img

টাওয়ার হ্যামলেটসে ৩০০ শিক্ষার্থী নিয়ে চালু হলো ফ্রি কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস ক্লাস

প্রকাশিত :  ২৩:২০, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২৩:২৯, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাসহ ৪টি ভাষায় সপ্তাহে ২২টি ক্লাস চলছে

টাওয়ার হ্যামলেটসে ৩০০ শিক্ষার্থী নিয়ে চালু হলো ফ্রি কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস ক্লাস

লন্ডন, ১৬ জানুয়ারি: টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে আবারো চালু হয়েছে ইয়াং কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস (ওয়াইসিএল) সার্ভিস। এর মাধ্যমে এই বারাতে কমিউনিটি ভাষা শিক্ষালাভের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।
বহুজাতিক ও বহুভাষী মানুষের বাসস্থান টাওয়ার হ্যামলেটসের কমিউনিটিতে পারস্পরিক ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের বন্ধন আরও শক্ত করতে বর্তমানে আটটি কেন্দ্রে বাংলা, আরবি, ক্যান্টনিজ, ম্যান্ডারিন ও সোমালি ভাষার ফ্রি ক্লাসে অংশ নিচ্ছে ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী প্রায় ৩০০ শিশু-কিশোর। আর প্রতিদিনই এই সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে চারটি ভাষায় প্রতি সপ্তাহে মোট ২২টি ক্লাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
স্কুল সময়ের বাইরে ও সপ্তাহান্তে (শনি-রবিবার) পরিচালিত এই ক্লাসগুলো টাওয়ার হ্যামলেটসের বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটিগুলোর বাস্তব চাহিদাকে সামনে রেখে গড়ে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন আইডিয়া স্টোর, স্কুল, লাইব্রেরি ও কমিউনিটি সেন্টারে পরিচালিত এই উদ্যোগ শিশুদের শুধু ভাষা শেখার সুযোগই করে দিচ্ছে না, বরং তাদের নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতেও সহায়তা করছে।
কমিউনিটির বাড়তি আগ্রহ এবং এতে অংশগ্রহণের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে আরও স্কুল ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানে এই ভাষা শিক্ষা ক্লাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সাল থেকে জিসিএসই ও এ-লেভেল পর্যায়ের বাংলা ও অন্যান্য কমিউনিটি ভাষা শিক্ষাদান অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে, যাতে অদূর ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষার বিষয় হিশেবে এসব ভাষায় জিসিএসই ও এ-লেভেল পরীক্ষা দিতে পারে।
এ প্রসঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, "বিশেষজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে, যেসব শিশু বহুভাষিক, যারা মাতৃভাষায় দক্ষ, নিজের ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন এবং একাধিক ভাষায় কথা বলতে পারে, তারা বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এসব শিশু পড়াশোনায় ভালো ফল করে এবং ভবিষ্যৎ জীবনে অপেক্ষাকৃত বেশি সফল হয়।"
"এই ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাউন্সিল প্রায় ১ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ করেছে" উল্লেখ করে মেয়র বলেন, "আমাদের লক্ষ্য হলো- আমাদের শিশুরা যেন বহুভাষিক হয়ে ওঠে। তারা শুধু ইংরেজিতেই নয়, নিজেদের কমিউনিটির ভাষা এবং অন্যান্য ভাষাতেও সাবলীলভাবে যেনো কথা বুঝতে, বলতে, পড়তে ও লিখতে পারে।"
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "অনুগ্রহ করে এই সুযোগগুলো কাজে লাগান। আপনার সন্তান যদি দুই বা তিনটি ভাষায় মনের ভাব আদান-প্রদান করতে পারে তাহলে সে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে আরও বেশী সক্ষমতা নিয়ে বড় হবে। ইংরেজি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মাতৃভাষাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অন্য ভাষা শিখতে পারলে তা আপনার সন্তানকে আরও আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য আরো ভালোভাবে প্রস্তুত করে তুলবে।"



