img

মাওলানা মুশতাক হত্যা: জমিয়ত নেতা হাফিজকে রিমাণ্ডে চায় পুলিশ

প্রকাশিত :  ১২:৩৫, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 মাওলানা মুশতাক হত্যা: জমিয়ত নেতা হাফিজকে রিমাণ্ডে চায় পুলিশ

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের সহ সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরী (৫২) নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার আব্দুল হাফিজ (৪০) কে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।

হাফিজের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে আদালতে। আগামীকাল বুধবার এই রিমান্ড শুনানি হবে।

আব্দুল হাফিজ নিহত মুশতাক আহমদের গ্রাম গাজীনগরের পার্শ্ববর্তী দরগাপুর গ্রামের আলিফ পাঠানের ছেলে এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর অন্য গ্রুপের শান্তিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক।

রবিবার (০৭ সেপ্টেম্বর) রাতে মাওলানা মুশতাক আহমদের স্ত্রী রুবি বেগম বাদী হয়ে দিরাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে সিলেটে শহর থেকে আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে দিরাই থানা পুলিশ।

সোমবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিন টায় আব্দুল হাফিজ (৪০) কে কঠোর নিরাপত্তায় দিরাই জোনের আমলগ্রহণকারী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালতের বিচারক এসএম শাফায়াত ছালাম বুধবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

এদিকে আব্দুল হাফিজের ফাঁসির দাবিতে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন। এসময় বিক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা আব্দুল হাফিজের দিকে ডিম ছুড়ে মারে।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মাওলানা মুস্তাক আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে এবং আব্দুল হাফিজকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদালতে ৭ দিনের রিমাণ্ডের আবেদন করা হয়েছে। ’

পুলিশের সুনামগঞ্জ আদালতের পরিদর্শক মো. আকবর হোসেন বলেন, মাওলানা মুস্তাক আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল হাফিজকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে ৭ দিনের রিমাণ্ডের আবেদন করেছেন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রিমাণ্ড শুনানীর দিন ধার্য করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাত ৮টার দিকে সুনামগঞ্জ শহরে যাওয়ার কথা বলে নিজ বাড়ি গাজীনগর থেকে বের হন মাওলানা মুশতাক। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দিরাই রোড পয়েন্টে বনফুল মিষ্টির দোকানের সিসি ক্যামেরায় তাকে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর রাত সাড়ে ১১টায় একই স্থানের আরেকটি দোকানের সিসি ক্যামেরায় আবারও তার উপস্থিতি ধরা পড়ে। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে শান্তিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

তবে নিখোঁজের ৫৮ ঘণ্টা পর ৫ সেপ্টেম্বর সকালে দিরাই উপজেলার শরীফপুর গ্রামের ইটভাটার পাশে পুরাতন সুরমা নদীতে স্থানীয়রা তার লাশ ভাসতে দেখে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ নদী থেকে লাশ উদ্ধার করে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

কোদালিছড়া বন্ধ, শহর বন্দী: জলাবদ্ধতায় মৌলভীবাজার শহর ও শহরতলী

প্রকাশিত :  ১৮:৩৮, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারে গ্রীষ্মের শেষভাগ মানেই এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তা—বর্ষা পুরোপুরি না নামলেও হঠাৎ ঝড়, দমকা হাওয়া আর বজ্রসহ বৃষ্টিতে শহরের প্রকৃত চিত্র বারবার উন্মোচিত হয়। সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই যখন একটি শহর পানির নিচে তলিয়ে যায়, তখন সেটি আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের গল্প থাকে না; হয়ে ওঠে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা আর অবহেলার নির্মম প্রতিচ্ছবি।

গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তুলনামূলক স্বল্প সময়ের বৃষ্টিতেই মৌলভীবাজার পৌর শহরের রাস্তাঘাট ডুবে যায়, দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ে, অসংখ্য পরিবারের ঘরে প্রবেশ করে বৃষ্টির পানি। কারো ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কারো আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে, কারো জীবনের সঞ্চয় এক রাতেই ভেসে গেছে। অথচ এই দৃশ্য নতুন নয়—বরং বছর ঘুরে ঘুরে ফিরে আসা এক চেনা দুর্ভোগ।

এই সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে কোদালিছড়া—পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের প্রধান এবং কার্যত একমাত্র মাধ্যম। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে পানির প্রবাহ থাকার কথা, সেখানে এখন দেখা যায় স্থির, বদ্ধ পানি। ছড়ার বুকে ভাসে পলিথিন, ময়লা-আবর্জনা; বাতাসে ছড়ায় দুর্গন্ধ। আশপাশের মানুষের জন্য এটি শুধু অসুবিধাই নয়, এক ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিরও নাম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছড়ার ভাটিতে তৈরি হওয়া কয়েকটি অস্থায়ী বাঁধই এই সংকটের অন্যতম মূল কারণ। এসব বাঁধ পানির স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে, ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারছে না। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বহুবার সতর্ক করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কিছু এলাকায় আংশিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হলেও সমস্যার মূল জায়গাগুলো অরক্ষিতই থেকে গেছে।

ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবস্থাও কম করুণ নয়। শহরের অনেক ড্রেন ময়লা ও প্লাস্টিকে ভরে গেছে; কোথাও কোথাও ড্রেনের অস্তিত্বই বোঝা যায় না। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং নাগরিক অসচেতনতা—সব মিলিয়ে একটি অচল ব্যবস্থার জন্ম দিয়েছে, যার খেসারত দিচ্ছে পুরো শহর।

একসময় অবশ্য এই পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল।

২০১৮ সালে কোদালিছড়া সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অর্থায়নের ব্যবস্থাও ছিল। নাগরিকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে প্রতিদিন ছড়ার পরিচর্যা করা হতো। সেই উদ্যোগের ফলে কয়েক বছর জলাবদ্ধতার তীব্রতা কমে এসেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ে। প্রশ্ন উঠছে—যে অর্থ এখনো নাগরিকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে, তার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কি?

বর্তমানে পৌরসভায় কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় শহর পরিচালিত হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় দ্রুততা ও জবাবদিহিতার অভাব স্পষ্ট। সম্ভাব্য নেতৃত্বের কথা শোনা গেলেও এই সংকটকালে তাদের দৃশ্যমান ভূমিকা খুব একটা চোখে পড়ে না।

তবে দায় শুধু প্রশাসনের নয়। নাগরিক হিসেবেও দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। ড্রেনে ময়লা ফেলা, প্লাস্টিক ব্যবহারে উদাসীনতা—এসব আচরণ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। টেকসই সমাধানের জন্য তাই দরকার সমন্বিত উদ্যোগ—প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোদালিছড়াকে সচল করা, ভাটির বাঁধগুলো দ্রুত অপসারণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং পুরো ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার—এই চারটি পদক্ষেপ এখন জরুরি। নইলে সামনে আসা পূর্ণ বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখানো হয়েছে বহুবার। কিন্তু একটি শহর যদি নিজের বৃষ্টির পানি সামলাতে না পারে, তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

২৭ এপ্রিলের রাত যেন আরেকটি সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে। এখনো সময় আছে—সঠিক সিদ্ধান্ত আর কার্যকর উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব। কারণ একটি শহর শুধু অবকাঠামোর সমষ্টি নয়; এটি মানুষের জীবন, স্বপ্ন আর টিকে থাকার প্রতিচ্ছবি।


সিলেটের খবর এর আরও খবর