img

৩০তম স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ইস্ট লন্ডন মসজিদের স্মরণসভা : "ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে"

প্রকাশিত :  ০৭:৪৪, ১০ জুলাই ২০২৫

৩০তম স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা দিবস উপলক্ষে  ইস্ট লন্ডন মসজিদের স্মরণসভা :

লন্ডন, ৯ জুলাই ২০২৫:  বসনিয়ার স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার ৩০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ইস্ট লন্ডন মসজিদের উদ্যোগে এক হৃদয়স্পর্শী স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । মানবাধিকারকর্মী, গবেষক, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিক ও কমিউনিটির বিভিন্ন পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সভায় ইউরোপীয় ইতিহাসের এই অন্ধকার অধ্যায়টি নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা । তাঁরা বলেন, আমাদের কাছে কোনো গ্যারান্টি নেই যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না। তাই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে।

৮ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লন্ডন মুসলিম সেন্টারে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। ইস্ট লন্ডন মসজিদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুনায়েদ আহমদের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন এমসিবি\'র সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোহাম্মদ ওয়াজিদ আখতার, বসনিয়ান কমিউনিটি বার্মিংহ্যামের প্রাক্তণ ইমাম মেরসাদ ক্র্নিজ, রানিমিড ট্রাস্টের সিইও শাবনা বেগম ও ইস্ট লন্ডন মসজিদের ট্রাস্টি ড. আব্দুল্লাহ ফলিক।
এছাড়াও যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বসনিয়ান রাষ্ট্রদূত ওসমান টপকাগিচ এবং বসনিয়া-হার্জেগোভিনার গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ হুসেইন কভাজোভিচ ভিডিও বার্তায় বক্তব্য রাখেন। স্রেব্রেনিৎসা থেকে কথা বলেন, আই.সি.এম.পি-এর মহাপরিচালক ক্যাথরিন বম্বার্গার । তিনি বলেন, ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছিলেন। তাঁর সংস্থা ইতোমধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি মৃতদেহ শনাক্ত করেছে। তিনি জানান, কিভাবে মানুষের মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিচ্ছিন্নভাবে গণকবরে ছড়িয়ে রাখা হয়েছিলো, অনেক সময় এক ব্যক্তির দেহাবশেষ পাঁচটি ভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায়।

বার্মিংহামে বসনিয়ান কমিউনিটির প্রাক্তণ ইমাম মেরসাদ ক্র্নিজ বলেন, আমাকে একজন জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা কি ক্ষমা করে দিতে প্রস্তুত? কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, কেউতো ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য বলছে না।  কেউ যদি ক্ষমা পেতে চায়, তাহলে তাকে তো ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভুল স্বীকার করতে হবে । বরং বসনিয়ায় এখনও যুদ্ধ অপরাধীরা মানুষের বাহবা পাচ্ছে, তারা হিরো হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে । যদিও বসনিয়া এখন ভ্রমণকারিদের জন্য নিরাপদ দেশ। কিন্ত রাজনৈতিক অবস্থা এখনও অনেক জটিল । দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের কোনো গ্যারান্টি নেই যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে- এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমরা কখনোনা ভাবিনা, এমন ঘটনা আবারও ঘটুক । আমাদেরকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আমরা জানি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে।
এমসিবি\'র সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোহাম্মদ ওয়াজিদ আখতার বলেন,  গণহত্যা এখনও শেষ হয়নি। তা শেষ হয়নি, সেই মায়েদের জন্য যারা এখনও তাদের সন্তানদের খুঁজছেন, সেই ধর্ষণের সন্তানের জন্য, সেই বিধবাদের জন্য। আমি যখন বড় হচ্ছিলাম, তখন স্রেব্রেনিৎসা দেখেছি- আজ আমার সন্তানরা গাজায় গণহত্যা দেখছে।

জুনায়েদ আহমদ বলেন, “স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার তিন দশক পূর্তি আমাদের মনে করিয়ে দেয় ঘৃণা, ইসলামোফোবিয়া এবং নীরবতার মারাত্মক পরিণতি । \'আর কখনও না\'-এই শব্দগুলো কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, এটা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি নৈতিক দায়িত্ব।

রানিমিড ট্রাস্টের সিইও শাবনা বেগম বলেন, “বসনিয়ায় যে ঘৃণা তৈরি করে মানুষকে হত্যার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল — যেমনটা এখন গাজায় মুসলমানদের অমানবিক করার মাধ্যমে হচ্ছে। তিনি যুক্তরাজ্যে ইসলামোফোবিয়ার সাথে গাজার নির্যাতনের স্পষ্ট যোগসূত্র স্থাপন করেন

