img

খামেনির অফিসে হামলা, তিনি এখন কোথায়?

প্রকাশিত :  ০৯:৩৫, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খামেনির অফিসে হামলা, তিনি এখন কোথায়?

 ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিসে হামলা চালানো হয়েছে, যার সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হচ্ছে। আজ শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে। স্থানীয়রা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং আশেপাশের এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে, হামলার পরই খামেনি নিরাপত্তার কারণে তেহরান ত্যাগ করে একটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তার বর্তমান অবস্থান সরকারিভাবে গোপন রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্র বলছে, খামেনি সর্বদা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংস্থা পর্যবেক্ষণে রাখেন, এবং হামলার মুহূর্তে তিনি মূল নিরাপদ স্থানে ছিলেন।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা করলেও কোনও সমাধানের পথ খুঁজে পায়নি। নিরাপত্তা সূত্র জানাচ্ছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় দুই পক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আলোচনার সুযোগ নেই, এবং এই পরিস্থিতিই সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ইসরায়েলি সীমান্তে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইসরায়েলের আকাশসীমা অস্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার জন্য সতর্ক থাকার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ওমানে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সংঘাত এড়ানো এবং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধান খোঁজা। তবে এখন পরিস্থিতি আরও উত্তেজক এবং সংঘর্ষ অনিবার্য বলে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তেহরান ও আশেপাশের এলাকায় হামলার প্রভাব স্পষ্ট দেখা গেছে। বিস্ফোরণের ফলে ধোঁয়া ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে, তবে কোন বড় ধরনের জনহানি বা বিস্তৃত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা বাহিনী বিস্ফোরণ এলাকা ঘিরে রেখেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

ইরান ও ইসরায়েলের এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলে সতর্কতা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থা দুই দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের হামলা শুধুমাত্র আঞ্চলিক নয়, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

বৈশ্বিক উত্তেজনার মাঝেই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেন কিম

প্রকাশিত :  ১১:৫৪, ০৫ মার্চ ২০২৬

বিশ্ব পরিস্থিতি যখন ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে, ঠিক তখনই নিজেদের সামরিক শক্তির প্রদর্শন করল উত্তর কোরিয়া। দেশটির নতুন নির্মিত একটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ থেকে সফলভাবে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এ সময় উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উন স্বশরীরে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) উত্তর কোরিয়ার পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত নাম্পো শিপইয়ার্ড থেকে ‘চো হিওন’ নামের নতুন এই ডেস্ট্রয়ার জাহাজ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, দেশটির নৌবাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত প্রায় ৫০০ টন ওজনের এই জাহাজ থেকেই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

জাহাজটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কিম জং-উন বলেন, অচিরেই তাদের নৌবাহিনী পানির নিচ থেকে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকেও আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করবে। পাশাপাশি নৌবাহিনীকে পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেটিও ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাম্প্রতিক এই সাফল্যের কথা উল্লেখ করে কিম বলেন, নৌ প্রতিরক্ষায় এ ধরনের অগ্রগতি দেশের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, যা গত পাঁচ দশকেও সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই নতুন সমরাস্ত্র প্রদর্শন অঞ্চলজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।