img

অপ্রতিম হত্যার দিন তুহিনের গতিবিধি কেমন ছিল, জানালেন মা

প্রকাশিত :  ১০:১৮, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপ্রতিম হত্যার দিন তুহিনের গতিবিধি কেমন ছিল, জানালেন মা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত তুহিন হোসেনের ঘরের বিছানার নিচ থেকে নিহতের মায়ের খোয়া যাওয়া আইফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিকে ঘটনার দিন তুহিনের গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন তার মা। তার ভাষ্য, শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তুহিন কয়েক দফায় বাসা থেকে বের হয়ে আবার ফিরে আসে।

অভিযান ও পারিবারিক বিবরণ অনুযায়ী, সাদা পোশাকের একদল পুলিশ সদস্য তুহিনকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যান। এ সময় তুহিনের শয়নকক্ষের বিছানার নিচে লুকানো একটি কালো শপিং ব্যাগের ভেতর থেকে অপ্রতিমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

ছেলের গতিবিধি সম্পর্কে তুহিনের মা জানান, গত শুক্রবার জুমার নামাজ ও দুপুরের খাবার শেষে তুহিন বাড়ি থেকে বের হয়। বিকেলে একবার ঘরে ফিরে এলেও সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পর সে আবারও বাইরে চলে যায়। এরপর রাত ৯টার দিকে ফিরে এসে রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়ে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজের দিন শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত গন্ধমতী এলাকায় অপ্রতিমের মুঠোফোনের সর্বশেষ সক্রিয় অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল, যার পরই ডিভাইসটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখতে পায় পুলিশ। পরবর্তীতে তুহিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদসহ আরও দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জানিয়েছেন, উদ্ধার করা আলামত, মুঠোফোনের কল রেকর্ড ও সিসিটিভি ফুটেজের পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সংগৃহীত সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ও পরিকল্পনায় কারা যুক্ত ছিল, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

নিহত কিশোর অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান। গত শুক্রবার বিকেলে বাসা থেকে মায়ের ফোন নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ১২ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

img

অপ্রতিম হত্যার পেছনে আরও যেসব কারণ জানালেন তদন্তকারীরা

প্রকাশিত :  ০৯:৫৬, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে কুমিল্লার কোটবাড়ী-সালমানপুর এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। এ ঘটনায় মাদক সিন্ডিকেট ও কিশোর গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আইফোন ছিনতাই এবং অপ্রতীমের মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ কোনো চক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, সেটিও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নিখোঁজের ঘটনার পর আমরা ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অপ্রতীম বাসা থেকে বের হওয়ার পর তুহিনের সঙ্গে দেখা করে। অপ্রতীমের মুঠোফোনেও তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডে তুহিনের সংশ্লিষ্টতা এখনো তদন্তাধীন।

তিনি বলেন, তদন্তে আমরা যেটা জানতে পেরেছি, শুধুমাত্র আইফোনের জন্যই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়নি। তারা একসঙ্গে চলাফেরা করত। তাদের মধ্যে পূর্বের কিছুটা বিরোধ ছিল। ওইসব বিষয় নিয়ে সেদিন অপ্রতীমকে তুহিন ডাকে। এরপরই হত্যার ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য ও আলামতে অপ্রতিমকে ওই আইফোনের জন্যই হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে—এমন বিষয় অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। তবে হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এর আগে অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছিল। একটি ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অপ্রতিমের সঙ্গে এক কিশোরকে দেখা যায়। ওই কিশোরের বয়স অপ্রতিমের চেয়ে বেশি ছিল এবং তার মাথায় ক্যাপ ছিল। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তার গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। 

ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজেও অপ্রতিমকে নিয়ে যেতে দেখা গেছে ওই কিশোরকে।

পরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ওই কিশোরের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ওই কিশোরের বাড়িতেও যায় লাশ উদ্ধারের আগে। এরপর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলে শনিবার দুপুরে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর কোটবাড়ি এলাকা থেকে ওই কিশোরকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাত ৮টার দিকে সালমানপুর এলাকায় তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। অনুসন্ধানে তুহিনের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ও তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে থানায় মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছিল।

জানা গেছে, মো. তুহিনের বাড়ি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে তাকে আটক করে পুলিশ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টাকা ও মোটরসাইকেল আত্মসাৎ, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে মো. তুহিন হোসেনের বিরুদ্ধে। একটি অভিযোগপত্রে দেখা যায়, গত বছরের ২৬ এপ্রিল সদর দক্ষিণ মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সোহাগের পূর্বপরিচিত ছিলেন তুহিন। গত ২৭ মার্চ সোহাগ কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার সিটি বাইক থেকে দুই লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি সুজুকি মোটরসাইকেল কেনেন। পরে তুহিন মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন সোহাগ।

বাংলাদেশ এর আরও খবর