img

হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য টোল নেবে ইরান ও ওমান

প্রকাশিত :  ০৬:৩৬, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৪০, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য টোল নেবে ইরান ও ওমান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অবশেষে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলার সময় গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি (টোল) নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ইরান ও ওমান।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এ খবর জানিয়েছে। খবর সিএনএনের।

খবরে আরও বলা হয়েছে, এই তহবিলের অর্থ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনে খরচ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে সিএনএনের পক্ষ থেকে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। এখনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করা হলে ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে বলে ঘোষণা দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বলেন, যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ‘দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ চলাচল (জাহাজ) সম্ভব হবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বাস্তবায়ন করা হবে ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনায় রেখে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ‘বিশেষ অনুরোধ’ গ্রহণ করে ইরানে ‘বড় ধরনের হামলা’ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে রাজি হওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার শর্তে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কিছু সময় আগে ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ‘বিশেষ অনুরোধে’ ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত ‘বিধ্বংসী হামলা’ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিতে রাজি হয়েছেন তিনি।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

ইসলামী ব্যাংককে আরো ২৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশিত :  ১০:০২, ১৫ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক তারল্যসংকট কমাতে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংককে আরো ২৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে রবিবার ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়ার কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০ হাজার কোটি টাকা চাওয়ার বিপরীতে প্রাথমিকভাবে এই অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকটিকে। চলতি মাসে প্রথম ১০ দিনে আমানতকারীদের নগদ টাকা উত্তোলনের চাপ সামাল দিতেই মূলত এই বিশেষ ধার দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে গভর্নর প্রয়োজনে নগদ সহায়তার বিষয়ে নিশ্চিত করেন।

একই সঙ্গে প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে আরো সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ৯ দিনে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা আমানত তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা। এ ছাড়া ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ রয়েছে।

ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত আমানত কমেছে ৪ হাজার ২০৪ কোটি টাকা।

পরবর্তী দুই দিনে আরো প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়। এতে কয়েকটি শাখা ও এটিএম বুথে নগদ অর্থের চাপ তৈরি হয়।

এরপর বিকেলে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব), দুইজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ছয়জন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

পরে রাতে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের সব নিয়োগ বাতিল করে বোর্ডের সার্বিক দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেনকে নিযুক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।