img

সমাজসেবক জি এম মাহমুদ মিয়ার স্মরণসভা ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১৯:১০, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

সমাজসেবক জি এম মাহমুদ মিয়ার স্মরণসভা ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

যুক্তরাজ্য ও কানাডায় বাংলাদেশি কমিউনিটির সেবামুখী এক সুহৃদ ছিলেন মরহুম আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ মাহমুদ মিয়া। তাঁর পুরো জীবনজুড়ে ছিল মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও নিঃস্বার্থ সহযোগিতার হাত। বিশেষ করে কানাডায় নতুন আসা বাংলাদেশি ইমিগ্র্যান্টদের সহায়তায় তিনি ছিলেন এক নির্ভরতার নাম। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন সৎ, ধার্মিক ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জ্বল একজন আদর্শবান মানুষ। সমাজের যে কোনো মানুষের সঙ্গে সহজেই আত্মিক সম্পর্ক তৈরি করতে পারতেন—ছিল তাঁর অন্তর্নিহিত অসাধারণ গুণ।

নীরবে-নিভৃতে মানুষের উপকার করা ছিল তাঁর স্বভাব। সমাজসেবা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও রাজনীতির ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন আজীবন সক্রিয়। প্রবাসের নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রাখতে তাঁর ছিল নানামুখী উদ্যোগ। বিশেষ করে বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাংলাভাষার প্রতি যে মমত্ববোধ সৃষ্টি করেছেন তা কমিউনিটিতে সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। —মরহুম জিএম মাহমুদ মিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা তুলে ধরেন।

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে স্থানীয় কমিউনিটি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও প্রবাসীদের সমন্বয়ে গঠিত নাগরিক কমিটির উদ্যোগে ২৬ নভেম্বর  অনুষ্ঠিত হয় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল।

শুরুতাই পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন ইউসুফ ও মোস্তফা এবং স্মরণসভা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন বার্মিংহাম জামে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের ইমাম মাওলানা সিদ্দিক আহমদ।

সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনটি হয়ে ওঠে এক হৃদয়গ্রাহী স্মৃতিচারণের আসর। বার্মিংহাম ছাড়াও  ওয়েলস, কার্ডিফ, সেন্ট্রাল লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে আগত প্রায় দুই শতাধিক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। দীর্ঘ স্মৃতিচারণেও কারো মধ্যে ক্লান্তি বা বিরক্তির ছাপ ছিল না—প্রত্যেকের কথায় প্রকাশ পায় মাহমুদ মিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বার্মিংহাম মাল্টিপার্পাস সেন্টারের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কামরুল হাসান চুনু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউকেবিসিসিআই এর সভাপতি ড. এমজি মৌলা মিয়া এমবিই। পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন কমরেড মসুদ আহমেদ। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলা প্রেসক্লাব, বার্মিংহাম-মিডল্যান্ডসের সভাপতি মোহাম্মদ মারুফ; তাঁকে সহযোগিতা করেন হবিগঞ্জ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এম এ মুনতাকিম ও বাংলা ভয়েস-এর সাব-এডিটর জিয়া তালুকদার।

স্মরণসভায় স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন প্রবীণ কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব আজির উদ্দিন, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব  ড. আব্দুল খালিক, গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউ’কের কেন্দ্রীয় কনভেনর সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর, বাংলাদেশ মাল্টিপার্পাস সেন্টারের ট্রাস্টি  ফয়জুর রহমান চৌধুরী এমবিই, বার্মিংহাম বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন এর সভাপতি আব্দুল  মালিক পারভেজ, দেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মিসবাউর রহমান, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব কয়ছর আহমদ, রাজনীতিবিদ  বশির মিয়া কাদির, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আব্দুল কাদির আবুল, রাজনীতিবিদ ছয়ফূল আলম, নিজাম উদ্দিন, রাজনীতিবিদ আকমল খান,রাজনীতিবিদ এডভোকেট গোলাম মোস্তফা, এনামুল হক খান নেপা, সাংবাদিক ও কলামিস্ট ফারুক যোশী,  এনাম আহমদ, সাংবাদিক সোহেল আহমদ চৌধুরী, সৈয়দ শিপার আহমদ,  সৈয়দ শহিদ আলী, ব্যবসায়ী তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, ড. জশ, এডভোকেট নজরুল, গ্রেটার ম্যানচেস্টার মৌলভীবাজার জেলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এর চেয়ারম্যান  রুহুল আমিন রুহেল, গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের সাংগঠনিক সম্পাদক  শাহ শাফি কাদির, ইউনিটি অব মৌলভীবাজার সভাপতি আব্দুর রুউফ তালুকদার, ও মোহনা মৌলভীবাজার এর সভাপতি মোহাম্মদ মুজিব মিয়া প্রমুখ।

মৌলভীবাজার জেলা সদরের বালিকান্দি গ্রামের কৃতিময় পুরুষ, সিলেট বিভাগের গর্ব, বার্মিংহামে বসবাসকারী জনপ্রিয় কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ মাহমুদ মিয়া গত ২৪ অক্টোবর রাত ১২:১৪ মিনিটে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।) 

গত ২৭ অক্টোবর ২০২৫, সোমবার, বাদ জোহর বার্মিংহাম সেন্ট্রাল মসজিদে বৃটেনের বিভিন্ন শহর থেকে আগত প্রচুরসংখ্যক লোকের অংশগ্রহণে নামাজে জানাজা শেষে বামিংহাম কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করার মাধ্যমে অশ্রুসিক্ত নয়নে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় বিদায় জানিয়েছে বৃটেনের বাংলাদেশ কমিউনিটি।

উল্লেখ্য, একসময়ের কানাডার বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ও সমাজসেবক জি এম মাহমুদ মিয়া দীর্ঘদিন কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি সিলেট ডিভিশন অব ক্যুইবেকের প্রতিষ্ঠাতা ও  প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, কানাডা বাংলা স্কুলের সাবেক সভাপতি, কানাডা মৌলভীবাজার সমিতি, মৌলভীবাজার জেলা আন্দোলন, সিলেট বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলন এবং মৌলভীবাজার জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পেইন এর অন্যতম পৃষ্টপোষক, গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।  তিনি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘অন্বেষা’ মৌলভীবাজার এর প্রবাসী দাতা ছাড়াও নিজ এলাকার মসজিদ মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত ছিলেন। একজন জনপ্রিয় কমিউনিটি নেতা, পরোপকারী, জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব হিসাবে আজীবন মানুষের জন্য নিষ্ঠা ও নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

তিনি ছিলেন মানবতার সেবায় নিবেদিত এক প্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব, যিনি সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বাংলাদেশ, কানাডা এবং যুক্তরাজ্য - এ তিন দেশের বাংলাদেশী কমিউনিটির সেবায় অক্লান্ত নিবেদিত এ মহান ব্যক্তি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এ তিন দেশের কমিউনিটির মধ্যে সেতুবন্ধনে মরহুম মাহমুদ মিয়ার অবদানটি অনস্বীকার্য। 

বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কাজে তাঁর অবদান কমিউনিটির মানুষেরা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে। সাহসী ও মহাণ ব‍্যাক্তিত্ব সম্পন্ন একজন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতা হিসেবে পুরো বিশ্বাব‍্যাপী তিনি পরিচিত ছিলেন।সংবাদ কর্মীদের সাথেও ছিলো তাঁর হৃদ্যতা। ডেইলি সিলেট এন্ড দৈনিক মৌলভীবাজার ডট কমের চেয়ারম্যান সহ ইউকে বিডি টিভির  সাথে ও জড়িত ছিলেন। তিনি একজন সৎ, মানবিক গুণসম্পন্ন একজন ভালো মানুষ। তাঁর মৃত্যুতে কমিউনিটি তথা সমাজে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। 