বিনামূল্যে ভাষা শিক্ষার এই সুযোগ টাওয়ার হ্যামলেটসে বসবাসকারী, এই বারার স্কুলের শিক্ষার্থী এবং যাদের বাবা-মা বা অভিভাবক টাওয়ার হ্যামলেটসে কাজ করেন তাদের সকলের জন্যই উন্মুক্ত। এর ফলে বহু পরিবার সহজেই এই কর্মসূচির সুফল গ্রহণ করতে পারছে।
প্রাইমারী স্কুল শেষ করা শিক্ষার্থীদের জন্য ইয়াং কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস বিশেষ সার্টিফিকেট প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যাতে শিশুদের ভাষাশিক্ষা সাফল্যের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া যায় এবং তারা মাধ্যমিক পর্যায়ে ভাষা শিক্ষা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত হয়।
এছাড়া ২০২৬ সালের মে মাস থেকে জিসিএসই ও এ-লেভেল পর্যায়েও ভাষা শিক্ষার কোর্স অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।
এই সার্ভিস সম্পর্কে এডুকেশন বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার, এবং ডেপুটি মেয়র, কাউন্সিলার মাইয়ুম তালুকদার বলেন, "বহু বছর আগে বাজেট কাটছাঁটের ফলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাস আবার চালু হওয়ায় কিশোর-তরুণ বয়সীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ শেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং আমি নিজেই তার একটি উদাহরণ। আমি জর্জ গ্রিনস স্কুলে বাংলা পড়াশোনা করেছি এবং ভালো ফল অর্জন করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ মানুষকে একত্র করে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলে। একই সঙ্গে এটি আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। প্রতিটি মানুষের ঐতিহ্য গুরুত্বপূর্ণ, আর কমিউনিটি ভাষা সেই ঐতিহ্যের সঙ্গেই আমাদের যুক্ত করে।



হোয়াইটচ্যাপেলের আইডিয়া স্টোরে বাংলা শিখতে আসে ছয় বছরের মাইমুনা। ছোট্ট মাইমুনা জানায়, সে বাংলা শিখছে। এখন সে বর্ণমালা অ, আ পড়তে পারে।
তাহমিনা খানম তার দুই সন্তানকে বাংলা শিখতে পাঠান আইডিয়া স্টোরে। তিনি জানান, ছোট বেলায় বাংলাদেশে গিয়ে বাংলা শেখার সুযোগ হয়েছিলো তার। কিন্তু এখানে তিনি তার সন্তানদের বাংলা শিখাতে পারছিলেন না। নিজের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে নিজস্ব ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা থেকেই তিনি তার সন্তানদের এখানে নিয়ে আসছেন। এখন তার সন্তানরা বাসায় গিয়ে ছোট ছোট শব্দ বলছে বাংলায়। তিনি বলেন, "আমি আশা করছি সামনে তারা সুন্দর করে এই ভাষায় তাদের নানী-দাদীদের সাথে কথা বলতে পারবে।"
চাইনিজ ভাষা শিক্ষক জিয়াংকান ইয়াং জানান, "যখন শিশুরা ক্লাসে প্রবেশ করে চাইনিজ ভাষায় সবাইকে শুভেচ্ছা জানায় তখন শুনতে অন্য রকম লাগে।"

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

লন্ডন মেয়রের এফোর্ডেবল হাউজিংয়ের কোটা কমানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে টাওয়ার হ্যামলেটসসহ ৭ কাউন্সিলের আইনি চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত :  ১৭:১১, ২৪ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:২০, ২৪ জুন ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস, হ্যাকনি এবং লুইশাম -লন্ডনের এই তিনটি কাউন্সিল একসাথে মেয়র অব লন্ডনের পরিকল্পিত সাশ্রয়ী আবাসনের (এফোর্ডেবল হাউজিং) কোটা ৩৫% থেকে ২০%-এ কমানোর সিদ্ধান্ত ঠেকাতে একটি আইনি চ্যালেঞ্জ শুরু করেছে।

