img

ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করার ডাক যুক্তরাষ্ট্রে

প্রকাশিত :  ০৫:১২, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:১৮, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করার ডাক যুক্তরাষ্ট্রে

মার্কিন কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ আবারও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিশংসনের দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ‘কিছুই পরিবর্তন করেনি’।

ট্রাম্প গতকাল ইরানকে বেধে দেওয়া ডেডলাইনের শেষ মুহূর্তে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছিলেন, ‘একটি সভ্যতা আজ পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে যাবে।’ যার পর তিনি বৈশ্বিকভাবে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ/ফাইল ছবি

তবে তার আগে থেকেই ট্রাম্প তার দেশে অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। তার কারণ ট্রিলিয়ন-ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে তিনি এই যুদ্ধে লড়ছেন, যার প্রভাব দেশটির অর্থনীতিতেও পড়েছে। 

তার ওপর তার কর্তৃত্ববাদী শাসন আর বিভিন্ন বিতর্কিত আইন প্রণয়নও দেশটির মানুষকে তার বিরুদ্ধে যাওয়ার পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করছিল। যার ফলে তার বিরুদ্ধে গত মাসে ‘নো কিংস’ আন্দোলনও হয়েছিল, যে আন্দোলনে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন প্রায় ৮০ লাখ মানুষ। এত জনসমাগম যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো আন্দোলনই দেখাতে পারেনি বলে দাবি করেছিলেন আয়োজকরা। 

ডেমোক্র্যাট নেত্রী আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ সেই ট্রাম্পবিরোধী মনোভাবটাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছেন। তিনি এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং সেই হুমকিকে এখনও কাজে লাগাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আর বিশ্বকে এবং আমাদের দেশের মঙ্গলকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না।’

আলেক্সান্দ্রিয়া সরাসরি তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তার মন্ত্রিসভা হোক বা কংগ্রেস, প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। আমরা বিপদের কিনারায় চলে এসেছি।’

এর আগে ডজনখানেক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুমকির কারণে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি তুলেছিলেন। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরেও তাদের অনেকে জানিয়েছেন, তাদের অবস্থান একটুও বদলায়নি।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরান যুদ্ধ : যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

প্রকাশিত :  ১০:২৭, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এর প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি গ্যাস ও পেট্রোলজাত গ্যাসোলিনের দাম বেড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন (৩ দশমিক ৭৮ লিটার) গ্যাস-গ্যাসোলিনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৮ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাস-গ্যাসোলিনের এই দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে দেশটিতে গ্যাসের দাম ৪ ডলারের বেশি উঠেছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর। সেবার প্রতি গ্যালন গ্যাস বিক্রি হয়েছিল ৪ দশমিক ১৫ ডলারে।

এক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাস-গ্যাসোলিন বিক্রি হয়েছে ৩ দশমকি ১৫ ডলারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যে অবশ্য গ্যাসের দাম সমান নয়। যেসব রাজ্যে তেল কিংবা গ্যাসের খনি আছে, যেমন টেক্সাস— সেসব রাজ্যে প্রতি গ্যালন গ্যাস বা গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৭৮ ডলার। আবার যেসব রাজ্যে খনি নেই— যেমন ক্যালিফোর্নিয়া— সেসব রাজ্যে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিন ৫ দশমিক ৯৬ ডলারেও বিক্রি হচ্ছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান। বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত; কিন্তু ইরানি অবরোধের জেরে বর্তমানে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে গড়ে ৮ থেকে ১০টি জাহাজ।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান, গাল্ফ নিউজ

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর