img

মরিয়মের রেখে যাওয়া শেষ চিঠিগুলোতে কী লেখা ছিল?

প্রকাশিত :  ০৫:৫৭, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মরিয়মের রেখে যাওয়া শেষ চিঠিগুলোতে কী লেখা ছিল?

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সরকারি বাসা থেকে তাঁর স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের হাতে লেখা কয়েকটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। চিঠিগুলোতে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, প্রতারণার অভিযোগ এবং তীব্র মানসিক যন্ত্রণার কথা উঠে এসেছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ এসব চিঠি ও ডায়েরির পাতা উদ্ধার করে। চিঠিতে মরিয়ম নিজেকে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার বেদনার কথা লেখেন।

একটি চিঠিতে লেখা, শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই...., তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই...। আরেকটি চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’

সাধারণ একটি পাতায় নিজের অবস্থান ও ভালোবাসার টানাপোড়েনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে লেখা- সে ছিল অন্য নারীর স্বামী-কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউয়ের। আর আমি ছিলাম বোকা...!!! অন্য কারও স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ...!!! কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ... ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়... ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!

বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারিত হওয়ার অনুভূতিও প্রকাশ করা হয়েছে একটি পাতায়। সেখানে লেখা হয়েছে-‘সে বলেছিল- আজ থেকে আমরা বন্ধু--চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো— আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি।’

জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা অন্য একটি পাতায় ক্ষোভ ও পরিণতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আমি হেরেছি--- তুমি জিতেছো-- কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি, শৃঙ্গের শেষ বাড়িয়ে ও হাসতে হাসতে মুখে হাসি রেখেছি-- দেখে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানায় পুলিশ। তবে চিঠিগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


img

২য় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার: গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ

প্রকাশিত :  ০৭:৪৯, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম খাতুনের (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। রোববার গভীর রাতে মরিয়ামের বাবা মাছুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও মরিয়ামের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন জাতীয় সংসদ সদস্যদের আবাসিক ভবন (ন্যাম ভবন) থেকে মরিয়ামের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে খবর পেয়ে তারা ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে যায়। রাত ১০টার দিকে একটি কক্ষের দরজা ভেঙে মরিয়ামের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরিয়ামের লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বাসায় ছিলেন। কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত হতে তাকে ও তার প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা বেগমকে হেফাজতে নেয়। পরে মরিয়ামের বাবার করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মরিয়ামের মামা ওবায়দুর রহমান মামলার তৃতীয় আসামি।

মরিয়ামের মৃত্যুর আগে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়। গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুক পোস্টে মরিয়ামকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের সম্মতিতে মরিয়ামকে বিয়ে করেন।

ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও মরিয়ামের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ করেছিলেন। অন্যদিকে ওবায়দুর রহমান গত ২১ জুলাই পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন।

ভিডিওকাণ্ডের পর ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রোববার ওই হত্যাচেষ্টা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে পাওয়া জামিনের জামিননামা ঢাকার আদালতে দাখিল করেছিলেন গাজী নজরুল ইসলাম। এর কয়েক ঘণ্টা পর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ামের লাশ উদ্ধার করা হয়।


বাংলাদেশ এর আরও খবর