img

আজ রাতে চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে ইরানি সভ্যতা: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৪:৫৮, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:০১, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

আজ রাতে চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে ইরানি সভ্যতা: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির সব শর্ত কিংবা দাবি মেনে নেওয়া না হলে ইরানে আজকেই একটি আস্ত সভ্যতা বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি সতর্ক করে বলেন, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে একটি পুরো সভ্যতা চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে, যা হয়তো আর কখনোই ফিরে আসবে না।

ট্রাম্প তার বার্তায় উল্লেখ করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এমন ধ্বংসাত্মক কিছু ঘটুক তা চান না, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি ঘটার সম্ভাবনাই প্রবল। তবে এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই তিনি এক নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। 

ট্রাম্পের দাবি, সেখানে এখন একটি 'সম্পূর্ণ এবং আমূল শাসন পরিবর্তন' ঘটেছে, যেখানে আগের তুলনায় ভিন্ন এবং তুলনামূলক কম কট্টরপন্থী মানসিকতার নেতারা প্রাধান্য পাচ্ছেন। এই পরিবর্তনের ফলে 'বিপ্লবী ও চমৎকার' কিছু ঘটার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসে আজকের রাতটিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, গত ৪৭ বছরের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং মৃত্যুর রাজনীতির অবসান ঘটতে চলেছে আজ রাতে। 

পোস্টের শেষে তিনি ইরানের সাধারণ মানুষের মঙ্গল কামনা করে 'গড ব্লেস দ্য গ্রেট পিপল অফ ইরান' লিখে তার বার্তাটি শেষ করেন। পুরো বিশ্ব এখন এক চরম অনিশ্চয়তা আর উৎকণ্ঠা নিয়ে ট্রাম্পের এই হুমকির পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছে।

সূত্র: আলজাজিরা।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন ‘অকার্যকর’

প্রকাশিত :  ১০:০২, ১০ এপ্রিল ২০২৬

সাম্প্রতিক ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত অন্তত এক ডজন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানের পাল্টা হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক একদল বিশেষজ্ঞ গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই ঘাঁটিগুলোর বর্তমান অবস্থা এতটাই নাজুক যে এগুলো এখন উপকারের চেয়ে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ‘প্রজেক্ট অন মিডল ইস্ট পলিটিক্যাল সায়েন্স’-এর পরিচালক মার্ক লিঞ্চ জানান, গত এক মাসে ইরান কার্যত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের ভৌত কাঠামোকে অকেজো করে দিয়েছে। গত মাসে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনেও এই ঘাঁটিগুলোকে ‘বসবাসের অনুপযোগী’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল, যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির এই বিশালত্বের কথা স্বীকার করেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরটি বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং সেখান থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রায় ৯ হাজার সামরিক কর্মকর্তার আবাসস্থল এই নৌঘাঁটিটি ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলগত অবস্থান ধসে পড়েছে।

লিঞ্চের মতে, বাহরাইনে পুনরায় পঞ্চম নৌবহর ফিরিয়ে আনা এখন প্রায় অসম্ভব এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে চিরাচরিত প্রভাব ছিল, তার বিকল্প কোনো পথ এখন ওয়াশিংটনের সামনে নেই। উল্লেখ্য যে, এই অঞ্চলে বাহরাইন, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশে মোট ১৯টি ঘোষিত মার্কিন সামরিক সাইট রয়েছে, যেখানে প্রায় ৫০ হাজার সৈন্য মোতায়েন ছিল।

১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর তেলের বিনিময়ে নিরাপত্তার যে লেনদেন ভিত্তিক সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে গড়ে উঠেছিল, বর্তমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তা বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট স্টাডিজের সহযোগী পরিচালক শানা আর মার্শাল জানান, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা বা ইসরায়েলের সাথে স্বাভাবিক সম্পর্কের প্রচার চালানো এখন উপকারের চেয়ে দায় হিসেবে বেশি দেখা দিচ্ছে।

ইরানের হামলায় এই দেশগুলোর জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিমানবন্দর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়া প্রমাণ করে যে, আমেরিকার ‘নিরাপত্তা ছাতা’ এখন আর কার্যকর নয়। এর আগে ১৯৯৬ সালে সৌদি আরবের খোবার টাওয়ারে হামলা এবং ওসামা বিন লাদেনের ক্ষোভের মূলে এই মার্কিন ঘাঁটির উপস্থিতিই প্রধান কারণ ছিল।

এদিকে কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্র্যাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি মনে করেন, চলতি সপ্তাহে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনার ওপর ইরানের হামলা বন্ধের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। এই বিষয়টি দেশগুলোকে আশাহত করেছে এবং তারা নিজেদের বঞ্চিত বোধ করছে। 

পার্সি ব্যাখ্যা করেছেন, এই ঘাঁটিগুলো ইরানের হামলা ঠেকাতে সক্ষম হয়নি বরং সেগুলো নিজেরাই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা এখন ভেঙে পড়েছে এবং এর বিকল্প হিসেবে কিছু দেশ ইরানের সাথে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে ইসরায়েলের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। আব্রাহাম অ্যাকর্ডের মতো কোনো মার্কিন ছাড় ছাড়াই দেশগুলো এখন নিজেদের টিকে থাকার স্বার্থে নতুন কোনো আঞ্চলিক জোটের কথা ভাবতে পারে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই