img

এবি পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা: শিক্ষা স্বাস্থ্য ও সামজিক উন্নয়নে গুরুত্বারোপ

প্রকাশিত :  ১৬:২৬, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

'মধ্যবিত্তের জন্য ‘রেন্ট-টু-ওউন’ আবাসন ও স্মার্ট পরিবহনসহ ৯ খাতে ৬৮ অভিপ্রায় ঘোষণা'

এবি পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা: শিক্ষা স্বাস্থ্য ও সামজিক উন্নয়নে গুরুত্বারোপ

শক্তিশালী জাতি, ন্যয়ভিত্তিক সমাজ, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি। 

আজ (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ইশতেহার ঘোষণা করেন। দলের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, আলতাফ হোসাইন। 

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে ভিত্তি করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ বিনির্মানে  এবি পার্টি প্রথম থেকেই কাজ করছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ে শত শত তরুণের জীবন ও অঙ্গহানির বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে কাজ করতেই হবে। যারা এই প্রত্যাশা ধরতে পারবে না তারা প্রত্যাখ্যাত হবে।

এবি পার্টির ইশতেহারে বলা হয়েছে;

শিক্ষা

মুখস্থ নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রনয়ণ করা হবে। 

পাঠ্যক্রমের প্রয়োজনীয় সংস্কার  ও শিক্ষকতা পেশার আধুনিকায়ন করা হবে।

বহুধাবিভক্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে অন্তঃভুক্তিমূলক শিক্ষায় জোর দেয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষাকে আরো কার্যকর করতে অভিভাবক সংযুক্তি এপ তৈরি করে সুনাগরিক তৈরির ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বাস্থ্য 

যুগের চাহিদা অনুযায়ী নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা চালু করা হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে সর্বাধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থপন করা হবে, যাতে সব ধরনের জরুরি চিকিৎসা সেবা এইসব সেন্টারেই পাওয়া যায়। 

এছাড়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। 

এছাড়া স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা ও সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। উপকূলীয় এলাকায় তড়িৎ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নৌ এম্বুলেন্স ও ভাসমান ফার্মেসি সার্ভিস চালু করা হবে।

গণ পরিবহন 

নগর পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে গ্রীন এন্ড রেড বাস সার্ভিস চালু করা হবে।

নিরাপদ মহাসড়ক নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নৌপথে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে খাল নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের পাশাপাশি পরিবেশ বান্ধব সবুজ যোগাযোগ ব্যবস্থার নিশ্চিত করা হবে।

আবাসন

আবাসন খাতে সামাজিক সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে \'সামাজিক আবাসন\' স্কিম নেয়া হবে।

ভাড়াটিয়া-মালিকের স্বার্থ রক্ষায় \'রেন্ট টু ওউন স্কিম\' নেয়া হবে।

কর্মসংস্থান 

কোটি কোটি বেকার যুবকের মানসম্মত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে \'কর্মসংস্থান মিশন\' চালু করা হবে।

বেকারদের রাজধানীমুখি স্রোত ঠেকাতে বিভাগীয় জব সেন্টার প্লাস স্থাপন করা হবে। 

উদ্যোক্তা তৈরির আধুনিক ব্যবস্থা হিসেবে ইউথ স্টার্টআপ ফান্ড এবং সোশাল এন্টারপ্রাইজ গ্র‍্যান্ট স্কিম গঠন করা হবে।

পরিবেশ

আরবান ইকোলজিকাল ম্যাপ তৈরি করে পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। পরিবেশ বান্ধব গণপরিবহন ও আধুনিক বর্জ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

নারী নিরাপত্তা 

সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী সমাজের সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় নারী বান্ধব নিরাপত্তা অবকাঠামো নিশ্চিত করা হবে।

পারিবারিক সহিংসতা ও ধর্ষন প্রতিরোধে আইন সংস্কার করার উদ্যোগ নেয়া হবে। নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পররাষ্ট্র নীতি

স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি প্রণয়ন করে জাতীয় মর্যাদা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

জলবায়ু ও জ্বালানি কূটনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। পেশাদার কূটনৈতিক কাঠামো জোরদার করা হবে।

পানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাসপোর্টের বৈশ্বিক মর্যাদা বাড়াতে উদ্যোগ নেয়া হবে।

দেশের ইমেজ বাড়াতে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডিং জোরদার করা হবে।

প্রতিরক্ষা

শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কৌশল প্রনয়ন করা হবে।

স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্ট চালু করা হবে যাতে সীমান্ত নিরাপত্তা ও চোরাচালান বন্ধ করা যায়। দেশ প্রতিরক্ষায়  তরুনদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে ১৮ বছরের বেশি সক্ষম যুবকদের নিয়ে তরুণ স্বেচ্ছাসেবী পার্ট টাইম ন্যাশনাল সার্ভিস চালু করা হবে।

এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন,  নারী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফারাহ নাজ সাত্তার ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শাজাহান ব্যাপারী।

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি




img

এনসিপিকে বাড়তি নারী আসন দিচ্ছে জামায়াত

প্রকাশিত :  ০৮:৫৯, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দুইজনকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সম্ভাব্য চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন

\r\n

দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাদের দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।

জোটভিত্তিক বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি ও তাদের মিত্রদের ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটকে ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত হয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসনে বিজয়ী হওয়ায় ১টি সংরক্ষিত নারী আসন পাচ্ছে। সেই সাথে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে আরও একটি দাবি করেছে তারা। এর অংশ হিসেবে জামায়াত তাদের কোটা থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং এনসিপির কোটায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিনকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে দলটি।

এনসিপির একাধিক সূত্রমতে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলের পক্ষ থেকে দুইজনকে সম্ভাব্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডা. মাহমুদা মিতু ও মনিরা শারমিন। জামায়াতের কাছে আমরা একটি অতিরিক্ত আসন চেয়েছি, তারা রাজি হয়েছে। আমরা ২০ তারিখের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেব।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থিতার ব্যাপারে দলের শীর্ষ পর্যায়ে এবং আমাদের জোটের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে, এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রার্থী হতে চেয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ এবং সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের বিষয় রয়েছে, এসব প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই আমরা প্রার্থিতার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সময় হলে দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।’

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে একটি এনসিপি পাবে। জোটের কারণে এনসিপিকে আরও একটি বাড়তি নারী আসন দেওয়া হবে। জাগপাকে একটি আসন দেওয়া হবে। এ ছাড়া জুলাই যুদ্ধে নিহত একজন শিশুর মাকে আমরা মনোনয়ন দিচ্ছি।’


জাতীয় এর আরও খবর