মোট সাতটি কাউন্সিল এই আইনি পদক্ষেপকে সমর্থন করছে। এর মধ্যে ল্যাম্বেথ, সাউদার্ক, ওয়ালথাম ফরেস্ট এবং হ্যারিঙ্গে কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে এই আইনি চ্যালেঞ্জের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

হাইকোর্টে দাখিল করা এবং গ্রেটার লন্ডন অথরিটিকে প্রদান করা জুডিশিয়াল রিভিউ (বিচারিক পর্যালোচনা) আবেদনের সাথে সংযুক্ত প্রমাণাদিতে তুলে ধরা হয়েছে যে, লন্ডনের মেয়রের এই নীতি স্থানীয় কাউন্সিলগুলির তাদের বাসিন্দাদের জন্য সর্বোচ্চ মাত্রায় সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

লন্ডনের সাতটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমর্থনে করা এই আইনি চ্যালেঞ্জটি মূলত মেয়র অব লন্ডন-এর সেই প্রচেষ্টাকে ঘিরে, যেখানে তিনি প্রস্তাবিত লন্ডন প্ল্যানে থাকা বর্তমান ৩৫% সাশ্রয়ী (এফোর্ডেবল) বাসস্থানের কোটা কমাতে চেয়েছেন। কিন্তু এই পরিবর্তনটি করার জন্য যে আইনি বা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা দরকার, তা তিনি ঠিকভাবে অনুসরণ করেননি -এই অভিযোগই এখানে তোলা হয়েছে।

এছাড়াও, নীতিগত এই পরিবর্তনের আগে সঠিক ও ন্যায্য পরামর্শ (কনসালটেশন) করা হয়নি বলেও অভিযোগ আছে। বিশেষ করে, কেন পুরো লন্ডনের সব বরোতে একসাথে সাশ্রয়ী বাসস্থানের হার ২০%-এ নামিয়ে আনা হলো, তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি।

এই আইনি চ্যালেঞ্জে যৌথভাবে আবেদনকারী তিনটি কাউন্সিলের নেতৃত্বে রয়েছেন নির্বাহী মেয়রগণ, যারা তাঁদের নিজ নিজ বরোতে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

২০১৬ সালে লন্ডনের মেয়র ঘোষণা করেছিলেন যে নতুন সব বাড়ির অর্ধেকের বেশি সাশ্রয়ী মূল্যের (এফোর্ডেবল হোম) হতে হবে। কিন্তু এখন সেই কোটা ৩৫% থেকে আরও কমিয়ে ২০% করার পরিকল্পনা লন্ডনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষসমূহ, এমপি এবং ন্যাশনাল হাউজিং ফেডারেশন ও শেল্টারের মতো আবাসন সংস্থাগুলির তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। লন্ডনে সামাজিক আবাসনের অপেক্ষমাণ তালিকা ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং দশ লাখের বেশি লন্ডনবাসী অতিভীড়পূর্ণ (ওভারক্রাউডিং) বা পোকামাকড়, স্যাঁতসেঁতে ও ছাঁচের মতো অনুপযুক্ত পরিবেশে বসবাস করছেন। লন্ডন কাউন্সিলের অনুমান অনুযায়ী, মোট ১,৮৩,০০০ লন্ডনবাসী (অর্থাৎ শহরের প্রতি ৫০ জন বাসিন্দার মধ্যে একজন) গৃহহীন।

