img

লন্ডনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল–জাসদের ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশিত :  ০৬:৩৭, ১১ নভেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৪০, ১১ নভেম্বর ২০২৫

ইস্ট লন্ডনে আলোচনা সভা ও নৈশভোজ

লন্ডনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল–জাসদের ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল–জাসদের ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে পূর্ব লন্ডনের ক্যাফে গ্রীল রেস্টুরেন্টে গত ২রা নভেম্বর সর্ব ইউরোপীয়ান জাসদ ও যুক্তরাজ্য জাসদের যৌথ উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সর্ব ইউরোপীয়ান জাসদের সভাপতি মতিউর রহমান মতিন, এবং সঞ্চালনা করেন যুক্তরাজ্য জাসদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাসদের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি শহীদ ও প্রয়াত নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন জাসদ নেতা জাকারিয়া রশীদ। পরে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাজ্য ‘হৃদয়ে ৭১’-এর আহ্বায়ক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকসুর সাবেক সদস্য দেওয়ান গৌছ সুলতান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য জাসদের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক মনি, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি, প্রবীন সাংবাদিক সৈয়দ নাহাস পাশা, জাতীয় চার নেতা পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ ফারুক আহমদ, সাবেক ছাত্র নেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মঞ্জুরুল আলম পলাশ, প্রগ্রেসিভ ফোরামের আহ্বায়ক ডা. মুখলেছুর রহমান মুকুল, যুক্তরাজ্য উদিচীর সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম, নারী নেত্রী হেলেন ইসলাম, সাবেক ছাত্র নেতা সৈয়দ তৌহিদ ফিতরাদ হোসেন, অভিনেতা স্বাধীন খসরু, সাংবাদিক মতিহার চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা মোজ্জাফর হোসেন বাবুল, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আনসার আহমদ, নারী নেত্রী মিসেস মিসবাহ আহমদ , লিপি ফেরদৌসী ও জাসদ নেতা হুমায়ুন কবীর খান প্রমুখ।

সভায় স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন জাসদ নেত্রী ও কবি সালমা বেগম।যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে জাসদের ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানান। সভায় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আহমদ, জাসদ নেতা মসিউর রহমান সুহেল, এ. কে. চুন্নু, ওয়ালিয়র রহমান, সাইফুল ইসলাম মিঠু, নওশাদ নূর, মোহাম্মদ ও রাহুল চৌধুরী প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর বলেন—

 “পশ্চিম পাকিস্তানীরা বাঙালিদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর গণহত্যা চালায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন—সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তিনিই এই ঘোষণার একমাত্র অধিকারী ছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রই একটি স্বাধীন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্মসনদ।”

তিনি আরও বলেন,

“ইউনুস সরকার অসাংবিধানিকভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইন পরিবর্তন করে হাসানুল হক ইনুসহ রাজনৈতিক নেতাদের মিথ্যা বিচারের মুখোমুখি করছে—এটি বিচার নয়, প্রহসন।”

বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌছ সুলতান বলেন—

 “মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য ইউনুস নেতৃত্বাধীন সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই সরকারকে প্রতিহত করতে বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজন। ঐক্যের জন্য জাসদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।”

সভাপতির বক্তব্যে মতিউর রহমান মতিন বলেন— “আমরা সংখ্যায় কম হলেও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জাসদ প্রত্যেক আন্দোলনে তার প্রমাণ রেখেছে। ইউনুস নেতৃত্বাধীন সরকার উৎখাত করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচনই গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের অর্জন পুনরুদ্ধারের একমাত্র পথ।”

সভায় ‘Change.org’ প্ল্যাটফর্মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্দেশে পিটিশন শেয়ার ও স্বাক্ষরের আহ্বান জানানো হয়, যাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসানুল হক ইনুসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেইন জোরদার করা যায়।

বক্তারা বলেন, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের চেতনা ধারণ করে দেশ পুনরুদ্ধার ও মুক্তিযুদ্ধের অর্জন রক্ষায় জাসদের ঐক্যের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সভা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।


-

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

টাওয়ার হ্যামলেটসে তিন অসাধু বাড়িওয়ালা নিষিদ্ধ

প্রকাশিত :  ১৭:২২, ১২ জুন ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সফল আইনি পদক্ষেপের ফলে তিনজন অসাধু বাড়িওয়ালাকে প্রাইভেট রেন্টিং সেক্টর থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী আর এন্ড জি লিমেটেড এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রাফায়েল মেন্ডেস টরেস ও এভান্দ্রো দোস সান্তোস গোমেসের বিরুদ্ধে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনাল। পপলার এলাকায় একটি লাইসেন্সবিহীন ও খারাপভাবে পরিচালিত প্রপার্টির সঙ্গে জড়িত গুরুতর আইন লঙ্ঘনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মামলাটি ই-ফোরটিন এলাকার কেম্পস ড্রাইভের একটি ফ্ল্যাটকে ঘিরে, যা জানুয়ারি ২০২২ থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই ‘হাউস অব মাল্টিপল অকুপেশন’  বা (এইচএমও) হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল। তদন্তে উঠে আসে, দুই বেডরুমের ফ্ল্যাটটিকে পরিবর্তন করে পাঁচটি কক্ষে রূপান্তর করা হয়, যার ফলে ওভারক্রাউডিং ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়। ফ্ল্যাটটিতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ছয়জন ভাড়াটিয়া বসবাস করছিলেন।

তদন্তে উঠে এসেছে ফ্ল্যাটটিতে ইঁদুর, তেলাপোকা ও বেডবাগের উপস্থিতি, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ, ফায়ার ডোর ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের অভাব, ভাড়াটিয়াদের ডিপোজিট সুরক্ষিত না রাখা এবং কোনো লিখিত চুক্তি ছিলোনা। একজন ভাড়াটিয়া জানান, সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে বাড়িওয়ালারা ভাড়া বাড়িয়ে দেন।

এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের অপরাধে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, বাড়িওয়ালারা তাদের আইনি দায়িত্ব সম্পর্কে “বিপজ্জনক অজ্ঞতা” প্রদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতির উন্নতিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। একই সঙ্গে  ভাড়াটিয়া ও কাউন্সিলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, ভাড়াটিয়াদের ঝুঁকিতে ফেলে দেয় এমন অসাধু বাড়িওয়ালাদের আমরা সহ্য করব না। নিরাপদ ও সঠিকভাবে পরিচালিত ঘরবাড়ির অধিকার রয়েছে বারার প্রত্যেক বাসিন্দার।”

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে অভিযুক্তরা তিন বছর ধরে ইংল্যান্ডে কোনো বাসা ভাড়া দেওয়া, রেন্টাল প্রপার্টি পরিচালনা বা লেটিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন না। এটি কার্যকর হবে আগামী ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অন্যতম কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এটি লঙ্ঘন করলে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

ঘরবাড়ির পরিবেশ বা বাড়িওয়ালাকে নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে [email protected]এ যোগাযোগ করতে বলেছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। 

কমিউনিটি এর আরও খবর