ড. আব্দুল্লাহ ফালিক বলেন, বসনিয়ার পুরুষ ও শিশুদের হত্যা করা হয়েছিল, কারণ তারা মুসলমান ছিল । এই সত্যকে কখনও হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, গণহত্যার দশটি ধাপের শেষ ধাপ হচ্ছে অস্বীকার করা। ইতিহাসকে ভুলে যাওয়া কিংবা হালকা করে দেখা মানে সেই অপরাধকে বৈধতা দেওয়া। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সত্য বলার ও মনে রাখার দায়িত্ব এখন আমাদের হাতে।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বসনিয়ান রাষ্ট্রদূত উসমান টপচাগিচ এ ধরনের স্মৃতিচারণ সভা আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন এটা মানুষকে আরোগ্য লাভে সহায়তা করে থাকে।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ হুসেইন কভাজোভি যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জাতিসংঘে স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে সমর্থন দেওয়ার জন্য।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালের ১১ জুলাই বসনিয়ার স্রেব্রেনিৎসায় সার্ব সেনাবাহিনী ৮ হাজারের বেশি পুরুষ ও শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে । গত বছরের শুরুতে জাতিসংঘ এই হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে । এই গণহত্যা দিবসকে ইস্ট লন্ডন মস্ক দীর্ঘদিন যাবত স্মরণ করে আসছে। গণহত্যা সংঘটিত হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর গণকবর দেওয়া মানুষের কংকাল সংগ্রহ করে তা শনাক্ত করে জানাজা দাফন করার কার্যক্রম চলে আসছে ।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

টাওয়ার হ্যামলেটসে তিন অসাধু বাড়িওয়ালা নিষিদ্ধ

প্রকাশিত :  ১৭:২২, ১২ জুন ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সফল আইনি পদক্ষেপের ফলে তিনজন অসাধু বাড়িওয়ালাকে প্রাইভেট রেন্টিং সেক্টর থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী আর এন্ড জি লিমেটেড এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রাফায়েল মেন্ডেস টরেস ও এভান্দ্রো দোস সান্তোস গোমেসের বিরুদ্ধে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনাল। পপলার এলাকায় একটি লাইসেন্সবিহীন ও খারাপভাবে পরিচালিত প্রপার্টির সঙ্গে জড়িত গুরুতর আইন লঙ্ঘনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মামলাটি ই-ফোরটিন এলাকার কেম্পস ড্রাইভের একটি ফ্ল্যাটকে ঘিরে, যা জানুয়ারি ২০২২ থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই ‘হাউস অব মাল্টিপল অকুপেশন’  বা (এইচএমও) হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল। তদন্তে উঠে আসে, দুই বেডরুমের ফ্ল্যাটটিকে পরিবর্তন করে পাঁচটি কক্ষে রূপান্তর করা হয়, যার ফলে ওভারক্রাউডিং ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়। ফ্ল্যাটটিতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ছয়জন ভাড়াটিয়া বসবাস করছিলেন।

তদন্তে উঠে এসেছে ফ্ল্যাটটিতে ইঁদুর, তেলাপোকা ও বেডবাগের উপস্থিতি, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ, ফায়ার ডোর ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের অভাব, ভাড়াটিয়াদের ডিপোজিট সুরক্ষিত না রাখা এবং কোনো লিখিত চুক্তি ছিলোনা। একজন ভাড়াটিয়া জানান, সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে বাড়িওয়ালারা ভাড়া বাড়িয়ে দেন।

এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের অপরাধে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, বাড়িওয়ালারা তাদের আইনি দায়িত্ব সম্পর্কে “বিপজ্জনক অজ্ঞতা” প্রদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতির উন্নতিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। একই সঙ্গে  ভাড়াটিয়া ও কাউন্সিলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, ভাড়াটিয়াদের ঝুঁকিতে ফেলে দেয় এমন অসাধু বাড়িওয়ালাদের আমরা সহ্য করব না। নিরাপদ ও সঠিকভাবে পরিচালিত ঘরবাড়ির অধিকার রয়েছে বারার প্রত্যেক বাসিন্দার।”

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে অভিযুক্তরা তিন বছর ধরে ইংল্যান্ডে কোনো বাসা ভাড়া দেওয়া, রেন্টাল প্রপার্টি পরিচালনা বা লেটিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন না। এটি কার্যকর হবে আগামী ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অন্যতম কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এটি লঙ্ঘন করলে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

ঘরবাড়ির পরিবেশ বা বাড়িওয়ালাকে নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে [email protected]এ যোগাযোগ করতে বলেছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। 

কমিউনিটি এর আরও খবর