৯০,০০০ শিশু গৃহহীন হয়ে অস্থায়ী আবাসনে বাস করছে, যা লন্ডনের প্রতি ২১ জন শিশুর মধ্যে ১ জন - অর্থাৎ লন্ডনের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে কমপক্ষে একজন গৃহহীন শিশু রয়েছে। আবাসন খরচ লন্ডনে শিশু দারিদ্র্যের মূল কারণ। লন্ডনে আবাসন খরচ বাদ দিলে দারিদ্রের হার ১৫% থাকলেও, খরচ অন্তর্ভুক্ত করলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ শতাংশে। ইতিমধ্যেই লন্ডন স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত সংকটের মুখোমুখি, কারণ পরিবারগুলি শহর ছেড়ে চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত কমছে, ফলে শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা পড়ে যাচ্ছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেছেন, “সত্যিকারের এফোর্ডেবল হোমস্ বা সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়িঘরের প্রয়োজনীয়তা যখন আগের চেয়ে অনেক বেশি, তখন সেই আবাসনের কোটা কমানো একটি বড় ধরনের অন্যায়। আমাদের শহর দিন দিন সাধারণ লন্ডনবাসীর বসবাস, কাজ করা ও পরিবার গড়ার জায়গা হওয়ার বদলে অতি ধনী মানুষের বিনিয়োগের সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

“সিটি হল (লন্ডন মেয়রের কার্যালয়) দাবি করছে, এই নীতি নির্মাণ সংস্থাগুলোকে দ্রুত বাড়ি তৈরি করতে উৎসাহিত করবে। কিন্তু কার জন্য সেই বাড়ি? সাধারণ লন্ডনবাসী যদি তা কেনার বা ভাড়া নেয়ার সামর্থ্য না রাখে, তাহলে সেসব বাড়ি খালি পড়ে থাকবে। বাস্তবে, বাড়ি নির্মাণের গতি বাড়ানোর বদলে এই নীতিই তা ধীর করে দিচ্ছে। কিছু ডেভেলপার ইতোমধ্যেই তাদের প্রকল্প পিছিয়ে দিচ্ছে, যতক্ষণ না সাশ্রয়ী আবাসনের কোটা ২০%-এ নামানো হচ্ছে।”

মেয়র লুৎফুর রহমান আরও বলেন, “লন্ডন ক্রমেই দুই ভাগে বিভক্ত একটি শহরে পরিণত হচ্ছে। একদিকে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টগুলো বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কিনে খালি ফেলে রাখছে, আর অন্যদিকে পরিবারগুলো বছরের পর বছর হাউজিংয়ের অপেক্ষার তালিকায় (ওয়েটিং লিস্ট) পড়ে আছে।

“আমাদের শহরে প্রতি ২০ জন শিশুর মধ্যে ১ জন গৃহহীন, আর এক মিলিয়নেরও বেশি লন্ডনবাসী ওভারক্রাউডিং বা অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে বসবাস করছে অথবা স্যাঁতসেঁতে, ছাঁচ ও পোকামাকড়ের মতো মানবিক আবাসনহীন পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।”

তিনি বলেন, “সাতটি কাউন্সিল এই আইনি পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে - এটাই প্রমাণ করে যে এই নীতি পুরো লন্ডনজুড়ে কত বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা লন্ডনের মেয়র এবং গ্রেটার লন্ডন অথরিটির সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার জন্য সর্বদা প্রস্তুত, কিন্তু হাজার হাজার লন্ডনবাসীকে তাঁদের নিজ নিজ এলাকা থেকে উৎখাত করে দারিদ্র্য ও গৃহহীনতার দিকে ঠেলে দেওয়ার এই পরিস্থিতিতে আমরা নীরব থাকতে পারি না।”

উল্লেখ্য, টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান মে মাসের শুরুতে লন্ডনের মেয়রকে চিঠি লিখে প্রস্তাবিত আইনি চ্যালেঞ্জের কথা জানান। পরে হ্যাকনির মেয়র ও লুইশামের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁরা যৌথভাবে লন্ডনের মেয়রের “সময়-সীমাবদ্ধ পথ” (টাইম লিমিটেড রুট - টিএলআর) নামক “জরুরি” ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিচারিক পর্যালোচনার (জুডিশিয়াল রিভিউ) আবেদন করেন। এই ব্যবস্থার ফলে লন্ডনে নতুন নির্মাণ প্রকল্পে সাশ্রয়ী আবাসনের কোটা ৩৫% থেকে কমিয়ে ২০% করা হয়েছে। এখন এই মামলা হাইকোর্টে দায়ের করা হয়েছে এবং ল্যাম্বেথ, সাউথওয়ার্ক, ওয়ালথাম ফরেস্ট ও হ্যারিঙ্গি কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে এই চ্যালেঞ্জকে সমর্থন জানিয়ে চিঠি দিয়েছে।

