img

হরমুজ নিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবে চীন-রাশিয়ার ভেটো, ইরানের প্রতি সমর্থন

প্রকাশিত :  ২০:২৭, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ নিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবে চীন-রাশিয়ার ভেটো, ইরানের প্রতি সমর্থন

জাতিসংঘে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ঘিরে আনা একটি প্রস্তাব ভেটো দিয়েছে চীন ও রাশিয়া। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের আহ্বান জানানো ওই প্রস্তাবটি পাস হয়নি। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিলেও দুই স্থায়ী সদস্যের আপত্তির কারণে তা সরাসরি বাতিল হয়ে যায়।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মস্কো ও বেইজিং পুনরায় স্পষ্ট করল যে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তারা তেহরানের পাশেই থাকছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ৯টি ভোট নিশ্চিত হলেও রাশিয়া ও চীনের বিশেষ ক্ষমতা বা ‘ভেটো’ প্রয়োগের ফলে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এই ভোটাভুটিতে পাকিস্তান ও কলম্বিয়া ভোটদান থেকে বিরত ছিল। মূলত ইরানকে অতিরিক্ত দোষারোপ করার অজুহাতে দেশ দুটি এই কঠোর অবস্থান নেয়।

এর আগে রাশিয়া ও চীনের তীব্র বিরোধিতার মুখে প্রস্তাবটিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। প্রাথমিক খসড়ায় ‘অনুচ্ছেদ ৭’ ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বৈধতা পেত সদস্য রাষ্ট্রগুলো। তবে দুই পরাশক্তির আপত্তির মুখে সংশোধিত প্রস্তাবে সরাসরি শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে রক্ষণাত্মক সমন্বয়ের কথা বলা হয়।

কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হয়েছিল যে, প্রস্তাবের ভাষা নমনীয় করায় রাশিয়া ও চীন হয়তো ভোটদান থেকে বিরত থাকবে। এতে করে প্রস্তাবটি পাসের একটি পথ তৈরি হতো। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দেশ দুটির সরাসরি বিরোধিতায় সেই সম্ভাবনা ভেস্তে যায়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ইরান ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার গভীর ফাটল ও বিভক্তি আবারও বিশ্ববাসীর সামনে প্রকট হয়ে উঠল।

এই ভেটো প্রদানের মাধ্যমে রাশিয়া ও চীন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের শক্তিশালী মিত্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করল। একই সঙ্গে এর ফলে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে জাতিসংঘের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেল। এখন এই সংকটের সমাধান কোন পথে আসবে, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরান যুদ্ধ : যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

প্রকাশিত :  ১০:২৭, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এর প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি গ্যাস ও পেট্রোলজাত গ্যাসোলিনের দাম বেড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন (৩ দশমিক ৭৮ লিটার) গ্যাস-গ্যাসোলিনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৮ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাস-গ্যাসোলিনের এই দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে দেশটিতে গ্যাসের দাম ৪ ডলারের বেশি উঠেছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর। সেবার প্রতি গ্যালন গ্যাস বিক্রি হয়েছিল ৪ দশমিক ১৫ ডলারে।

এক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাস-গ্যাসোলিন বিক্রি হয়েছে ৩ দশমকি ১৫ ডলারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যে অবশ্য গ্যাসের দাম সমান নয়। যেসব রাজ্যে তেল কিংবা গ্যাসের খনি আছে, যেমন টেক্সাস— সেসব রাজ্যে প্রতি গ্যালন গ্যাস বা গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৭৮ ডলার। আবার যেসব রাজ্যে খনি নেই— যেমন ক্যালিফোর্নিয়া— সেসব রাজ্যে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিন ৫ দশমিক ৯৬ ডলারেও বিক্রি হচ্ছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান। বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত; কিন্তু ইরানি অবরোধের জেরে বর্তমানে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে গড়ে ৮ থেকে ১০টি জাহাজ।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান, গাল্ফ নিউজ

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর