img

মৌলভীবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের নজরদারিতে থাকবে অতিরিক্ত সেনা

প্রকাশিত :  ০৬:৪৫, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 মৌলভীবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের নজরদারিতে থাকবে অতিরিক্ত সেনা

মৌলভীবাজার জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের নজরদারিতে অতিরিক্ত মোতায়েন থাকবে। এ জেলায় চার আসনে ৫৫৪ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২২৩ টি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কেন্দ্র বাড়তি গুরত্বের সাথে নজরদারি রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে থাকবে বডি অন ক্যামেরা। এসব কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্ণিত করে দুজন করে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানা গেছে।

জেলার চার আসনের সাত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার-১ আসনের জুড়ী উপজেলায় ৪৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ রয়েছে। এ আসনের বড়লেখা উপজেলার ৬৯ টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২০টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণও অধিক গুরুত্বপূর্ণ রয়েছে। এছাড়া মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৮টি রয়েছে।

মৌলভীবাজার-২ আসনে ১০৩ টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৪৯টি কেন্দ্র রয়েছে।

মৌলভীবাজার-৩ আসনের রাজনগর উপজেলায় ৬৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ রয়েছে। এ আসনের মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১০৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ১৯টি কেন্দ্র রয়েছে।

মৌলভীবাজার-৪ আসনের কমলগঞ্জ উপজেলায় ৭৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ২৯টি কেন্দ্র রয়েছে। এ আসনের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৮৭টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ২৩টি কেন্দ্র রয়েছে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ভোটের দিন সারা জেলায় এক হাজার ৬৪১ জন পুলিশ মাঠে থাকবেন। এছাড়া আরও অনেক রিজার্ভ পুলিশ সদস্য থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৫ জন আনসার সদস্য ও দুজন পুলিশ সদস্য থাকবেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৌচাগারে ঝুলছে তালা, ভোগান্তিতে রোগীরা

প্রকাশিত :  ১০:৪৪, ০৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪২, ০৫ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। হাসপাতালের বাইরে নির্মিত একমাত্র শৌচাগারটি ঘটা করে উদ্বোধনের কয়েক মাস পরই তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে রোগী ও স্বজনরা এটি ব্যবহার করতে পারছেন না।

এদিকে হাসপাতালের ভেতরের শৌচাগারগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। অনেকগুলোর দরজা ভাঙা, পরিবেশ নোংরা এবং তীব্র পানি সংকট রয়েছে। এসব কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা শৌচাগার ব্যবহার করতে গিয়ে মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।

সরেজমিনে বুধবার (৪ মার্চ) হাসপাতাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের বাইরে নির্মিত শৌচাগারটি দীর্ঘ দিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে আসা লোকজনের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। হাসপাতালের ভেতরে থাকা অধিকাংশ শৌচাগারই ব্যবহারের অনুপযোগী। নারী রোগীদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগারগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। অধিকাংশের দরজা

ভাঙা থাকায় এক রোগীকে অন্যজনের সহায়তা নিয়ে অথবা বাইরে লোক দাঁড় করিয়ে ভেতরে যেতে হচ্ছে। এমনকি ভিআইপি কেবিনের বাথরুমগুলোর অবস্থাও বেহাল। দীর্ঘ দিন ধরে এই অবস্থা চললেও কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সুমন মিয়া ও নুরুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাহিরের শৌচাগারটি উদ্বোধনের পর কয়েক দিন খোলা ছিল, এখন বন্ধ। ভেতরের টয়লেটে যাওয়া মানে এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করা। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর তীব্র দুর্গন্ধে সেখানে টেকা দায়। পানিও সব সময় পাওয়া যায় না। দরজার অবস্থা এতই খারাপ যে কেউ ওপাশে না দাঁড়ালে ইজ্জত থাকে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর প্রচুর চাপ। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় পুরো হাসপাতাল এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এক পাশ পরিষ্কার করলেই অন্য পাশ নোংরা হয়ে যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অপব্যবহার রোধে বাহিরের শৌচাগার তালাবদ্ধ রাখা হয়। কর্মকর্তারা যখন মনে করেন প্রয়োজন, তখনই কেবল এটি খোলা হয়। তবে সাধারণ রোগীদের জন্য কেন এটি সবসময় উন্মুক্ত নয়, সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কূপেশ রঞ্জন রায় বলেন, বাহিরের শৌচাগারগুলো প্রয়োজন সাপেক্ষে খুলে দেওয়া হয়।সবসময় খোলা রাখলে এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। চাহিদা বাড়লে আমরা এগুলো খোলার ব্যবস্থা করি। আর ভেতরের শৌচাগারগুলো নিয়মিত। রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করা হয়, তবে জনবল সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।আমরা দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।

রক্ষণাবেক্ষণের অজুহাতে সরকারি বরাদ্দে নির্মিত শৌচাগারে তালা ঝুলিয়ে রাখা এবং জনবলের অজুহাত দেখিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ জিইয়ে রাখায় স্থানীয় সচেতন মহল ও রোগীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সিলেটের খবর এর আরও খবর