img

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে

প্রকাশিত :  ০৯:৫৩, ০৬ নভেম্বর ২০২৫

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে । আবেদন প্রক্রিয়া আগামী ৮ নভেম্বর শুরু হয়ে চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।

গতকাল বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রথম ধাপে ছয় বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি পদে শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম ধাপের বিভাগগুলো হলো রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সহকারী শিক্ষকের আবেদন করতে হলে যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ (৪ স্কেলে ন্যূনতম ২.২৫ ও ৫ স্কেলে ন্যূনতম ২.৮) স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনে কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ অথবা সমমানের জিপিএ অথবা তৃতীয় শ্রেণি অথবা সমমানের সিজিপিএ গ্রহণযোগ্য হবে না। ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আবেদনকারী প্রার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ২১ বছর; সর্বোচ্চ ৩২ বছর থাকতে হবে।

শর্তাবলি

১. আগ্রহী প্রার্থীগণকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

২. বিবাহিত মহিলা প্রার্থীগণ আবেদনে তাদের স্বামী অথবা পিতার স্থায়ী ঠিকানার যেকোনো একটিতে আবেদন করতে পারবেন। ৩. উপজেলা/শিক্ষা থানাভিত্তিক নিয়োগ করা হবে। প্রার্থী যে উপজেলা/শিক্ষা থানার বাসিন্দা তিনি সে উপজেলা/শিক্ষা থানার শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবে। ৪. প্রার্থীকে নিজ উপজেলা/শিক্ষা থানায় চাকরি করতে হবে।

তার বদলি নিজ উপজেলা/শিক্ষা থানার বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সীমিত থাকবে। ৫. ধূমপানসহ যেকোনো ধরনের মাদক গ্রহণের অভ্যাস থাকলে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। ৬. প্রার্থীর সনদপত্র ও ছবি সত্যায়নকারী কর্মকর্তার (৯ম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের গেজেটেড কর্মকর্তা) স্বাক্ষরের নিচে নামসহ সিল থাকতে হবে।

আবেদনের নিয়ম

এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণের নির্দেশনা পাওয়া যাবে। উক্ত নির্দেশনা অনুসরণপূর্বক অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করে সাবমিট করতে হবে।

আবেদন ফি : টেলিটকের সার্ভিস চার্জসহ ১১২ টাকা।

আবেদনের সময়সীমা : আবেদন শুরু হবে আগামী শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এবং আবেদন শেষ সময় আগামী ২১ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

শিক্ষা এর আরও খবর

img

শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বই, বদলাবে শিখনপদ্ধতি

প্রকাশিত :  ০৬:৩৭, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন চারটি পাঠ্যবই যুক্ত হচ্ছে। মুখস্থনির্ভর ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক পড়াশোনার গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা এবং ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই বইগুলো প্রণয়ন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

বইগুলো হলো চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’। আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সভায় বইগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে। অনুমোদন পেলে চারটি বইয়ের প্রায় দেড় কোটি কপি ছাপানো হবে।

এনসিটিবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা ও হাতে-কলমে কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য সামনে রেখে বইগুলো তৈরি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক শিষ্টাচার, পারিবারিক সংস্কৃতি ও সুনাগরিকের গুণাবলি গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এনসিটিবি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে এ কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, নতুন চারটি বইয়ের পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এনসিসির অনুমোদনের পর বইগুলো ছাপানোর জন্য পাঠানো হবে।

আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে মুদ্রণকাজ শেষ করার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইটি সাজানো হয়েছে ১৪টি অধ্যায়ে। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস ও দাবার নিয়মকানুনের পাশাপাশি কারাতে, জুডো ও তায়কোয়ান্দোর মতো আত্মরক্ষার কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। খেলাধুলার সময় আঘাত, নাক দিয়ে রক্ত পড়া ও হিট স্ট্রোকের মতো পরিস্থিতিতে করণীয়, প্রাথমিক চিকিৎসা, পুষ্টি ও সামাজিক দক্ষতা সম্পর্কেও ধারণা পাবে শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে ১১টি অধ্যায়ে সাজানো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইয়ে ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, খাবার, সামাজিক রীতিনীতি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এতে রয়েছে শিশুদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি’র ইতিহাস এবং ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে আয়োজনটি শুরুর তথ্য।

ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটি ছয়টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। এতে পরীক্ষা ও মুখস্থনির্ভরতার বাইরে দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আটটি অধ্যায়ের ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার, সমস্যা সমাধান, ছোট উদ্যোগ, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপনের বিষয় রয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব কাজের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।

এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক এ কে এম শওকত আলী খান বলেন, নতুন বইগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে আনন্দময় পরিবেশে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে।