img

তিস্তা প্রকল্পের জন্য প্রস্তুত চীন, সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের: চীনা রাষ্ট্রদূত

প্রকাশিত :  ০৮:৩৫, ২৯ জুলাই ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:১৩, ২৯ জুলাই ২০২৫

তিস্তা প্রকল্পের জন্য প্রস্তুত চীন, সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের: চীনা রাষ্ট্রদূত

তিস্তা বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।এখন বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও জানান তিনি।

সেই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চীনা রাষ্ট্রদূত।

আজ মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিক্যাব টকে তিনি এসব কথা বলেন।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করতে চায় চীন। এর লক্ষ্য—উন্নত, সমৃদ্ধ প্রতিবেশী গড়ে তোলা এবং তাদের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখা।

ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন-বাংলাদেশ-পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি। এটি কোনোভাবেই তৃতীয় কোনো পক্ষবিরোধী জোট নয় এবং এ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। 

তিস্তা বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন পুরোপুরি প্রস্তুত। এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাংলাদেশকে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ইয়াও ওয়েন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে—এটা চীন বিশ্বাস করে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে তিনি বলেন, তাদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই একমাত্র টেকসই সমাধান। এ বিষয়ে চীন বাংলাদেশ ও মিয়ানমার—উভয় পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছে। তবে রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এখনই প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়।

মাইলস্টোনে চীনা যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চীন কাজ করবে এবং খুব শিগগিরই কারিগরি বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঢাকা আসবে।

img

জয়যাত্রা ইস্যুতে ইরানকে আবারও অনুরোধ করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৬:৫১, ২১ এপ্রিল ২০২৬

তুরস্কের আনতালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

গত রোববার রাতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া ছয়টি দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় ইরানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এর জবাবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওই অঞ্চলে বর্তমান পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উভয় নেতা এ বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করবেন।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের প্রতিনিধিরা উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান চলমান সংকট নিরসনে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে কোনো মতভেদ সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এই গঠনমূলক অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তেহরান সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘বাংলার জয়যাত্রা’ এবং অপর একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছিলেন।

সেই সময় রাষ্ট্রদূত জানিয়েছিলেন, ইরানের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে বাংলাদেশের ১৩তম সংসদ অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং শোক বইয়ে স্বাক্ষর করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া ইরানে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্যোগেরও প্রশংসা করা হয় বৈঠকে।

জাতীয় এর আরও খবর