img

টাওয়ার হ্যামলেটসে ৩০০ শিক্ষার্থী নিয়ে চালু হলো ফ্রি কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস ক্লাস

প্রকাশিত :  ২৩:২০, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২৩:২৯, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাসহ ৪টি ভাষায় সপ্তাহে ২২টি ক্লাস চলছে

টাওয়ার হ্যামলেটসে ৩০০ শিক্ষার্থী নিয়ে চালু হলো ফ্রি কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস ক্লাস

লন্ডন, ১৬ জানুয়ারি: টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে আবারো চালু হয়েছে ইয়াং কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস (ওয়াইসিএল) সার্ভিস। এর মাধ্যমে এই বারাতে কমিউনিটি ভাষা শিক্ষালাভের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।
বহুজাতিক ও বহুভাষী মানুষের বাসস্থান টাওয়ার হ্যামলেটসের কমিউনিটিতে পারস্পরিক ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের বন্ধন আরও শক্ত করতে বর্তমানে আটটি কেন্দ্রে বাংলা, আরবি, ক্যান্টনিজ, ম্যান্ডারিন ও সোমালি ভাষার ফ্রি ক্লাসে অংশ নিচ্ছে ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী প্রায় ৩০০ শিশু-কিশোর। আর প্রতিদিনই এই সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে চারটি ভাষায় প্রতি সপ্তাহে মোট ২২টি ক্লাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
স্কুল সময়ের বাইরে ও সপ্তাহান্তে (শনি-রবিবার) পরিচালিত এই ক্লাসগুলো টাওয়ার হ্যামলেটসের বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটিগুলোর বাস্তব চাহিদাকে সামনে রেখে গড়ে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন আইডিয়া স্টোর, স্কুল, লাইব্রেরি ও কমিউনিটি সেন্টারে পরিচালিত এই উদ্যোগ শিশুদের শুধু ভাষা শেখার সুযোগই করে দিচ্ছে না, বরং তাদের নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতেও সহায়তা করছে।
কমিউনিটির বাড়তি আগ্রহ এবং এতে অংশগ্রহণের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে আরও স্কুল ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানে এই ভাষা শিক্ষা ক্লাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সাল থেকে জিসিএসই ও এ-লেভেল পর্যায়ের বাংলা ও অন্যান্য কমিউনিটি ভাষা শিক্ষাদান অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে, যাতে অদূর ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষার বিষয় হিশেবে এসব ভাষায় জিসিএসই ও এ-লেভেল পরীক্ষা দিতে পারে।
এ প্রসঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, "বিশেষজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে, যেসব শিশু বহুভাষিক, যারা মাতৃভাষায় দক্ষ, নিজের ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন এবং একাধিক ভাষায় কথা বলতে পারে, তারা বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এসব শিশু পড়াশোনায় ভালো ফল করে এবং ভবিষ্যৎ জীবনে অপেক্ষাকৃত বেশি সফল হয়।"
"এই ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাউন্সিল প্রায় ১ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ করেছে" উল্লেখ করে মেয়র বলেন, "আমাদের লক্ষ্য হলো- আমাদের শিশুরা যেন বহুভাষিক হয়ে ওঠে। তারা শুধু ইংরেজিতেই নয়, নিজেদের কমিউনিটির ভাষা এবং অন্যান্য ভাষাতেও সাবলীলভাবে যেনো কথা বুঝতে, বলতে, পড়তে ও লিখতে পারে।"
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "অনুগ্রহ করে এই সুযোগগুলো কাজে লাগান। আপনার সন্তান যদি দুই বা তিনটি ভাষায় মনের ভাব আদান-প্রদান করতে পারে তাহলে সে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে আরও বেশী সক্ষমতা নিয়ে বড় হবে। ইংরেজি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মাতৃভাষাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অন্য ভাষা শিখতে পারলে তা আপনার সন্তানকে আরও আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য আরো ভালোভাবে প্রস্তুত করে তুলবে।"



