img

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরানের প্রত্যাখ্যান

প্রকাশিত :  ১১:৫৯, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরানের প্রত্যাখ্যান

চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

নাম প্রকাশ না করা একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একটি মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ইরানকে দুই দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়, যার জবাবে তেহরান তাদের হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।

তবে সেই প্রস্তাব বা এর সত্যতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা নিশ্চিত করার তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী যখন ক্রমাগত উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, তখনই এ প্রস্তাব সামনে আসে। বিশেষ করে কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে একটি মার্কিন সামরিক গুদামে হামলার পর যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো হয়েছে। ইরান এই প্রস্তাবের কোনো লিখিত জবাব দেয়নি, বরং হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে মাঠেই এর পাল্টা জবাব দিয়েছে।

এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য ওয়াশিংটন ইরানের নতুন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে। তাদেরকে তিনি আরও বিচক্ষণ বলে অভিহিত করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন নেতার দাবি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্লেখ করেছে যে, তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি মীমাংসা প্রস্তাব পেয়েছিল, যা ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রমাণিত হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি আল-জাজিরাকে বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের ১৫-দফা প্রস্তাবে কোনো সাড়া দেয়নি। তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আরাঘটি চলমান যোগাযোগকে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পরিবর্তে বার্তা বিনিময় হিসেবেই আখ্যা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তেহরান ‘যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে না’ এবং ‘এই অঞ্চলে যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান’ চায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন। জবাবে ইরানও ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।



আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরান যুদ্ধ : যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

প্রকাশিত :  ১০:২৭, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এর প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি গ্যাস ও পেট্রোলজাত গ্যাসোলিনের দাম বেড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন (৩ দশমিক ৭৮ লিটার) গ্যাস-গ্যাসোলিনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৮ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাস-গ্যাসোলিনের এই দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে দেশটিতে গ্যাসের দাম ৪ ডলারের বেশি উঠেছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর। সেবার প্রতি গ্যালন গ্যাস বিক্রি হয়েছিল ৪ দশমিক ১৫ ডলারে।

এক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাস-গ্যাসোলিন বিক্রি হয়েছে ৩ দশমকি ১৫ ডলারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যে অবশ্য গ্যাসের দাম সমান নয়। যেসব রাজ্যে তেল কিংবা গ্যাসের খনি আছে, যেমন টেক্সাস— সেসব রাজ্যে প্রতি গ্যালন গ্যাস বা গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৭৮ ডলার। আবার যেসব রাজ্যে খনি নেই— যেমন ক্যালিফোর্নিয়া— সেসব রাজ্যে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিন ৫ দশমিক ৯৬ ডলারেও বিক্রি হচ্ছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান। বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত; কিন্তু ইরানি অবরোধের জেরে বর্তমানে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে গড়ে ৮ থেকে ১০টি জাহাজ।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান, গাল্ফ নিউজ

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর