img

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে নারাজ জাপান

প্রকাশিত :  ০৬:০৪, ১৫ মার্চ ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে নারাজ জাপান

কৌশলগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে জাপান। দেশটির ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নীতি নির্ধারণী প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি এই পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি বাধাকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপানসহ বিভিন্ন দেশকে তাদের নিজস্ব ট্যাঙ্কারগুলোর পাহারায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানোর পর জাপানের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া এল। জাপানের পাবলিক ব্রডকাস্টার এনএইচকে-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোবায়াশি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে নৌবাহিনী পাঠানো জাপানের জন্য অত্যন্ত কঠিন একটি সিদ্ধান্ত।

কোবায়াশি বলেন, বিদ্যমান জাপানি আইন অনুযায়ী ওই অঞ্চলে নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর শর্ত বা মানদণ্ড অত্যন্ত কঠোর। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে আইনিভাবে এই সম্ভাবনাকে একেবারে নাকচ করে দেওয়া না গেলেও চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নিয়ে চরম সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

মূলত জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান এবং বিদ্যমান সামরিক সীমাবদ্ধতার কারণে সরাসরি কোনো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা টোকিওর জন্য রাজনৈতিক ও আইনিভাবে বেশ জটিল। ফলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জোরালো আহ্বান থাকলেও, সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের পরিবর্তে জাপান এখন পর্যন্ত অত্যন্ত রক্ষণশীল ও সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থানেই অনড় রয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা।


img

সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, যুদ্ধের চিরস্থায়ী অবসান চায় ইরান

প্রকাশিত :  ১২:১৩, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ জানিয়েছেন, ইরান কোনো ধরনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করবে না। আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম–এর এক পার্শ্ব বৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তেহরান বর্তমানে সমগ্র অঞ্চলজুড়ে চলমান যুদ্ধের একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ অবসান চায়।

উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাতিবজাদেহ জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন থেকে শুরু করে লোহিত সাগর পর্যন্ত সমস্ত সংঘাতপূর্ণ এলাকা অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। ইরানের কাছে এটি একটি ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় শর্ত। 

তিনি আরও যোগ করেন, ইরান কোনো খণ্ডিত বা সাময়িক সমাধানে বিশ্বাসী নয় এবং এই সংঘাতের চক্র এখনই চিরতরে বন্ধ হওয়া উচিত।

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও অবস্থান প্রসঙ্গে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই জলপথটি ঐতিহাসিকভাবেই উন্মুক্ত ছিল। যদিও এটি ইরানের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত, তবুও দীর্ঘকাল ধরে এটি আন্তর্জাতিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড এই অঞ্চলে অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। খাতিবজাদেহর মতে, এই দুই দেশের নেতিবাচক তৎপরতা বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

সূত্র: আলজাজিরা।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর