে মার্কিন প্রহরা প্রত্যাহার করি। তবে আমি এটা চাই না। আগে (পরমাণু প্রকল্প নিয়ে) সমঝোতা হবে— তারপর অন্য সবকিছু। ইরান পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হবে— এটা আমি কোনোভাবেই চাই না।”

গত ১২ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি এবং কোনো ইরানি জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে সাগরে যেতে না পারে— সেজন্য প্রণালির চারপাশে কঠোর প্রহরা জারির নির্দেশ দেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এ প্রহরা জারি আছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে— ইরানে বোমাবর্ষণের চেয়েও এই অবরোধ-প্রহরা অনেক বেশি কাজে দিচ্ছে।

“এই অবরোধ এমনকি বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি কাজে দিচ্ছে। তারা দমবন্ধকর অবস্থায় পৌঁছাচ্ছে এবং যদি অনড় অবস্থায় থাকে— তাহলে সামনে আরও খারাপ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। তারা কোনোভাবেই পরমাণু বোমার অধিকারী হতে পারবে না।”

“এখন প্রশ্ন হলো, এই অবস্থা আর কতদিন চলবে কিংবা তারা আর কতদূর যেতে পারবে। আমি বলতে পারি, এই মুহূর্তে আমরা যেখানে আছি— তারা যদি পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী না হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যে না পৌঁছায়— তাহলে কোনো ইস্যুতে কোনো অগ্রগতি হবে না”, এক্সিওসকে বলেছেন ট্রাম্প।

সূত্র : এক্সিওস

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর