পেন্টাগনের সতর্কবার্তা

img

ইরান যুদ্ধ ১০ দিনের বেশি চললে ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ০৭:৩৭, ০৪ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধ ১০ দিনের বেশি চললে ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত আরও ১০ দিন স্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে পেন্টাগন।

\r\n

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চতুর্থ দিনে গড়ানোর পর পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সম্ভাব্য এই ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ফলে কেবল সমরাস্ত্রের সংকটই তৈরি হবে না, বরং ফুরিয়ে যাওয়া গোলাবারুদ পুনরায় সংগ্রহ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশাল অংকের ব্যয়ভার বহন করতে হবে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার বর্তমানে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে এবং এই মজুত দিয়ে ‘চিরকাল’ যুদ্ধ চালানো সম্ভব।

পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া তথ্যানুযায়ী, বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার সংকট সবচেয়ে প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করেছেন যে, ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে বিপুল সামরিক সহায়তা দেওয়ার ফলে আমেরিকার নিজস্ব মজুত ইতিমধ্যে বেশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। 

গত বছরের ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের থাড ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ২৫ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছিল। বর্তমান সংঘাতে ইরান যেভাবে ড্রোনের ব্যবহার করছে, তা মোকাবিলা করার জন্য যে পরিমাণ ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর প্রয়োজন, তার উৎপাদন হার অত্যন্ত ধীর। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরান মাসে প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, অথচ যুক্তরাষ্ট্র মাসে মাত্র ৬ থেকে ৭টি ইন্টারসেপ্টর তৈরি করতে সক্ষম।

যুদ্ধের আর্থিক বোঝা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে। সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির তথ্যমতে, একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনা করতে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ লাখ ডলার বা প্রায় ৫৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়। অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার খরচ করেছে। 

পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্স পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, ট্রাম্পের ইঙ্গিত অনুযায়ী যদি এই যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয়ের পরিমাণ ২১০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। গত এক বছরে কেবল ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অভিযানে ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করে ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেডিএএম বা সাধারণ বোমাকে স্মার্ট বোমায় রূপান্তর করার কিট এবং নৌবাহিনী থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টরের মজুতও বর্তমানে নিম্নমুখী। এর মূল কারণ হিসেবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং ইরানের বিরুদ্ধে বারবার সামরিক অভিযান চালানোকে দায়ী করা হচ্ছে। 

পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকার এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো মূলত রাশিয়া বা চীনের মতো শক্তির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ও তীব্র লড়াইয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু ইরানের মতো দেশগুলোর পক্ষ থেকে দীর্ঘস্থায়ী ও কম খরচের রকেট বা ড্রোন হামলা সামাল দেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থাগুলো অর্থনৈতিকভাবে বেশ ব্যয়বহুল। এই ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

img

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে সই করতে পাকিস্তান যেতে পারেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৬:৩৮, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তা স্বাক্ষরের জন্য তিনি পাকিস্তান সফর করতে পারেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

\r\n

এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি (এজেন্স ফ্রান্স-প্রেস)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছেন তেহরান তাদের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে।

বর্তমানে দেশ দুটি ইসলামাবাদে পরবর্তী আলোচনার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।

লাস ভেগাস সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করার খুব কাছাকাছি পর্যায়ে আছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হতো, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। তারা এই বিষয়ে পুরোপুরি একমত হয়েছে। তারা প্রায় সব বিষয়েই রাজি হয়েছে; তাই তারা এখন আলোচনার টেবিলে বসলে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হতে পারে।

চুক্তি সইয়ের জন্য তিনি পাকিস্তানে যাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প যোগ করেন, আমি যেতে পারি, হ্যাঁ। যদি চুক্তিটি ইসলামাবাদে সই হয়, তবে আমি হয়তো সেখানে যাব।

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিতে সহায়তা করায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত সপ্তাহে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর সফল না হলেও হোয়াইট হাউস সেখানে দ্বিতীয় দফা আলোচনার পরিকল্পনা করছে। সূত্র-এএফপি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর