img

নিজেই রাস্তায় নেমেছি, অপরাধীদের ছাড় নেই: আইজিপি

প্রকাশিত :  ০৪:৪৩, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজেই রাস্তায় নেমেছি, অপরাধীদের ছাড় নেই: আইজিপি

নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুইদিনের মাথায়ই মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা দেখিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি মধ্যরাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

\r\n

হঠাৎ এই পরিদর্শনে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন, টহল কার্যক্রম ও চেকপোস্টের কার্যকারিতা খতিয়ে দেখেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। তার এই উদ্যোগকে পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা ও জবাবদিহিতা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নতুন আইজিপি।

তিনি বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তায় আমি নিজেই রাস্তায় নেমে এসেছি। অপরাধী যেই হোক তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আইজিপি বলেন, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের তৎপরতায় সাধারণ মানুষ ভীতির মধ্যে আছেন। এ কারণে আমি নিজেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাস্তায় নেমেছি।

তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর বিশেষ ব্লক রেইড পরিচালনা করে ছিনতাইকারী থেকে শুরু করে মাদক সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ১৯৮৬ সালে এক আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার পথে জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় নিজেও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন আইজিপি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, মোহাম্মদপুর দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধপ্রবণ এলাকা, যেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি ভাঙারি ও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার বিস্তার রয়েছে।

আইজিপি আরও বলেন, রাজধানীতে ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ার পর এখন সড়কও দখলের শিকার। ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতার প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, দেশে প্রায় ২০ কোটি মানুষের বিপরীতে পুলিশের সদস্যসংখ্যা মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার, আর ঢাকা শহরেই প্রায় ৪ কোটি মানুষের বসবাস। তাই নাগরিকদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ট্রাফিক বিভাগকে পুনর্গঠনের কাজ চলছে বলেও জানান।

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি নিজেও রাতে টহলে থাকার ঘোষণা দেন। তার ভাষ্য, আমি রাস্তায় থাকলে সহকর্মীরাও আরও সক্রিয় থাকবে এবং আইন প্রয়োগে কঠোরতা বাড়বে।

আইজিপি বলেন, সাধারণ মানুষ পুলিশের পাশে রয়েছে এবং যে-ই অপরাধী হোক কঠোরভাবে দমন করা হবে। হোয়াইট-কলার অপরাধীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন না করে প্রচলিত আইনের মধ্যেই শক্তি প্রয়োগ করা হবে এবং কার্যকর পুলিশিংয়ের জন্য বাহিনীর মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। তার মতে, শুধু পোশাক বা সরঞ্জাম নয়; পুলিশকে প্রকৃত অর্থে জনসেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন আইজিপি।

এ সময় ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার ও তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



img

জয়যাত্রা ইস্যুতে ইরানকে আবারও অনুরোধ করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৬:৫১, ২১ এপ্রিল ২০২৬

তুরস্কের আনতালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

গত রোববার রাতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া ছয়টি দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় ইরানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এর জবাবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওই অঞ্চলে বর্তমান পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উভয় নেতা এ বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করবেন।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের প্রতিনিধিরা উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান চলমান সংকট নিরসনে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে কোনো মতভেদ সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এই গঠনমূলক অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তেহরান সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘বাংলার জয়যাত্রা’ এবং অপর একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছিলেন।

সেই সময় রাষ্ট্রদূত জানিয়েছিলেন, ইরানের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে বাংলাদেশের ১৩তম সংসদ অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং শোক বইয়ে স্বাক্ষর করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া ইরানে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্যোগেরও প্রশংসা করা হয় বৈঠকে।

জাতীয় এর আরও খবর