img

আপাতত ঢাকায় রেখেই চলবে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা

প্রকাশিত :  ০৬:১৫, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫

আপাতত ঢাকায় রেখেই চলবে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা বেশ জটিল পর্যায়ে রয়েছে। 

এছাড়া, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুসসহ অন্যান্য সমস্যাগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে তাকে ঢাকায় রেখেই চিকিৎসা করা হবে এবং প্রতিদিনই তার ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছে। চিকিৎসকেরা এখনো তার স্বাস্থ্যের অবস্থাকে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করছেন। তাদের পর্যবেক্ষণ হলো, কিডনি কার্যক্ষমতায় স্থিতিশীলতা ছাড়া তার সামগ্রিক শারীরিক অবস্থায় স্থায়ী উন্নতি আসা কঠিন।

এ পরিস্থিতিতে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার বিষয়ে বিএনপি বা পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো উদ্যোগের কথা জানা যায়নি। কাতার আমিরের পক্ষ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর যে প্রক্রিয়া চলছিল, সেটিও স্থগিত রাখা হয়েছে। জানা গেছে, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার জন্য কাতার আমিরের পক্ষ থেকে জার্মানভিত্তিক এয়ারলাইনস এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে। 

নিয়মানুযায়ী, এফএআই এভিয়েশন গত শনিবার ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য অনুমতির আবেদন করে এবং সেই অনুযায়ী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অনুমোদনও দেয়। তবে এই সূচির পরিবর্তন হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সূত্র জানায়, গত শনিবারের আবেদনে মঙ্গলবার ঢাকায় অবতরণ এবং পরদিন বুধবার লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার সূচি চাওয়া হয়েছিল। 

এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান প্রতিদিনই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়া-আসা করছেন এবং চিকিৎসার তদারকি করছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চিকিৎসার মেডিকেল বোর্ডের সদস্য হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমান চিকিৎসক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ম্যাডামের চিকিৎসার দেখভাল করছেন।’ 

চিকিৎসকেরা মনে করছেন, আগামী কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশি বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর দ্রুত তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা চলছে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

এশিয়ায় কোন দেশে জ্বালানি তেলের দাম কত

প্রকাশিত :  ১২:৩৩, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা এবং বিভিন্ন দেশের সরকারি নীতির কারণে এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের দামেও রয়েছে পার্থক্য। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘গ্লোবাল পেট্রোল প্রাইসেস’-এর সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এশিয়ার প্রধান দেশগুলোর জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তেলের দাম সবচেয়ে কম মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোতে। ইরানে সরকারি বিশাল ভর্তুকির কারণে সবচেয়ে কম দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম মাত্র ১,২১০ ইরানি রিয়াল, যা মার্কিন ডলারে হিসাব করলে মাত্র ৩ সেন্ট থেকে ৩৬ সেন্টের মতো। আরেক প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবে প্রতি লিটার তেলের জন্য দিতে হচ্ছে ২.৩১ সৌদি রিয়াল, যা প্রায় ৫৪ থেকে ৬২ সেন্টের সমান।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও রয়েছে তেলের দামে কিছুটা ভিন্নতা। মালয়েশিয়ায় সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সরকার তেলের দামে অর্থ সাহায্য দিয়ে থাকে। ফলে সেখানে প্রতি লিটার তেল পাওয়া যাচ্ছে ৪.৩৮ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতে, যা ডলারে ৫০ থেকে ৯৪ সেন্টের মতো। আর ইন্দোনেশিয়ায় প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১৬,৬৯৯ ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া, যা প্রায় ৮২ সেন্ট।

অন্যদিকে যেসকল দেশ তেল আমদানির ওপর নির্ভর করে কিংবা তেলের ওপর বেশি কর বসায়, সেখানে দাম তুলনামূলক বেশি। জাপানে প্রতি লিটার পেট্রোলের গড় দাম ১৭২ জাপানি ইয়েন, যা মার্কিন ডলারে ৯৫ সেন্ট থেকে ১.০৬ ডলার। 

চীনে প্রতি লিটার তেলের জন্য খরচ করতে হচ্ছে ৮.৬১ ইউয়ান বা ৯৯ সেন্ট থেকে ১.১২ ডলার। ভারতে লিটারপ্রতি গড় দাম পড়ে ১০৭ রুপি, যা প্রায় ৯৮ সেন্ট থেকে ১.০৭ ডলার। আর থাইল্যান্ডে প্রতি লিটার তেলের দাম গিয়ে ঠেকেছে ৪৮.১০ থাই বাতে, যা প্রায় ১.০৩ থেকে ১.২৬ ডলার। 

এদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে পেট্রোল প্রতি লিটার ১৬০ টাকা এবং অকটেন প্রতি লিটার ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে (ডলারের হিসাবে প্রায় ১.৩০ থেকে ১.৩৪ ডলার)।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে দেশগুলো নিজেদের তেল উৎপাদন করে কিংবা জনগণের জন্য তেলের দামে ভর্তুকি দেয়, সেখানে জ্বালানি তেল বেশ সস্তা। কিন্তু বাংলাদেশ, ভারত বা জাপানের মতো যেসব দেশকে বিদেশ থেকে তেল কিনে আনতে হয় এবং সরকার তেলের ওপর শুল্ক আরোপ করে, সেখানকার সাধারণ মানুষকে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।

সূত্র: গ্লোবাল পেট্রোল প্রাইসেস।