img

পেট্রল-অকটেনে আর কত দিন চলবে, জানাল জ্বালানি বিভাগ

প্রকাশিত :  ০৯:৫৫, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

পেট্রল-অকটেনে আর কত দিন চলবে, জানাল জ্বালানি বিভাগ

আগামী দুই মাসে পেট্রল ও অকটেনের কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

সচিব তিনি বলেন, এই মুহূর্তে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই। পেট্রল ও অকটেনে আগামী দুই মাসে কোনো সংকট হবে না। বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, অকটেন ৯ হাজার ৫৬৯ মেট্রিক টন ও পেট্রল ১৬ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন মজুত আছে।

এ পর্যন্ত সারা দেশে ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, মজুত ও অতিরিক্ত কেনার প্রবণতা পরিবর্তন না হলে সমস্যার সমাধান হবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রতি মাসে জ্বালানি তেলে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। এক লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। অথচ এটা ১৫৫ টাকায় বিক্রি হওয়া উচিত। অর্থাৎ প্রতি লিটার ডিজেলে ৫৫ টাকা করে ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার।

ফুয়েল পাশ প্রসঙ্গে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ঢাকার আসাদ গেটে সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন এবং ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল পাশের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে চালু হবে।

যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়; বিশ্বের সব দেশেই যুদ্ধের প্রভাব থাকবে। এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি সরকার। জনগণের কথা চিন্তা করেই বাড়ানো হয়নি। পৃথিবীর কমই দেশই এমন জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে। যুদ্ধ বন্ধ হলে সরকারও সবকিছু বিবেচনা করেই জ্বালানি তেলের দাম ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেবে।

অন্তত ৩ মাসের জ্বালানি মজুতের সক্ষমতা তৈরি করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, এলপিজির দাম নিয়ে ভোক্তাদের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

 
img

একনেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশিত :  ১১:১৫, ১৩ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২০:১২, ১৩ মে ২০২৬

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। তন্মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। 

সরকারি সূত্রে জানানো হয়, ১৯৬০-এর দশক থেকেই ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের দাবি ওঠে। পরে ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে এই অনুমোদনকে।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।

ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কমিশন কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও জানান, আগামী বাজেট ঘোষণার পরই পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।