img

হবিগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কৃত বৈষম্যবিরোধী নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত :  ১৩:৪৫, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

 হবিগঞ্জে চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কৃত বৈষম্যবিরোধী নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

চাঁদাবাজির অভিযোগে হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এক নেতাসহ তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শহরের চৌধুরী বাজার এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হবিগঞ্জ পৌরসভার উমেদনগর এলাকার বাসিন্দা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক (সাকিব) (২৪), উমেদনগর (পুরানহাটি) এলাকার শিহাব আহমেদ (২০) ও সদর উপজেলার নছরপুর গ্রামের মো. মোশারফ (১৯)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনামুল হকের নেতৃত্বে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গতকাল রাতে শহরের চৌধুরী বাজার এলাকার ‘আল মদিনা ট্রেডার্স’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যান। তাঁরা প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ শেখ জামাল মিয়ার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে যান। পরে তাঁদেরকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আটকে রাখেন। এ সময় সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ঘটনাস্থলের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। তারা দোকানের সামনে হট্টগোল দেখে সেখানে যায়। এ সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক অভিযোগ করলে সেনাবাহিনী তিনজনকে আটকের পর সদর থানায় হস্তান্তর করে।

এ বিষয়ে কথা বলতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংগঠনটির এক নেতা বলেন, এনামুল হক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে দল থেকে কয়েক মাস আগে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনি একই অভিযোগে কয়েক মাস আগে কারাভোগও করেছেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শেখ জামাল মিয়া তিনজনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছেন। পরে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ বুধবার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

মৌলভীবাজারে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশিত :  ১৭:২৪, ১২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৪৪, ১২ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুজিবুর রহমান (২৬) নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। দেশজুড়ে পুশইন ও সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রাম সীমান্তের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় ওই বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয় বলে জানান কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।’

শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিপা রানী দাস বলেন, ‘খবর নিয়ে জানতে পেরেছি- বিকেলে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় মনু নদীতে নামার পর মুজিবুর ভারতীয় সীমানায় চলে গেলে বিএসএফ তাকে গুলি করে। তার মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে আছে।’

এদিকে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় গুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সীমান্তে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি, যা ইতিবাচক হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে (মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুন) সীমান্ত পরিস্থিতি অবনতি হয়।

জুন মাসে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু মে মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ছয়টি হামলার ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ। এছাড়া বিএসএফের হাতে ১৪ জন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন।

আইন ও সালিশ কেন্দের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত কমপক্ষে ছয় বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর গুলি ও নির্যাতনে নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে গত মে মাসের শেষভাগ থেকে ভারত থেকে পুশইনের চেষ্টা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষ করে ভারতে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর