img

খুলনায় শ্রমিক দল নেতাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

প্রকাশিত :  ১৭:৪৬, ০৪ মার্চ ২০২৬

খুলনায় শ্রমিক দল নেতাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

খুলনার ডাকবাংলো মোড়ে বাটার দোকানের সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গুলি করে মাসুম বিল্লাহ নামে এক শ্রমিক দল নেতাকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৪ মার্চ) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সীর ছেলে ও নৈহাটি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামালের ছোট ভাই। 

তিনি রূপসা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অশোক ঘোষ নামে এক সন্ত্রাসীকে বিদেশি পিস্তলসহ পুলিশ আটক করেছে। 

হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চত করেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, রাত ৯টার দিকে নগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড়ে মাসুম বিল্লাহ অবস্থানকালে ৫-৬ জন দুর্বৃত্ত তার ওপর গুলি চালায়। গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তার ডান পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয় জনতা ও পুলিশ অশোক ঘোষ নামে একজন বিদেশি পিস্তলসহ আটক করতে সক্ষম হয়। তাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

এদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাসুম বিল্লাহকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল নগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আটক অশোক ঘোষ পুলিশের তালিকাভুক্ত গ্রেনেড বাবু গ্রুপের সদস্য। কি কারণে মাসুম বিল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে তা উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, নিহত মাসুম বিল্লাহর বড়ভাই রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শীর্ষ সন্ত্রাসী মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল ২০২০ সালের ৩০ জুলাই র‍‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন।


 

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

মায়ের মৃত্যুতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ

প্রকাশিত :  ১০:৪৭, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মায়ের মৃত্যুর কারণে কারাবন্দী সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এ আদেশ দেন। এর আগে প্যারোলে মুক্তির জন্য চিন্ময়ের পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল।

আজ সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রানী ধর (৭২) মারা যান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তাঁর প্যারোল আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। তাঁকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোল দেওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। আদেশটি হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে।

২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ওই মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।

বাংলাদেশ এর আরও খবর