img

এবার এক ভিসায় ভ্রমণ করা যাবে উপসাগরীয় ৬ দেশ

প্রকাশিত :  ১৬:১৫, ০৬ অক্টোবর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪৬, ০৬ অক্টোবর ২০২৫

এবার এক ভিসায় ভ্রমণ করা যাবে উপসাগরীয় ৬ দেশ

ইউরোপের শেনজেন ভিসার মতো এবার নতুন ভিসা পদ্ধতি চালু হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যেও। সর্বসম্মতিক্রমে এই অঞ্চলের জন্য প্রস্তাবিত ‘ইউনিফায়েড ট্যুরিজম ভিসা’ বা একক ভিসা ব্যবস্থার অনুমোদন দিয়েছে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল বা জিসিসিভুক্ত দেশগুলো। এর ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে সূচনা হলো নতুন এক যুগের।

চলতি বছরই যৌথ পর্যটন ভিসার পাইলট প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) ছয়টি সদস্য দেশ । বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি ও পর্যটনমন্ত্রী এবং এমিরেটস ট্যুরিজম কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ বিন তউক আল মারি। সদস্য দেশগুলো হচ্ছে–সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ওমান, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইন।

আবদুল্লাহ বিন তউক আল মারি জানান, ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’ নামে এই একীভূত ভিসা হবে ইউরোপের শেনজেন ভিসা মডেলের মতো; যার মাধ্যমে পর্যটকরা এক ভিসায় ছয়টি দেশ ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক ও পর্যটন একীভূতকরণের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভিসার খরচ ও মেয়াদ এখনও নির্ধারিত হয়নি। প্রকল্পটি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন আল মারি।

পর্যটন খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই একক ভিসা উপসাগরীয় পর্যটনশিল্পে বড় পরিবর্তন আনবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অঞ্চলটির জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলেও আশা করছেন তারা। বিশেষ করে এই ভিসায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব সবচেয়ে বেশি পর্যটক আকর্ষণ করবে বলে ধারণা করছেন তারা।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের নতুন প্রস্তাবের যে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ট্রাম্পের

প্রকাশিত :  ০৬:০৯, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

তেহরান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করে একটি স্থায়ী সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে ৩টি স্তর বা পর্যায়ের নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন এই প্রস্তাবের একটি পর্যায় নিয়ে আপত্তি আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।

কয়েক দিন আগে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩ স্তরের নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে ইরান। নতুন সেই প্রস্তাবের বলা হয়েছে, প্রথম স্তরে ইরান এবং লেবাননে যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং এই দুই দেশে আর মার্কিন কিংবা ইসরায়েলি হামলা হবে না— এই নিশ্চয়তা দিতে হবে।

দ্বিতীয় স্তরে ইরানের বন্দরগুলো এবং হরমুজ প্রণালি থেকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নেবে এবং প্রণালি পরিচালনা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা নিয়ে আলোচনা চলবে।

তৃতীয় পর্যায়ে বলা হয়েছে, যদি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের সঙ্গে এই যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ মীমাংসায় পৌঁছায়, তখন ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।

এই বিষয়টি নিয়েই মূল আপত্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। কারণ তিনি চাইছেন, আগে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হবে— তারপর ইরানি বন্দরগুলো এবং হরমুজ থেকে মার্কিন অবরোধের প্রসঙ্গ আসবে।

গতকাল বুধবার এক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “তারা (ইরান) একটা মীমাংসায় পৌঁছাতে চায়। তারা চায়, আমি যেন হরমুজ থেকে মার্কিন প্রহরা প্রত্যাহার করি। তবে আমি এটা চাই না। আগে (পরমাণু প্রকল্প নিয়ে) সমঝোতা হবে— তারপর অন্য সবকিছু। ইরান পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হবে— এটা আমি কোনোভাবেই চাই না।”

গত ১২ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি এবং কোনো ইরানি জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে সাগরে যেতে না পারে— সেজন্য প্রণালির চারপাশে কঠোর প্রহরা জারির নির্দেশ দেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এ প্রহরা জারি আছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে— ইরানে বোমাবর্ষণের চেয়েও এই অবরোধ-প্রহরা অনেক বেশি কাজে দিচ্ছে।

“এই অবরোধ এমনকি বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি কাজে দিচ্ছে। তারা দমবন্ধকর অবস্থায় পৌঁছাচ্ছে এবং যদি অনড় অবস্থায় থাকে— তাহলে সামনে আরও খারাপ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। তারা কোনোভাবেই পরমাণু বোমার অধিকারী হতে পারবে না।”

“এখন প্রশ্ন হলো, এই অবস্থা আর কতদিন চলবে কিংবা তারা আর কতদূর যেতে পারবে। আমি বলতে পারি, এই মুহূর্তে আমরা যেখানে আছি— তারা যদি পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী না হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যে না পৌঁছায়— তাহলে কোনো ইস্যুতে কোনো অগ্রগতি হবে না”, এক্সিওসকে বলেছেন ট্রাম্প।

সূত্র : এক্সিওস

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর