img

গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশের মঞ্চে হামলা, ভাঙচুর

প্রকাশিত :  ০৮:৪৬, ১৬ জুলাই ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১২:০০, ১৬ জুলাই ২০২৫

গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশের মঞ্চে হামলা, ভাঙচুর

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

আজ বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১টা ৩৫ মনিটের দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় আয়োজিত সমাবেশের মঞ্চে এ হামলা চালানো হয়। এ সময় সমাবেশের মঞ্চে থাকা সাউন্ড বক্স, মাইক, চেয়ার ভাঙচুরসহ উপস্থিত এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মির মো. সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, এনসিপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘জুলাই পদযাত্রা’কে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ সদরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ি বহরে হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করেছে পতিত আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। 

বুধবার (১৬ জুলাই) সদর উপজেলার গান্ধীয়াশুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রকিবুল হাসান। 

তিনি বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির মাসজুড়ে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে পদযাত্রার কথা রয়েছে তাদের। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনের কথা রয়েছে। তাদের পদযাত্রা বানচালের জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থকেরা সদর উপজেলার গান্ধিয়াশুর এলাকায় গাড়ি বহরে হামলা ও ভাঙচুর করেছে তারা।

এর আগে, এনসিপির এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ সদরে পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর করে আগুন দিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বুধবার সকালে সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া সকালে সদর উপজেলার গান্ধীয়াশুর এলাকায় ঘোনাপাড়া-টেকেরহাট আঞ্চলিক সড়কে গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

জাতীয় এর আরও খবর

img

হাদির খুনির সঙ্গে সেলফি, মুখ খুললেন ডাকসু নেত্রী জুমা

প্রকাশিত :  ১১:৫৬, ০৯ মার্চ ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমার ছবি জড়িয়ে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন জুমা। তিনি বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ছবি ব্যবহার করে ভুল বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে তিনি পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

দেশের এক বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাতেমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘আমার যদি কোনো দোষ থাকে, তাহলে প্রশাসনের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে যাতে আমাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর যাতে ইন্টারোগেশন (তদন্ত) করে। ইন্টারোগেশনের পর যদি কিছু পায় তারা যাতে সেটা সঠিকভাবে ব্যবহার করে।

তিনি বলেন, ‘যদি মনে করেন, আমাকে কেউ দোষী বানাতে চায়; ফাঁসাতে চায়। আলটিমেটলি সত্য তো কখনো গোপন থাকে না; সত্য তো একদিন না একদিন সামনে আসবেই। হয়তো আমাকে গ্রেপ্তার করবে বা রিমান্ডে নেবে; যেভাবে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়াজ তুলছে। এটা মূলত এখন শুরু হয়নি; এটি সেদিন থেকে শুরু হয়েছে যেদিন ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।’

জুমা বলেন, ‘তাদের ভয়ের জায়গা হচ্ছে, যদি শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার হয়, সেই বিচারটা হলে আসলে অনেকেই ফেঁসে যাবেন। যদি কেউ মনে করে আমাকে বা জাবের ভাইকে ফাঁসিয়ে অথবা ইনকিলাব মঞ্চকে চুপ করিয়ে তারা যদি ভাবে হাদি হত্যার বিচার ধামা চাপা দেওয়া যাবে- তাদের আসলে সেই আশা গুড়ে বালি। কারণ বাংলাদেশের আট লাখ মানুষ একটি মানুষের জানাজায় অংশ নিয়েছিল, পুরো বাংলাদেশের মানুষ বার বার তার কবর জিয়ারত করছে। সারা বাংলাদেশের মানুষ হাদি হত্যার বিচার দাবি করছে, সেখানে জুমা বা জাবেরকে দমিয়ে বিচার বন্ধ করা যাবে না।’

এদিকে, প্রচারিত ফটোকার্ডে দেখা যায়, ফয়সাল করিম মাসুদ এবং ফাতেমা তাসনিম জুমা পাশাপাশি হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে বসে আছেন। ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, ‘হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে জুমার ছবি ভাইরাল।’

দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ছবিটি এআই নির্মিত।

ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বার্তা বাজারে গত ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং হত্যা মামলার আরেক আসামি আলমগীর হোসেনের একই ধরনের একটি ছবি পাওয়া যায়। তবে, দিগন্ত টিভি নামে ফেসবুক পেজটি দিগন্ত টিভির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ কি না সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


জাতীয় এর আরও খবর