প্রকাশিত :
১২:৪৪, ১৩ জুলাই ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট: ১৪:২৩, ১৩ জুলাই ২০২৫
আজ রোববার (১৩ জুলাই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে ৩৩ টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ৩৩ কোটি ৮০ লাখ ২৭ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হতে দেখা গেছে তিন কোম্পানির শেয়ার। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-ব্যাংক এশিয়া, রেনাটা ও আল-হাজ্ টেক্সটাইল । আজ এই তিন কোম্পানির মোট লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৪৫ লাখ টাকারও বেশি।
জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ব্যাংক এশিয়া। এদিন কোম্পানিটির ১৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
এরপর লেনদেন হয়েছে রেনাটা ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকার ।
আল-হাজ্ টেক্সটাইল লেনদেন হয়েছে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার ।
অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে-শার্প ইন্ডাস্ট্রিস ১ কোটি ৯১ লাখ টাকার এবং ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ১ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
বাজারে সৃষ্ট জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক চাপ সামাল দিতে আজ থেকে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ, পেট্রোল ও ডিজেল ১০ শতাংশ করে বাড়ানো হবে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে। অথচ সরবরাহ এতদিন দেওয়া হচ্ছিল গত বছরের গড় হিসেবে। ফলে বাড়তি চাহিদা পূরণ না হওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে এখন জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পাম্পভিত্তিক নতুন বরাদ্দ নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। চলতি এপ্রিলে ডিজেলের চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। বর্তমানে কার্যকর মজুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন। এর সঙ্গে আরও চারটি জাহাজে এক লাখ টনের বেশি ডিজেল যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আলাদা করে প্রায় ৮০ হাজার টন মজুত রাখা আছে। সরবরাহ সীমিত থাকায় এ মাসে দৈনিক গড় বিক্রি কমে ১১ হাজার ১০৭ টনে নেমে এলেও আজ থেকে তা বাড়িয়ে প্রায় ১৩ হাজার টনে উন্নীত করা হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল ১১ হাজার ৮৬২ টন।
অকটেনের ক্ষেত্রে সরাসরি ঘাটতি না থাকলেও চাহিদার চাপ বেশি। বর্তমানে দেশে প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৪ টন অকটেন মজুত রয়েছে, যা প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণে সক্ষম। তবুও ভোক্তা পর্যায়ে চাপ কমাতে দৈনিক সরবরাহ ১ হাজার ১২৯ টন থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১ হাজার ৩৬৬ টনে নেওয়া হচ্ছে, অর্থাৎ অতিরিক্ত ২৩৭ টন যোগ করা হচ্ছে। গত বছরের এপ্রিলে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল ১ হাজার ১১৮৫ টন।
পেট্রলের ক্ষেত্রেও সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ৮৩০ টন। এপ্রিলে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ২৫৩ টন বিক্রি হলেও এতে আরও ১৩৭ টন যুক্ত করা হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৭৪ টন।
জ্বালানি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাভাবিকভাবে বছরে চাহিদা ৪ থেকে ৫ শতাংশ বাড়ে। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে এবার চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তাই বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বাড়িয়ে বাজার স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারে দাম নির্ধারণ করায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি।
সংগঠনটির সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে জ্বালানি তেলের অপ্রয়োজনীয় মজুত প্রবণতা কমবে এবং বিক্রয় ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে তারা মনে করেন।