হ্যাকনি’র নির্বাহী মেয়র জো গারবেট বলেন, “হ্যাকনির মেয়র হিসেবে আমার লক্ষ্য খুবই স্পষ্টঃ এমন একটি হ্যাকনি গড়ে তোলা, যেখানে আমাদের কমিউনিটির লোকজন বসবাস করার সামর্থ্য রাখেন। কিন্তু যখন ৪০% বাসিন্দা দারিদে্র্যর মধ্যে বসবাস করছে এবং স্থানীয় পরিবারগুলো সোশ্যাল হাউজিং পাওয়ার জন্য সবচেয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছে, তখন আমাদের জরুরি ভিত্তিতে আরও এফোর্ডেবল সোশ্যাল হোমস অর্থাৎ সামর্থাধীন সামাজিক আবাসন দরকার। 

“এটা নিশ্চিত করতে হলে ডেভেলপারদের অবশ্যই সত্যিকারের সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ করতে হবে, এবং যারা তা করবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু এর বদলে আমরা দেখছি মেয়র অব লন্ডন ঠিক উল্টো কাজ করছেন - টার্গেট বা লক্ষ্য কমিয়ে দিচ্ছেন, হ্যাকনি বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করছেন, এবং ডেভেলপারদের দায়মুক্তি দিচ্ছেন।”

তিনি বলেন, “লন্ডন মেয়রের চারপাশে এখন আর এমন কোন কাউন্সিল নেই যারা যেকোনো ডেভেলপার-প্রভাবিত সিদ্ধান্তে সায় দেবে। হ্যাকনিতে এখন এমন একজন মেয়র আছেন, যিনি সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য দৃঢ়ভাবে লড়বেন।”

লুইশামের নির্বাহী মেয়র লিয়াম শ্রীভাস্তভ বলেন, “লন্ডন এখন আবাসন সংকটের এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, এবং বেসরকারি ডেভেলপারদেরও এই শহরকে সহায়তা করার দায়িত্ব আছে। হাজার হাজার মানুষ যখন কাউন্সিলের হাউজিং অপেক্ষার তালিকায় রয়েছে, তখন তাদের (ডেভেলপারদের) মুনাফা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে দেওয়া একেবারেই ভুল হবে।

তিনি বলেন, “ডেভেলপারদের যতটা বেশি সম্ভব এফোর্ডেবল হোমস (সাশ্রয়ী ঘর) নির্মাণ করা উচিত; তাদের কম নির্মাণের সুযোগ দিলে পুরো শহর জুড়ে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ লন্ডনবাসীদের বাইরে ঠেলে দেবে।

“আমরা বুঝি যে মেয়র অব লন্ডন একটি স্থবির হাউজিং মার্কেট এবং ভঙ্গুর ডেভেলপার-নির্ভর মডেলের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, কিন্তু তিনি এই পরিবর্তনগুলোর পক্ষে কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দেননি, যা নিঃসন্দেহে লন্ডনে নির্মিত সাশ্রয়ী ঘরের সংখ্যা কমিয়ে দেবে।

তিনি আরও বলেন, “লুইশামে আমরা উন্নয়নের বিরুদ্ধে নই, বরং আমরা দায়িত্বশীল ডেভেলপারদের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যারা আমাদের কমিউনিটির প্রতি সম্মান দেখায় এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। এটি করতে হলে আমাদের পরিকল্পনা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে এটি আমাদের কমিউনিটির জন্য প্রয়োজনীয় আরও বেশি সাশ্রয়ী আবাসন কম নয়, বরং আরও বেশি করে সরবরাহে সহায়তা করে।”

কমিউনিটি এর আরও খবর