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

টাওয়ার হ্যামলেটস্ কাউন্সিলের রিলিফ ফান্ড বাসিন্দাদের কাউন্সিল ট্যাক্স বৃদ্ধি থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে

প্রকাশিত :  ১৭:১৪, ১৫ আগষ্ট ২০২৬

কস্ট অব লিভিং ক্রাইসিস বা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সংকটে থাকা পরিবারগুলো, যাদের বার্ষিক ৬০ হাজার পাউন্ডের কম তাদেরকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে গঠিত রিলিফ ফান্ড থেকে শত শত পরিবার উপকৃত হতে পারেন।

এই তহবিলটি সহযোগিতা পাওয়ার উপযুক্ত পরিবারগুলোকে কাউন্সিল ট্যাক্স বৃদ্ধির ২.৯৯ শতাংশ পুষিয়ে দেবে। এটি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন স্কিম’ সিটিআরসি-এর পাশাপাশি কার্যকর হবে; এই স্কিমের আওতায় সর্বনিম্ন আয়ভুক্ত বাসিন্দারা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পেয়ে থাকেন।

কাউন্সিল ট্যাক্স কস্ট অব লিভিং ফান্ডের আওতায় যেসব পরিবারের সম্মিলত আয় ৬০ হাজার পাউন্ডের নির্ধারিত সীমার নীচে  এবং যারা বর্তমানে কাউন্সিল ট্যাক্স সহায়তা পাচ্ছেন না, তাদের এই বর্ধিত কর দিতে হবে না; ফলে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য তাদের হাতে বাড়তি অর্থ থাকবে।

চলমান অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে বাসিন্দাদের সহায়তা করা এবং পুরো বারাজুড়ে বৈষম্য মোকাবিলার ক্ষেত্রে কাউন্সিলের বৃহত্তর প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ হল এই উদ্যোগ।

এ প্রসঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “অসংখ্য পরিবার এখনো নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের উর্ধ্বগতির চাপে হিমশিম খাচ্ছে। এই তহবিলটি সেই চাপ কমাতে এবং যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর উপায়।”

তিনি বলেন, “ওয়েস্ট কালেকশন (আবর্জনা সংগ্রহ) ও লাইব্রেরি থেকে শুরু করে স্কুল ও কমিউনিটি সার্ভিসের মতো যেসব সেবার ওপর বাসিন্দারা প্রতিদিন নির্ভর করেন, সেগুলোর অর্থায়নের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্সঅপরিহার্য; তা সত্ত্বেও স্থানীয় পরিবারগুলোর ওপর এর বোঝা যথাসম্ভব কম রাখার বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ডেপুটি মেয়র এবং ট্যাকলিং ইনইকুয়ালিটি এন্ডস্ট-অব-লিভিং ক্রইসিস বিষয়ক লিড মেম্বার কাউন্সিলর মায়ুম তালুকদার বলেছেন, “বিল সামান্য বাড়লেও তা পরিবারের বাজেটের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

উপযুক্ত বাসিন্দাদের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স বৃদ্ধির খরচ বহন করার মাধ্যমে আমরা পরিবারগুলোকে তাদের আয়ের একটি বড় অংশ হাতে রাখতে সহায়তা করতে পারি, এমন এক সময়ে যখন প্রতিটি পাউন্ডই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” 

বাসিন্দাদের জন্য উপযুক্ত অন্যান্য সহায়তা, যেমন গ্রীষ্মকালীন বিনামূল্যে বিভিন্ন কার্যক্রম, খাদ্যের খরচ মেটাতে সহায়তা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্সারি বা অনুদানের মতো সুবিধা ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের ‘কস্ট অফ লিভিং হেল্প’  ওয়েবপেজটি www.towerhamlets.gov.uk/costofliving দেখুন।

আবেদন করতে \'কাউন্সিল ট্যাক্স কস্ট-ব-লিভিং রিলিফ ফান্ড\'- এর পেজটি www.towerhamlets.gov.uk/costoflivingrelieffund ভিজিট করুন।

কমিউনিটি এর আরও খবর