img

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে ব্যারিস্টার নাজির আহমদের নেতৃত্বে প্রবাসী নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ ও স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশিত :  ১১:২৩, ০৮ জুলাই ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৮, ০৮ জুলাই ২০২৫

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে ব্যারিস্টার নাজির আহমদের নেতৃত্বে প্রবাসী নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ ও স্মারকলিপি প্রদান

প্রবাসী বাংলাদেশীদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী ভোটাধিকার অবিলম্বে পূর্ন নিশ্চিত করণের দাবীতে আন্দোলনরত “প্রবাসী ভোটাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ” - এর কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ আজ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম নাসির উদ্দিনের সাথে সাক্ষাৎ ও দীর্ঘ বৈঠক করেন। আগারগাঁস্থ নির্বাচন কমিশন ভবনে পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার নাজির আহমদের নেতৃত্বে চার সদস‍্যবিশিষ্ট ডেলিগেশন আরো উপস্থিত ছিলেন  কমিটির অন্যতম সদস্য লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার ইকবাল হোসাইন, ব্যারিস্টার মোজাক্কির হোসাইন এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এম রহমান মাসুম। 

ঘন্টাব‍্যাপী বৈঠকে নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাটি  পূরণে অন্তর্বর্তী সরকারের ইতিবাচক সাড়ার পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্বেগের কথা অবহিত করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আন্তরিকতার সাথে নেতৃবৃন্দের কথা শুনেন এবং কমিশনের আন্তরিক প্রচেষ্টাসমূহ তুলে ধরেন। বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতার করার আশ্বাস প্রদান করা হয়। বৈঠক শেষে প্রবাসী ভোটাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের একটি স্মারকলিপি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

পরে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়ন সম্পর্কিত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব:) আবুল ফজল মু. সানাউল্লাহর সাথে প্রবাসী ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ বিষয়ে ঘন্টা ব্যাপী বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় করেন প্রবাসী ভোটাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ নেতৃবৃন্দ।

এক প্রতিক্রিয়ায় ডেলিগেশনের নেতৃত্ব দানকারী ব‍্যারিস্টার নাজির আহমদ বলেন, দীর্ঘ আলাপে যথাক্রমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মহোদয় ও নির্বাচন কমিশনার মহোদয়কে খুবই আন্তরিক মনে হয়েছে। তবে তাদের সামনে বহুমুখী বাঁধা ও চ্যালেঞ্জ আছে। ১৪৭টি দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দেড় কোটি প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও নিশ্চিত করা চাট্রিখানি কথা নয়। আমরা প্রাবাসীদের ভোটার তালিকা করার বিভিন্ন পদ্ধতি, ভোট গ্রহণের বিভিন্ন উপায় ও মাধ‍্যম, কমিশনের আরো দৃশ্যমান তৎপরতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় করেছি। তাঁরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আমাদের কথা ও পরামর্শগুলো শুনেছেন। 

ব‍্যারিস্টার নাজির আহমদ আরো বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলেছি গত ৫৪ বছরে রাজনৈতিক সরকারগুলো শুধু মুলা ঝুলিয়ে রেখেছিলো, প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি। অথচ প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন। গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের অবদান ও ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পলিটিক্যাল কোন ব‍্যাগেজ নেই। তাই বর্তমান সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশন যদি প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত না করেন তাহলে আমরা আমাদের জীবদ্দশায় সম্ভবত: এই অধিকার পাবো না। সুতরাং যে কোন মূল‍্যে আগামী নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই হবে। দেশের এক দশমাংশ ভোটারদের বাদ দিয়ে বা বন্চিত করে গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর নির্বাচন সম্ভব নয়। 


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

টাওয়ার হ্যামলেটসে তিন অসাধু বাড়িওয়ালা নিষিদ্ধ

প্রকাশিত :  ১৭:২২, ১২ জুন ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সফল আইনি পদক্ষেপের ফলে তিনজন অসাধু বাড়িওয়ালাকে প্রাইভেট রেন্টিং সেক্টর থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী আর এন্ড জি লিমেটেড এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রাফায়েল মেন্ডেস টরেস ও এভান্দ্রো দোস সান্তোস গোমেসের বিরুদ্ধে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনাল। পপলার এলাকায় একটি লাইসেন্সবিহীন ও খারাপভাবে পরিচালিত প্রপার্টির সঙ্গে জড়িত গুরুতর আইন লঙ্ঘনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মামলাটি ই-ফোরটিন এলাকার কেম্পস ড্রাইভের একটি ফ্ল্যাটকে ঘিরে, যা জানুয়ারি ২০২২ থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই ‘হাউস অব মাল্টিপল অকুপেশন’  বা (এইচএমও) হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল। তদন্তে উঠে আসে, দুই বেডরুমের ফ্ল্যাটটিকে পরিবর্তন করে পাঁচটি কক্ষে রূপান্তর করা হয়, যার ফলে ওভারক্রাউডিং ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়। ফ্ল্যাটটিতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ছয়জন ভাড়াটিয়া বসবাস করছিলেন।

তদন্তে উঠে এসেছে ফ্ল্যাটটিতে ইঁদুর, তেলাপোকা ও বেডবাগের উপস্থিতি, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ, ফায়ার ডোর ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের অভাব, ভাড়াটিয়াদের ডিপোজিট সুরক্ষিত না রাখা এবং কোনো লিখিত চুক্তি ছিলোনা। একজন ভাড়াটিয়া জানান, সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে বাড়িওয়ালারা ভাড়া বাড়িয়ে দেন।

এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের অপরাধে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, বাড়িওয়ালারা তাদের আইনি দায়িত্ব সম্পর্কে “বিপজ্জনক অজ্ঞতা” প্রদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতির উন্নতিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। একই সঙ্গে  ভাড়াটিয়া ও কাউন্সিলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, ভাড়াটিয়াদের ঝুঁকিতে ফেলে দেয় এমন অসাধু বাড়িওয়ালাদের আমরা সহ্য করব না। নিরাপদ ও সঠিকভাবে পরিচালিত ঘরবাড়ির অধিকার রয়েছে বারার প্রত্যেক বাসিন্দার।”

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে অভিযুক্তরা তিন বছর ধরে ইংল্যান্ডে কোনো বাসা ভাড়া দেওয়া, রেন্টাল প্রপার্টি পরিচালনা বা লেটিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন না। এটি কার্যকর হবে আগামী ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অন্যতম কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এটি লঙ্ঘন করলে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

ঘরবাড়ির পরিবেশ বা বাড়িওয়ালাকে নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে [email protected]এ যোগাযোগ করতে বলেছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। 

কমিউনিটি এর আরও খবর