img

লন্ডনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দোয়া মাহফিলে বক্তাগণ: ব্যবসায়ী সোহাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা দেশের মানুষ স্তম্ভিত

প্রকাশিত :  ১৭:২২, ১৭ জুলাই ২০২৫

লন্ডনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দোয়া মাহফিলে বক্তাগণ: ব্যবসায়ী সোহাগের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা দেশের মানুষ স্তম্ভিত

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য শাখা আয়োজিত দোয়া মাহফিলে বক্তাগণ বলেন, রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ডে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে ও পাথর নিক্ষেপ করে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় গোটা জাতি আজ শোকাহত, ক্ষুব্ধ ও বাকরুদ্ধ। তারা বলেন, এ বর্বর ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানোর কোনো ভাষা নেই। এমন জঘন্য অপরাধের দৃশ্য দেখে দেশবাসী স্তম্ভিত।

বক্তাগণ বলেন, শত শত মানুষের সামনে প্রকাশ্যে মাথায় পাথর মেরে একজন মানুষকে হত্যা করার এমন বিভৎসতা আইয়ামে জাহেলিয়াতকেও হার মানিয়েছে। এই নিষ্ঠুরতা যেন হুবহু সেই অন্ধকার জাহেলি যুগের নির্মমতা ও বর্বরতার চিত্র ফুটিয়ে তোলে। বক্তারা অবিলম্বে এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত যুবদল সংশ্লিষ্ট সকল সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

১১ জুলাই ২০২৫ পূর্ব লন্ডনের ফোর্ড স্কয়ার মসজিদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কেন্দ্র ঘোষিত দেশব্যাপী দোয়া দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য শাখার উদ্যোগে ‘জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের এক বছর পূর্তি’ উপলক্ষে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলে শহীদদের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করা হয়।

দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও যুক্তরাজ্য শাখার সহ-সভাপতি আলহাজ মাওলানা আতাউর রহমান এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুফতী ছালেহ আহমদ।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন: মাওলানা নাজিম উদ্দিন – সহ-সভাপতি, যুক্তরাজ্য শাখা,হাফিজ মাওলানা লিয়াকত হোসাইন – প্রশিক্ষণ সম্পাদক, মাওলানা আজিজুর রহমান – সমাজকল্যাণ সম্পাদক, হাফিজ মাওলানা নোমান হামিদী – নির্বাহী সদস্য, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান লন্ডন মহানগর সহ সভাপতি, হাফিজ শরিফ উদ্দিন বায়তুলমাল সম্পাদক, লন্ডন মহানগর শাখা, আলহাজ আহমদ আলী – নির্বাহী সদস্য।

দোয়া মাহফিলে সোহাগ হত্যার বিচারসহ চলমান ন্যায়ভিত্তিক ইসলামী আন্দোলনের সফলতা কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ইতালিতে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

প্রকাশিত :  ০৬:৫০, ২৭ জুন ২০২৬

ইতালির রাজধানী রোমে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নাগরিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে শহরের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নোয়াখালীর বসুরহাটের বাসিন্দা কামাল, তার স্ত্রী এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে। হামলায় তাদের ১৮ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

হামলায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কামাল, তার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে বাসা থেকে বেরিয়ে আশপাশের লোকজনের কাছে সাহায্য চাইতে যান পরিবারের ১৮ বছর বয়সী ছেলে। কিন্তু হামলাকারী তাকেও ছুরিকাঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে জরুরি সেবায় খবর দিলে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স এবং ইতালির কারাবিনিয়েরি বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

পরে নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহত তরুণকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরেও ছুরির আঘাত ছিল। তবে সেই আঘাত প্রাণঘাতী ছিল না। 

ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে রোম পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি ব্যক্তিগত বিরোধ, ডাকাতির চেষ্টা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে- সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসা ও এজিআই জানিয়েছে, তিনজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছিলেন। তাদের প্রত্যেকের শরীরে ছুরির আঘাত ছিল এবং সেই আঘাতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো পুরোপুরি অজানা। এতে তদন্তকারীরা দ্বন্দ্বে পড়েছেন। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না।

এদিকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছেন। তদন্তের স্বার্থে ফ্ল্যাটটি ঘিরে রাখা হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে হামলাকারীর পরিচয় শনাক্ত করা যায়।

রোম পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও অভিযান চালানো হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইল মেসাজ্জেরোর তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ প্রথমে সন্দেহ করছে যে ঘটনায় পরিবারের পরিচিত কেউ বা কোনো পারিবারিক বন্ধু জড়িত থাকতে পারেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলেছে, এটি এখনো নিশ্চিত নয়, শুধু তদন্তের একটি সম্ভাব্য দিক। আর হত্যাকারী এখনো ধরা পড়েনি বলে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে।


কমিউনিটি এর আরও খবর