বিনামূল্যে ভাষা শিক্ষার এই সুযোগ টাওয়ার হ্যামলেটসে বসবাসকারী, এই বারার স্কুলের শিক্ষার্থী এবং যাদের বাবা-মা বা অভিভাবক টাওয়ার হ্যামলেটসে কাজ করেন তাদের সকলের জন্যই উন্মুক্ত। এর ফলে বহু পরিবার সহজেই এই কর্মসূচির সুফল গ্রহণ করতে পারছে।
প্রাইমারী স্কুল শেষ করা শিক্ষার্থীদের জন্য ইয়াং কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস বিশেষ সার্টিফিকেট প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যাতে শিশুদের ভাষাশিক্ষা সাফল্যের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া যায় এবং তারা মাধ্যমিক পর্যায়ে ভাষা শিক্ষা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত হয়।
এছাড়া ২০২৬ সালের মে মাস থেকে জিসিএসই ও এ-লেভেল পর্যায়েও ভাষা শিক্ষার কোর্স অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।
এই সার্ভিস সম্পর্কে এডুকেশন বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার, এবং ডেপুটি মেয়র, কাউন্সিলার মাইয়ুম তালুকদার বলেন, "বহু বছর আগে বাজেট কাটছাঁটের ফলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাস আবার চালু হওয়ায় কিশোর-তরুণ বয়সীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ শেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং আমি নিজেই তার একটি উদাহরণ। আমি জর্জ গ্রিনস স্কুলে বাংলা পড়াশোনা করেছি এবং ভালো ফল অর্জন করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ মানুষকে একত্র করে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলে। একই সঙ্গে এটি আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। প্রতিটি মানুষের ঐতিহ্য গুরুত্বপূর্ণ, আর কমিউনিটি ভাষা সেই ঐতিহ্যের সঙ্গেই আমাদের যুক্ত করে।



হোয়াইটচ্যাপেলের আইডিয়া স্টোরে বাংলা শিখতে আসে ছয় বছরের মাইমুনা। ছোট্ট মাইমুনা জানায়, সে বাংলা শিখছে। এখন সে বর্ণমালা অ, আ পড়তে পারে।
তাহমিনা খানম তার দুই সন্তানকে বাংলা শিখতে পাঠান আইডিয়া স্টোরে। তিনি জানান, ছোট বেলায় বাংলাদেশে গিয়ে বাংলা শেখার সুযোগ হয়েছিলো তার। কিন্তু এখানে তিনি তার সন্তানদের বাংলা শিখাতে পারছিলেন না। নিজের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে নিজস্ব ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা থেকেই তিনি তার সন্তানদের এখানে নিয়ে আসছেন। এখন তার সন্তানরা বাসায় গিয়ে ছোট ছোট শব্দ বলছে বাংলায়। তিনি বলেন, "আমি আশা করছি সামনে তারা সুন্দর করে এই ভাষায় তাদের নানী-দাদীদের সাথে কথা বলতে পারবে।"
চাইনিজ ভাষা শিক্ষক জিয়াংকান ইয়াং জানান, "যখন শিশুরা ক্লাসে প্রবেশ করে চাইনিজ ভাষায় সবাইকে শুভেচ্ছা জানায় তখন শুনতে অন্য রকম লাগে।"

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

টাওয়ার হ্যামলেটস সেন্ট জর্জেস লেজার সেন্টার পুনর্নির্মাণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করেছে

প্রকাশিত :  ১১:৩৭, ১৫ জুন ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল সেন্ট জর্জেস লেজার সেন্টারের পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের জন্য গিল্ডমোর গ্রুপ-কে নিয়োগ দিয়েছে। এই পদক্ষেপটি লেইজার সুবিধা সম্প্রসারণ, নতুন কাউন্সিল বাড়ি নির্মাণ এবং আশেপাশের এলাকার উন্নয়নের পরিকল্পনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ার পর গিল্ডমোর গ্রুপকে ভবন ভাঙার কাজ পরিচালনা, জমি প্রস্তুত করা এবং নির্মাণ শুরুর আগে নতুন সুবিধার বিস্তারিত নকশা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি কাউন্সিলের লেইজার সার্ভিস (শরীরচর্চা/ক্রীড়া সুবিধাদি) ও নতুন বাড়ি নির্মাণে বৃহত্তর বিনিয়োগের অংশ, যা বরোজুড়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যমান সেন্টারটির জায়গায় একটি আধুনিক ও উচ্চমানের অবকাঠামো তৈরি করা হবে, যা সব বয়স ও সক্ষমতার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সহায়তার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। নতুন কেন্দ্রটি ব্রিএম এক্সেলেন্ট মান অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং এতে থাকবেঃ ২৫ মিটার সুইমিং পুল, শিক্ষার্থীদের জন্য পুল, স্প্ল্যাশ প্যাড, খেলার মাঠ, ব্যাডমিন্টন কোর্টসহ স্পোর্টস হল, মহিলাদের জন্য আলাদা স্থানসহ ফিটনেস স্যুট, এবং ফিটনেস স্টুডিও।

