img

ভারতের সঙ্গে চুক্তির কথা ভিত্তিহীন, এটা জামায়াতের অপপ্রচার: বিএনপি

প্রকাশিত :  ০৯:৪০, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:২৪, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের সঙ্গে চুক্তির কথা ভিত্তিহীন, এটা জামায়াতের অপপ্রচার: বিএনপি

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের অভিযোগ ‘রাজনৈতিক অপপ্রচার’ হিসেবে দেখছে বিএনপি।

আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমীন এ কথা জানান।  

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, বিএনপি ভারতের সঙ্গে তিনটি চুক্তি করেছে। 
জবাবে মাহদী আমীন বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের খুব প্রভাবশালী একজন নেতা ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে যে দাবিটি করেছেন, তার স্বপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেনও না। কারণ যে তথ্য মিডিয়ায় এসেছে বলে তিনি দাবি করেছেন, সেটির ন্যূনতম কোনো বাস্তবতা নাই, সত্যতা নাই। তাহলে কি আমরা বলতে পারি যে বিতর্ক তৈরি করার জন্য এটি একটি রাজনৈতিক অপকৌশল, অপপ্রচার। আর যদি ওনাকে ভুল তথ্য প্রদান করা হয় বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য করা হয় তাহলে কি সেটা তার অজ্ঞতা? আমরা মনে করি এটা অপকৌশল বা অজ্ঞতা। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির বিষয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে- তা সম্পূর্ণরূপে অপপ্রচার। 
মাহদী আমীন আরও বলেন, আমরা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বলতে সেটাই বুঝি যে, এখানে ইতিবাচক রাজনীতি হবে, কোনো অপপ্রচার, অপকৌশল, অপরাজনীতি সেটা হওয়া উচিত না। কারণ, বিএনপির রাজনীতি মানেই তো বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের যে রাজনীতি, সেখানে হচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের ক্ষমতায়ন। এটিকে কেন্দ্র করেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির রাজনীতি।    

নিজের স্বার্থ রক্ষায় এবং অন্যের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দলের অবস্থান ও অতীতের কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে মাহাদী আমীন বলেন, আমরা দেখেছি তিস্তার পাড়ে পদ্মার পাড়ে পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য ধারাবাহিকভাবে বিশাল প্রোগ্রাম করা হয়েছে, সমাবেশ করা হয়েছে এটা তো বিএনপির রাজনীতি। সীমান্তে ফেলানি হত্যার পরে সবার আগে প্রতিবাদ করেছিল বিএনপি, রাজপথে নেমে এসেছিল বিএনপি।    
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এটি তো শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনীতি। বিএনপি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য আমাদের নেতার নেতৃত্বে সবার আগে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে। এ রকম অপপ্রচার না হওয়া সেটি আমাদের প্রত্যাশা।

জাতীয় এর আরও খবর

img

ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১০:৩৪, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে ভারতে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুকূল পরিবেশ হলেই প্রধানমন্ত্রী ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

বৃহস্পতিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতা করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুদেশের মধ্যে যে আশা-নিরাশার দোলাচল চলছিল সেটির অবসান ঘটল। 

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের অষ্টাদশতম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। এ সম্মেলনের আয়োজক ভারত। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে সরকার প্রধান তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, আগামী সপ্তাহে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না। ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা। তবে সরকারপ্রধানের ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফর হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। সবশেষ ৪ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের কাছে নতুন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।

বৃহস্পতিবার প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অনুকূল পরিবেশ হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন।

বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দিল্লি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে গেল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও ভারতের আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বিষয়টিকে ‘সিরিয়াসলি’ নেওয়ার কথাও বলেন।

সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেছিলেন, সরকার শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে চায় কি না, কেউ কেউ এ ধরনের স্পেকুলেট করছেন। কেউ কেউ এটা আসলে চায় না, ভারতের ওপর একটা চাপ তৈরির জন্য।

তিনি সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, আমরা একটা কথা খুব ক্লিয়ারলি বলতে চাই—মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সঙ্গে যখন এটাকে কন্ডিশন হিসেবে দেওয়া হয়েছে, ইউ হ্যাভ টু টেক ইট সিরিয়াসলি।