১ বিলিয়ন ডলার পাচার

img

এস আলম ও পরিবারের সিঙ্গাপুরের ব্যাংক হিসাব-শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ

প্রকাশিত :  ১৮:২৯, ১০ জুলাই ২০২৫

এস আলম ও পরিবারের সিঙ্গাপুরের ব্যাংক হিসাব-শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ

সিঙ্গাপুরে এক বিলিয়ন ডলার অর্থপাচারের অভিযোগে আলোচিত এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার পরিবারের নামে থাকা ৬৪টি ব্যাংক হিসাব এবং ১০টি কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধ করেছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহিম মিয়া এই আদেশ দেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদের তথ্য অনুযায়ী, এস আলমের একার ৪০টি ব্যাংক হিসাব, স্ত্রী ফারজানা পারভীনের ছয়টি ব্যাংক হিসাব ও আটটি কোম্পানির শেয়ার, ছেলেরা আশরাফুল, আহসানুল ও আসাদুল আলম মাহির মোট ১৫টি ব্যাংক হিসাব ও দুটি কোম্পানির শেয়ার, শ্যালক ও বোনের নামে আরও চারটি ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হকের করা আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও এস আলম ও পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক পর্যায়ে অর্থ ও সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত।

গত ২৪ জুন সাইপ্রাসে এস আলমের বাড়ি জব্দ,

ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড ও জার্সিতে থাকা ২৫টি কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধ,

১৬ জানুয়ারি: ৩৫৬৩ কোটি টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ,

৩ ফেব্রুয়ারি: ১৭৫ বিঘা সম্পদ (মূল্য ৩৬৮ কোটি টাকা) জব্দ,

১২ ফেব্রুয়ারি: ৫১০৯ কোটি টাকার ৪৩৭ কোটি শেয়ার অবরুদ্ধ,

২৩ ফেব্রুয়ারি: ৮১৩৩ কোটি টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ,

১০ মার্চ ও ৯ এপ্রিল: এক হাজারের বেশি বিঘা জমি জব্দ,

৯ এপ্রিল: ঘনিষ্ঠজনদের ৩৭৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ,

১৭ এপ্রিল: আরও ১৩৬০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ।

এস আলমের বিরুদ্ধে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, অবৈধ ঋণ গ্রহণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের নামে অর্থপাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায়। ২০২৩ সালে ডেইলি স্টারে প্রকাশিত ‘S Alam’s Aladdin’s Lamp’ শিরোনামের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরে এক বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য গড়লেও তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই অর্থ সরিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেন এস আলম।

গত বছর অক্টোবরে তার পরিবারের ১২ সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। এরপর হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা ও আপিল বিভাগের রায় শেষে আবারও সক্রিয়ভাবে তদন্ত শুরু করেছে দুদক এবং বিএফআইইউ।

চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপ দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তারা আলোচনায় আসে ব্যাংক লুট ও অর্থপাচারের অভিযোগে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে।

এই ঘটনা দেশের আর্থিক খাতে নজিরবিহীন এক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

img

টেকসই শেয়ারবাজার গঠনে ডিএসই ও সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের চুক্তি

প্রকাশিত :  ১৪:০১, ১৭ মে ২০২৬

দেশের পুঁজিবাজার ব্যবস্থার মাধ্যমে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতিশীল করতে একজোটে কাজ করবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসি এবং সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশ। এই লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আজ রোববার (১৭ মে) ডিএসই’র পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হেলাল হোসেনসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, পারস্পরিক সমন্বয় ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনার ফলে উদ্যোগটি দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুঁজিবাজারে এসএমই-দের অংশগ্রহণ বাড়াতে সক্ষমতা উন্নয়ন, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স ও কমপ্লায়েন্স বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হেলাল হোসেন বলেন, এসএমই কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হলেও তারা অর্থায়ন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও কমপ্লায়েন্সসংক্রান্ত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসএমই-দের জন্য বিকল্প অর্থায়ন ও ইকুইটি ভিত্তিক মূলধন সংগ্রহের সুযোগ সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। ডিএসই’র সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ডিএসই’র বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় প্রতিষ্ঠান তৈরি পোশাক, স্বাস্থ্যসেবা এবং কৃষি খাতসহ বিভিন্ন কৌশলগত খাতে একসাথে কাজ করবে। পাশাপাশি পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন, সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, জলবায়ু সহনশীলতা, বাণিজ্য সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠান দুটি যৌথভাবে সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি, সচেতনতামূলক কর্মশালা, ইনকিউবেশন সহায়তা এবং পরামর্শমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে অধিকতর অংশগ্রহণে উত্সাহিত হয়।

একই সঙ্গে গ্রিন বন্ড, সাসটেইনেবিলিটি-লিংকড বন্ড, সুকুক এবং ব্লেন্ডেড-ফাইন্যান্স মডেলসহ বিভিন্ন টেকসই অর্থায়ন পণ্য উন্নয়নেও পারস্পরিক সহযোগিতা করা হবে।


অর্থনীতি এর আরও খবর