নতুন পুলটি বরোর চারটি বিদ্যমান পুলের সাথে যুক্ত হবে, যেখানে বাসিন্দারা বিনামূল্যে সাঁতার কাটতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে সকল মহিলা এবং ৫৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার, পাশাপাশি ৩৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ এবং পরিবারের জন্য অতিরিক্ত ফ্রি সেশন।

লেজার সেন্টারের পাশাপাশি এই প্রকল্পে ৩০টি নতুন কাউন্সিল-মালিকানাধীন বাড়ি নির্মিত হবে, যার বেশিরভাগই হবে পারিবারিক আকারের। এটি সাশ্রয়ী সামাজিক আবাসনের বরোর উচ্চ চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে। তিনটি বাড়ি সম্পূর্ণ প্রবেশযোগ্য হবে, যা অতিরিক্ত চাহিদাসম্পন্ন বাসিন্দাদের সহায়তা করবে।

পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে আশেপাশের পাবলিক স্থানগুলিতেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনা হবে, যার মধ্যে রয়েছে সেন্ট জর্জেস গার্ডেনসের উন্নয়ন। পরিকল্পনায় রয়েছে একটি নতুন খেলার মাঠ, বহুমুখী গেমস এরিয়া এবং উন্নত উন্মুক্ত স্থান।

সারা দেশে যেখানে লেজার সুবিধা হ্রাস পাচ্ছে, সেখানে টাওয়ার হ্যামলেটস স্বাস্থ্য ও সুস্থতার উন্নয়নকারী সেবাগুলিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। বিদ্যমান সুবিধাগুলিতে ৮ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে ২০,০০০-এরও বেশি সাঁতারের সদস্যপদসহ ৩০,০০০-এরও বেশি বি ওয়েল লেজার সদস্য হয়েছেন।কাউন্সিল ১৫০-এরও বেশি বাসিন্দাকে লাইফগার্ড হিসেবে যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করেছে এবং সেন্ট জর্জেসের পুনর্নির্মাণ প্রবেশাধিকার, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বিস্তৃত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদ্যমান ভবন ভাঙার কাজ ২০২৬ সালের শরৎকালে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং ২০২৭ সালের শুরুতে নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন লেজার সেন্টার ও বাড়িগুলি ২০২৯ সালে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেছেন, \"একজন ঠিকাদার নিয়োগ এমন একটি স্থান তৈরির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা কেবল উচ্চমানের অবকাশ সুবিধায় প্রবেশাধিকার উন্নত করবে না বরং ৩০টি অতিপ্রয়োজনীয় নতুন বাড়িও সরবরাহ করবে। এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটি দেখায় যে আমরা আমাদের বাসিন্দাদের বিস্তৃত চাহিদা পূরণে বরো জুড়ে স্থানগুলি কীভাবে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করতে পারি।\"

গিল্ডমোর গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনগিন এরটোসুন বলেছেন, \"এই প্রকল্পের জন্য লন্ডন বরো অব টাওয়ার হ্যামলেটস কর্তৃক নির্বাচিত হতে পেরে আমরা গর্বিত ও উত্সাহিত। এই প্রকল্পটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনে একটি বাস্তব ও স্থায়ী প্রভাব ফেলবে এবং আমরা সেই দায়িত্ব অনুভব করি। আমরা সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে সেন্ট জর্জেস আগামী প্রজন্মের জন্য স্থানীয় কমিউনিটিকে ভালোভাবে সেবা দেবে।\"

কমিউনিটি এর আরও খবর